দেশে আজ থেকে টিকাদান

দেশে আজ থেকে টিকাদান

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশে আজ বুধবার থেকে টিকাদান প্রক্রিয়া শুরু হচ্ছে। গতকাল মঙ্গলবার দুপুরে ঔষধ প্রশাসন টিকা ব্যবহারের উপযোগিতা সনদ দিয়েছে। এর ফলে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে দেশে আসা ৫০ লাখ টিকা প্রয়োগে আর কোনো বাধা থাকল না। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয়, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, মুগদা মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল ও বাংলাদেশ-কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালেও করোনার টিকাদানে প্রস্তুতি নিতে দেখা গেছে। গতকাল মঙ্গলবার এক সংবাদ সম্মেলনে অধিদপ্তরের মহাপরিচালক মেজর জেনারেল মাহবুবুর রহমান সাংবাদিকদের এসব কথা জানান।
দেশব্যাপী ব্যাপক টিকাদান কর্মসূচি আগামী ৭ ফেব্রুয়ারি শুরু হবে বলে জানিয়েছেন স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক। গতকাল মঙ্গলবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে আয়োজিত এক অনুষ্ঠানে স্বাস্থ্যমন্ত্রী এ কথা বলেন। কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে গিয়ে দেখা যায়, সেখানে বুধবারের টিকাদান কর্মসূচি উদ্বোধনের জোর প্রস্তুতি চলছে।
আজ বুধবার রাজধানীর কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালে এই টিকা দিয়েই বাংলাদেশে শুরু হবে কোভিড-১৯-এর টিকাদান প্রক্রিয়া। বুধবার বেলা সাড়ে তিনটায় এই হাসপাতালে করোনার টিকাদানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা ভার্চ্যুয়ালি যুক্ত হবেন। আগামীকাল বৃহস্পতিবার দেশের পাঁচটি হাসপাতালে (কুর্মিটোলাসহ) সম্মুখসারির স্বাস্থ্যকর্মীদের টিকা দেওয়া হবে।
গত সোমবার এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইটে ভারত থেকে ৫০ লাখ টিকা বাংলাদেশে পৌঁছায়। অক্সফোর্ড ও অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি কোভিড-১৯-এর এই ভ্যাকসিন উৎপাদন করছে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট। এই ভ্যাকসিনের নাম দেওয়া হয়েছে ‘কোভিশিল্ড’। এর আগে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে কোভিশিল্ডের ২০ লাখ ডোজ পেয়েছে বাংলাদেশ।
এদিকে ভারতের সেরাম ইনস্টিটিউট থেকে প্রথম চালানে আসা অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার ৫০ লাখ টিকা মানবদেহে প্রয়োগের অনুমতি দিয়েছে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তর। মহাখালীতে ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের সম্মেলনকক্ষে আয়োজিত ওই সংবাদ সম্মেলনে তিনি বলেন, “টিকার প্রতিটি লটের নমুনা পুঙ্খানুপুঙ্খভাবে পরীক্ষা করা হয়েছে। আজ বুধবার এই টিকা দিয়েই শুরু হবে করোনাভাইরাসের টিকাদান।” এয়ার ইন্ডিয়ার একটি বিশেষ ফ্লাইট টিকার ওই চালান নিয়ে সোমবার ঢাকা পৌঁছায়। পরে তা নিয়ে যাওয়া হয় টঙ্গীতে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের ওয়্যারহাউজে। সেখান থেকে প্রতিটি লটের নমুনা পরীক্ষার জন্য ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরে পাঠানো হয়েছিল। বাংলাদেশে সেরাম ইনস্টিটিউটের ‘এক্সক্লুসিভ ডিস্ট্রিবিউটর’হিসেবে বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালস সরকারকে এই টিকা সরবরাহ করছে। ঔষধ প্রশাসন অধিদপ্তরের অনুমতি পাওয়ায় বেক্সিমকো এখন সরকারের নির্দেশনা অনুযায়ী জেলায় জেলায় টিকা পৌঁছে দেবে।
অধিদপ্তরের মহাপরিচালক বলেন, “এই ভ্যাকসিন অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার তৈরি। যুক্তরাজ্যের সর্বোচ্চ সংস্থা এই টিকা ব্যবহারের অনুমোদন দিয়েছে এবং সেদেশে এটি প্রয়োগ করা হচ্ছে। ভারতের সেরাম ইন্সটিটিউট বিশ্বস্বাস্থ্য সংস্থার মানদ- অনুযায়ী বিশ্বামানের টিকা উৎপাদনকারী প্রতিষ্ঠান। গত ১৬ জানুয়ারি থেকে ভারতে এই ভ্যাকসিন প্রয়োগ করছে। ভারতের সেই সব কাগজও পরীক্ষা করা হয়েছে।”
করোনাভাইরাস মহামারীর এক বছর পেরিয়ে যাওয়ার পর আশা হয়ে এসেছে টিকা। অক্সফোর্ড-অ্যাস্ট্রাজেনেকার টিকা কোভিশিল্ড সেরাম ইনস্টিটিউটেও তৈরি হচ্ছে। এই টিকার তিন কোটি ডোজ কিনতে গত ৫ নভেম্বর সেরাম ইনস্টিটিউট অব ইন্ডিয়া ও বেক্সিমকো ফার্মাসিউটিক্যালসের সঙ্গে চুক্তি করে বাংলাদেশ সরকার। চুক্তি অনুযায়ী, প্রতি মাসে টিকার ৫০ লাখ ডোজ পাঠানোর কথা সেরাম ইনস্টিটিউটের। এর আগে ভারত সরকারের কাছ থেকে উপহার হিসেবে একই টিকার ২০ লাখ ডোজ পাওয়ার পর সরকার ২৭ জানুয়ারি থেকে টিকা প্রয়োগ শুরুর সিদ্ধান্ত নিয়েছে। ২৭ ও ২৮ জানুয়ারি ঢাকায় ৪০০ থেকে ৫০০ জনের মধ্যে পরীক্ষামূলক টিকা প্রয়োগ হবে। তারপর ৮ ফেব্রুয়ারি টিকাদান শুরু হবে সারাদেশে।

Please follow and like us: