বুধ. ফেব্রু ১৯, ২০২০

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশবাসীকে উৎসাহিত করেছে: টিআইবি

দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশবাসীকে উৎসাহিত করেছে: টিআইবি

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযান দেশবাসীকে উৎসাহিত ও আন্দোলিত করেছে। এ মন্তব্য করেছেন ট্রান্সপারেন্সি ইন্টারন্যাশনাল বাংলাদেশের (টিআইবি) নির্বাহী পরিচালক ইফতেখারুজ্জামান। তিনি বলেছেন, ‘দেশে দুর্নীতির বিরুদ্ধে এবার প্রথমবারের মতো আমরা দেখেছি, প্রধানমন্ত্রী বলেছেন, চলমান দুর্নীতিবিরোধী অভিযানে “কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না”, শূন্য সহনশীল নীতি ও ঘরের অভ্যন্তর থেকে শুরু করতে হবে। এর মানে, দুর্নীতি নিয়ন্ত্রণের পূর্বশর্তগুলোর রাজনৈতিক অঙ্গীকার পাওয়া গিয়েছে। তবে দেশবাসী এর সুফল দেখতে চায়।
আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস উপলক্ষে মানববন্ধনে এসব কথা বলেন ইফতেখারুজ্জামান। গতকাল রোববার বেলা তিনটার দিকে রাজধানীর মানিক মিয়া অ্যাভিনিউয়ে এ মানববন্ধন হয়।
ইফতেখারুজ্জামান বলেন, ‘৯ ডিসেম্বর আন্তর্জাতিক দুর্নীতিবিরোধী দিবস। তবে আমাদের জন্য প্রতিটা দিবসই দুর্নীতির বিরুদ্ধে। আমরা সব সময় দুর্নীতির বিরুদ্ধে সোচ্চার থাকতে চাই। এ লক্ষ্যে আমরা যারা দুর্নীতির বিরুদ্ধে কাজ করি, তাদের জন্য সরকারের দায়িত্ব উপযুক্ত পরিবেশ তৈরি করা।’
টিআইবির নির্বাহী পরিচালক বলেন, ‘মানুষের বাক্স্বাধীনতা যাতে খর্ব না হয়, গণমাধ্যমের মতপ্রকাশের স্বাধীনতা যাতে খর্ব না হয়, সেই পরিবেশ সৃষ্টি করা সরকারের দায়িত্ব। সরকারের কাছে আমাদের আহ্বান, সাম্প্রতিক কালে যেসব নিবর্তনমূলক আইন হয়েছে, যার মাধ্যমে নাগরিক সমাজের কণ্ঠ রোধ করা থেকে শুরু করে, বিশেষ করে গণমাধ্যমের কণ্ঠ রোধ করার পরিবেশ সৃষ্টি হয়েছে, সেগুলোকে পরিবর্তন, সংস্কার করতে হবে, সংশি¬ষ্ট অংশীজনদের সম্পৃক্ত করে আইনের সংস্কার করে উপযুক্ত পরিবেশ করতে হবে। এটা রাষ্ট্রের, সাংবিধানিক ও আন্তর্জাতিকভাবে প্রদত্ত অঙ্গীকার। সেই অঙ্গীকার থেকে পিছপা হওয়া কোনো অবস্থাতেই গ্রহণযোগ্য হবে না।’
প্রায় ৪০ মিনিট ধরে এই মানববন্ধন হয়। এতে টিআইবির কর্মকর্তা ও টিআইবির স্বেচ্ছাসেবী সংগঠন ইয়েসের সদস্যরা অংশ নেন।
মানববন্ধনে টিআইবির পক্ষ থেকে একটি ধারণাপত্র দেওয়া হয়। সেখানে বলা হয়, শিক্ষাঙ্গন থেকে শুরু করে রাষ্ট্রের প্রতিটি গুরুত্বপূর্ণ প্রতিষ্ঠান দুর্নীতি নামক ভয়াবহ ব্যাধিতে আক্রান্ত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে পরীক্ষা ছাড়া ভর্তির অভিযোগ ও জাহাঙ্গীরনগরসহ বিভিন্ন বিশ্ববিদ্যালয়ের দলীয় রাজনৈতিক প্রভাবপুষ্ট কর্তৃপক্ষের পৃষ্ঠপোষকতায় দুর্নীতি ও অনিয়মের ভয়াবহ অভিযোগ উঠেছে।
বাংলাদেশের আর্থিক খাত এত ক্রান্তিকাল অতিক্রম করছে মন্তব্য করে টিআইবির ধারণাপত্রে বলা হয়, রাষ্ট্রীয় মালিকানাধীন ব্যাংকিং খাতের পুঞ্জীভূত সংকটের সঙ্গে যুক্ত হয়েছে বেসরকারি ব্যাংকের নজিরবিহীন কেলেঙ্কারি। অবৈধ অর্থ পাচারের বৈশ্বিক বিবেচনায় বিব্রতকর দৃষ্টান্ত স্থাপনকারী বাংলাদেশের অর্থ পাচারের ঘটনার জন্য গঠিত তদন্ত কমিটির প্রতিবেদনের ওপর ভিত্তি করে এখনো কোনো পদক্ষেপ গৃহীত হয়নি। অন্যদিকে, বাংলাদেশ ব্যাংক তাদের নিজেদের নীতিমালাকে পাশ কাটিয়ে দেশের শীর্ষস্থানীয় ঋণখেলাপিদের হাতে জিম্মি হয়ে তাদের ইচ্ছেমতো পুনঃ তফসিলকরণের সুযোগ দিচ্ছে।
টিআইবি মনে করে, আর্থসামাজিক উন্নয়ন, বিশেষ করে শিক্ষা, স্বাস্থ্য, দারিদ্র্য দূরীকরণ সম্পর্কিত আন্তর্জাতিক স্বীকৃতি বহুবিধ সূচকে বাংলাদেশের সাফল্য দৃষ্টান্তমূলক। তবে দুর্নীতির লাগাম টেনে ধরতে পারলে একদিকে এই অর্জন যেমন আরও ত্বরান্বিত হতে পারত, তেমনি আর্থসামাজিক অবস্থাননির্বিশেষে সব মানুষ অর্জিত উন্নয়নের সম-অংশীদার হতে পারত।
মানববন্ধন থেকে টিআইবি ১০ দফা দাবি তুলে ধরে। দাবিগুলো হলো প্রধানমন্ত্রীর ‘কাউকে ছাড় দেওয়া হবে না’—এই অঙ্গীকার বাস্তবায়ন করা, নাগরিকের বাক্স্বাধীনতা নিশ্চিত করতে ডিজিটাল নিরাপত্তা আইন ও ফরেন ডোনেশন রেগুলেশন অ্যাক্টের নিবর্তনমূলক ধারাগুলো বাতিল করা, সরকারি চাকরি আইন ২০১৮–এর বিতর্কিত ধারাসমূহ বাতিল করা, তথ্য অধিকার আইনের কার্যকর প্রয়োগের উপযুক্ত পরিবেশ নিশ্চিত করা, দুর্নীতি প্রতিরোধে দুদককে শক্তিশালী করতে রাজনৈতিক সদিচ্ছার কার্যকর প্রয়োগ নিশ্চিত করে প্রতিষ্ঠানটির ওপর সব ধরনের প্রত্যক্ষ ও পরোক্ষ সরকারি ও রাজনৈতিক প্রভাব বন্ধ করা।

Please follow and like us:
3