মঙ্গল. জুলা ১৬, ২০১৯

দুই সন্তানের সঙ্গে মায়ের মৃত্যু, ময়নাতদন্তে যা মিললো

দুই সন্তানের সঙ্গে মায়ের মৃত্যু

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : রাজধানীর উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকা থেকে উদ্ধার মা ও তার দুই সন্তানের লাশের ময়নাতদন্ত সম্পন্ন হয়েছে।
গতকাল সোমবার বিকেল ৩টায় লাশের ময়নাতদন্ত শেষে সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন ঢাকা মেডিকেল কলেজ (ঢামেক) হাসপাতালের ফরেনসিক মেডিসিন বিভাগের ডা. সোহেল মাহমুদ। তিনি জানান, ছেলে মুহিব হাসানের (২৮) গলায় যে আঘাতের চিহ্ন পাওয়া গেছে, সেটি দেখে মনে হয়েছে তাকে গলাকেটে হত্যা করা হয়েছে। মা জাহানারা খাতুন মুক্তার (৪৭) গলায় ও পেটে ছুরিকাঘাতের হালকা দাগ রয়েছে। তবে তার মৃত্যু হয়েছে শ্বাসরোধে। আর মেয়ে তাসফিয়া সুলতানা মিমের (২০) গলায় গামছা পেঁচিয়ে শ্বাসরোধ করে হত্যা করা হয়েছে। এটি হত্যাকাণ্ড না আত্মহত্যা— এমন প্রশ্নে ডা. সোহেল মাহমুদ বলেন, ‘লাশ তিনটি দেখে মনে হয়েছে ৭২ ঘণ্টার বেশি সময় আগের। দীর্ঘ সময় পার হওয়ায় বাহ্যিকভাবে এসব চিহ্ন ছাড়া অন্য কিছুই পাওয়া যায়নি। আমরা লাশের ভিসেরা সংগ্রহ করেছি, সে রিপোর্ট পেলে এবং সিন অব ক্রাইম ভিজিট করলেই বোঝা যাবে আসলে কিভাবে তাদের মৃত্যু হয়েছে।’ তিনি আরও বলেন, ‘পুলিশ যখন লাশ উদ্ধার করে তখন কক্ষটি তালাবদ্ধ ছিল। ওই বাসার লক কোন অবস্থায় ছিল সেটি ঘটনাস্থল পরিদর্শন করে জানতে পারব।’
এর আগে রোববার রাতে স্থানীয়দের কাছ থেকে খবর পেয়ে উত্তরখানের ময়নারটেক এলাকার একটি বাসা থেকে মা, তার ছেলে ও মেয়ের লাশ উদ্ধার করে পুলিশ। উত্তরখান থানার ওসি হেলাল উদ্দিন পরিবর্তন ডটকমকে জানান, ওই বাসা থেকে মা ও তার দুই সন্তানের গলিত লাশ উদ্ধার করা হয়। বিগত কয়েক দিন নিহতদের বাসার দরজা-জানালা সব বন্ধ ছিল। স্থানীয়দের সন্দেহ হওয়ায় তারা পুলিশে খবর দেয়। উত্তরা জোনের অতিরিক্ত উপ-কমিশনার হাফিজুর রহমান পরিবর্তন ডটকমকে জানান, স্থানীয় সূত্রে জানা গেছে, দেড় মাস আগে পরিবারটি এই বাসা ভাড়া নিয়েছিল। লাশের সঙ্গে ওই ঘর থেকে একটি চিরকুট মিলেছে, যাতে লেখা ‘আমাদের মৃত্যুর জন্য ভাগ্য দায়ী।’ আসলে ঘটনাটি কি? কিভাবে তাদের মৃত্যু হলো সব কিছুই তদন্ত করে দেখা হচ্ছে। প্রাথমিকভাবে কোন কিছুই স্পষ্ট করে বলা যাচ্ছে না বলেও জানান হাফিজুর রহমান।

Please follow and like us:
0