শনি. নভে ২৩, ২০১৯

দশে মিলে অসহায়ের পাশে

দশে মিলে অসহায়ের পাশে

Last Updated on

সুমনকুমার দাশ : সিলেটের শিশু পরিবারের শিশুদের পাড়াচ্ছেন লিডিং ইউনিভার্সিটির সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাবের এক সদস্য। ছবি: আনিস মাহমুদ
পড়াশোনার ফাঁকেই তাঁরা ঝাঁপিয়ে পড়েন অসহায় মানুষের পাশে। কারও রক্তের প্রয়োজন তো, জোগাড়যন্ত্র কাজে আছেন তাঁরা, শীতের কাঁপুনি যখন বড্ড বাড়ে, তখন তাঁদের কর্মব্যস্ততা শীতবস্ত্র সংগ্রহের। সংগৃহীত বস্ত্র হাতে তাঁরা ছুটে যান সিলেটের চা-বাগানের শীতার্ত মানুষসহ দেশের প্রত্যন্ত অঞ্চলের অসহায়দের কাছে। এসব কাজের জন্য টাকা সংগ্রহ করতে আয়োজন করছেন চলচ্চিত্র আর চিত্রকর্ম প্রদর্শনী।
এই তরুণ দলের ঠিকানা-সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাব। এটি সিলেটের বেসরকারি বিশ্ববিদ্যালয় লিডিং ইউনিভার্সিটির শিক্ষার্থীদের একটি সংগঠন। ক্যাম্পাসভিত্তিক সংগঠন হলেও কেবল কার্যক্রমের কারণে সংগঠনটি এখন সিলেটের অনেকের কাছেই পরিচিত।
সংগঠনের সভাপতি হাসান আহমাদ জানান, প্রায় আড়াই-শ শিক্ষার্থীর এ সংগঠনে ১২২ সদস্যবিশিষ্ট একটি কার্যকরী কমিটি রয়েছে। ২০১০ সালে সংগঠনটি প্রতিষ্ঠিত হয়েছে। সারা বছরই তাঁরা সমাজের অসহায় ও দরিদ্র মানুষের জন্য নানামুখী উদ্যোগ নেন। নিজেরা হাতখরচ বাঁচিয়ে কিংবা অন্যান্য শিক্ষার্থীদের কাছ থেকে চাঁদা সংগ্রহ করে তাঁরা সংগঠনের কার্যক্রম পরিচালনা করে থাকেন। তবে তাঁদের প্রায় উদ্যোগেই বিশ্ববিদ্যালয় কর্তৃপক্ষ সহায়তা করে থাকে। হাসান আহমাদ শোনালেন তাঁদের কিছু কার্যক্রমের কথা।
মিথিলা-মনসুরদের পাশে
তিন বছরের মিথিলা কিডনি-সংক্রান্ত জটিলতায় মৃত্যুঝুঁকিতে ছিল। কিন্তু তার পরিবারের পক্ষে চিকিৎসা করার সাধ্য ছিল না। এগিয়ে এল সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাবের সদস্যরা। ‘মিথিলার জন্য ভালোবাসা’ স্লোগানে সংগ্রহ করল ২ লাখ ৭৫ হাজার টাকা। সংগৃহীত অর্থে মিথিলার চিকিৎসা চলল, মিথিলার ছোট্ট মুখে ফুটল হাসি।
মিথিলার মতোই লিডিং বিশ্ববিদ্যালয়ের ইংরেজি বিভাগের শিক্ষার্থী মনসুর আহমদ ব্রেন টিউমারে আক্রান্ত হয়েছিলেন। তাঁর চিকিৎসায় ‘স্ট্যান্ড ফর মনসুর’ কর্মসূচির মাধ্যমে মনসুরকে চিকিৎসা করিয়ে তাঁরা সুস্থ করেন। এভাবেই সংগঠনটি পাশে দাঁড়িয়েছে ব্লাড ক্যানসারে আক্রান্ত অনামিকাসহ অনেকের পাশে।
সংগঠনটির সাধারণ সম্পাদক আমীর খসরু জানান, রোগাক্রান্ত হয়ে অসচ্ছল ও দুস্থ মানুষের পাশাপাশি যেসব সহপাঠী চিকিৎসাব্যায় মেটাতে পারেন না, প্রায়ই তাঁদের পাশে তাঁরা দাঁড়ান।
আলো ছড়াতে ‘আলো স্কুল’
সিলেট নগরের ‘শিশু পরিবার’। বাগবাড়ি ও রায়নগর এলাকায় সমাজসেবা কার্যালয়ের পরিচালনাধীন এতিম শিশুদের জন্য প্রতিষ্ঠান এটি। এখানেই সপ্তাহের পাঁচ দিন ‘আলো স্কুল’ পরিচালনা করে সংগঠনটি। বিকেল থেকে সন্ধ্যা পর্যন্ত শিশু পরিবারের সব শিক্ষার্থীকে বিনে পয়সায় পাঠদান করে থাকেন। দুটি স্থানে মোট ৪২০ জন শিক্ষার্থীকে তাঁরা পাঠ দিয়ে থাকেন। এসব শিক্ষার্থী তৃতীয় শ্রেণি থেকে দশম শ্রেণি পর্যন্ত নগরের বিভিন্ন শিক্ষাপ্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করছে।
মানবতার প্রত্যয়ে
সংগঠনটির পক্ষ থেকে মানবতার কল্যাণে নেওয়া হয়ে থাকে আরও অনেক উদ্যোগ। যেমন রমজান মাসে দুস্থদের মধ্যে ইফতারসামগ্রী ও ঈদ বস্ত্র বিতরণ, বন্যার্তদের সহায়তা, শীতবস্ত্র বিতরণ, স্বেচ্ছায় রক্তদান কর্মসূচি, অনুদান সংগ্রহে সাংস্কৃতিক পরিবেশনা, এতিম শিশুদের নিয়ে মেহেদি উৎসবসহ নানা ধরনের কর্মসূচি। সমাজসেবামূলক কাজের অংশ হিসেবে অসহায় ও দুস্থ ব্যক্তিদের কর্মসংস্থানের জন্যও তাঁরা সহায়তা করেন। কিছুদিন আগে সিলেট নগরের মেন্দিবাগ এলাকায় আনু মিয়া নামের এক অসচ্ছল ব্যক্তিকে পাঁচটি সেলাই মেশিন কিনে দেওয়া হয়েছে। সংগঠনের সহসভাপতি আনিসা নুসরাত জানালেন, আনু মিয়া সেসব মেশিনের মাধ্যমে আরও কয়েকজনের কর্মসংস্থান তৈরির পাশাপাশি নিজেও সচ্ছল হয়েছেন।
সোশ্যাল সার্ভিসেস ক্লাবের কার্যক্রম নিয়ে উচ্ছ্বসিত লিডিং ইউনিভার্সিটির উপাচার্য মো. কামরুজ্জামান চৌধুরী। সংগঠনটি সমাজসেবামূলক নানামুখী কাজের জন্য ক্যাম্পাসের বাইরেও পরিচিতি পেয়েছে বলে তিনি আনন্দিত। তিনি বলছিলেন, সমাজের অসহায় মানুষের জন্য শিক্ষার্থীদের এই উদ্যোগ সত্যিই প্রশংসনীয়।

Please follow and like us:
3