মঙ্গল. জানু ২১, ২০২০

ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের হরতাল ঘোষণা

ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের হরতাল ঘোষণা

Last Updated on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ভারতজুড়ে তুমুল বিতর্কের মধ্যেই লোকসভায় পাস হয়েছে নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল (সিএবি)। গতকাল সোমবার (০৯ ডিসেম্বর) স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী অমিত শাহ বিল উত্থাপন করলে এর পক্ষে ভোট পড়ে ২৯৩টি। আর বিপক্ষে পড়ে ৮২টি। বিলটি সংখ্যালঘুদের বিপক্ষে নয়, এমনটি স্পষ্ট করে এরপর উত্থাপন করেন অমিত শাহ।
তবে এ নিয়ে প্রতিবাদে সরব বিরোধী শিবির। বিলটিকে বিজেপির বিভাজনের রাজনীতির কৌশল বলে মন্তব্য করছেন বিরোধীরা। লোকসভার কংগ্রেস নেতা অধীর চৌধুরী বলেন, প্রশাসন উদ্দেশ্য প্রণোদিতভাবে সংখ্যালঘুদের দিকে নজর দিয়েছে। বিলের বিরোধিতা করে তৃণমূলের সংসদ সদস্য সৌগত রায় বলেন, ৩৭০ ধারা বাতিলের সময় বলা হয়েছিল, এক দেশ, এক সংবিধান। কিন্তু নাগরিকত্ব সংশোধনী বিলে আসাম, মেঘালয়, মিজোরাম ও ত্রিপুরার অনেক জায়গাকে অন্তর্ভক্ত করা হয়নি। এই বিল বিভাজনের উদ্দেশে করা হচ্ছে। যা সংবিধানের ১৪ নম্বর ধারার পরিপন্থি। এর আগে গত বুধবার (০৪ ডিসেম্বর) প্রস্তাবিত বিলটি অনুমোদন পেয়েছিল ভারতীয় মন্ত্রিসভায়। আগামীকাল বুধবার (১১ ডিসেম্বর) সরকারপক্ষ এই বিল রাজ্যসভায় পেশ করতে পারে। বিলটি ঘিরে ইতিমধ্যেই উত্তপ্ত দেশের উত্তর-পূর্বের রাজ্যগুলো। এই বিলের ফলে বহুসংখ্যক অবৈধ বসবাসকারী নাগরিকত্ব পেয়ে যাবেন বলে উদ্বেগ প্রকাশ করছে রাজ্যগুলো। এছাড়া সংশ্লিষ্টরা আশঙ্কা করছেন, বিলটি পাস হওয়ার কারণে পাল্টে যাবে দেশের জনবিন্যাসের ধরন। কমে যাবে কাজের সুযোগ। একইসঙ্গে হ্রাস পাবে নিজস্ব সংস্কৃতিও। বিলটিতে ১৯৫৫ সালের নাগরিকত্ব সংশোধনী আইন সংশোধন করার প্রস্তাব করা হয়েছে। আফগানিস্তান, বাংলাদেশ ও পাকিস্তান থেকে যাওয়া হিন্দু, শিখ, বৌদ্ধ, জৈন, পারসি ও খ্রিষ্টান অবৈধ অভিবাসীদের যাতে ভারতের নাগরিকত্ব দেওয়া যায়, এ হিসেবেই এ সংশোধনী।
ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের হরতাল ঘোষণা : এদিকে, সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল বা ক্যাব-এর বিরোধিতা করে ত্রিপুরায় অনির্দিষ্টকালের জন্য হরতালের ডাক দিয়েছে ‘জয়েন্ট মুভমেন্ট এগেইনন্সট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল’ নামে নতুন একটি সংগঠন। সংগঠনটি রাজ্যের আদিবাসী নেতৃত্ব জন্ম দিয়েছে। গতকাল সোমবার থেকে সংগঠনটির ডাকে অনির্দিষ্টকালের জন্য শুরু হবে হরতাল কর্মসূচি। ভারতের বহুল চর্চিত নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল নিয়ে সরব সারাদেশ। সোমবার সংসদের লোকসভা অধিবেশনে পেশ করা হবে ক্যাব এবং পাশও করানো হবে। কেননা লোকসভায় দেশের শাসক দল বিজেপি সংখ্যা গরিষ্ঠ। এখানে বিল পাশ না হওয়ার কোনো কারণ নেই। আজ মঙ্গলবারে এই বিল উঠবে রাজ্য সভায়। রাজ্য সভাতেও নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল পাশ হওয়ার সম্ভাবনা অনেক বেশি। তবে কিছুটা হলেও বেগ পেতে হবে কেন্দ্রীয় সরকারকে। গতকাল সোমবার নাগরিকত্ব সংশোধনী বিল যেন পাশ না করা হয়, তার সমস্ত রকমের চেষ্টা চালাচ্ছে রাজ্যের আদিবাসী দলগুলি। রাজ্যের শাসক দল বিজেপির শরিক আইপিএফটি ব্যাতিত সব কয়টি দল এক মঞ্চে এসেছে। তবে আইপিএফটিও তীব্র বিরোধিতা করছে ক্যাবের। ত্রিপুরার সমস্ত উপজাতি দল এক মঞ্চে এসে গঠন করেছে ‘জয়েন্ট মুভমেন্ট এগেইন্সট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন বিল’। এই সংগঠনের সভাপতি প্রদূত কিশোর দেববর্মন ও কনভেনার এনটনি দেববর্মা। সংগঠনের নেতা জগদীশ দেববর্মা এক সাংবাদিক সম্মেলনের মাধ্যমে ত্রিপুরায় হরতালের ঘোষণা দেন। রাজ্য সরকার আদিবাসী নেতাদের ডাকদ্রেতাল মানছে কি না? এই প্রশ্নে রাজস্ব মন্ত্রী এন সি দেববর্মা জানান, এ বিষয়ে তিনি কিছু বলতে পারবেন না। তিনি বল ঠেলে দিয়েছেন স্বরাষ্ট্র দপ্তরের কোর্টে। শাসক দল বিজেপি’র প্রদেশ মুখপাত্র নবেন্দু ভট্টাচার্য ‘জয়েন্ট মুভমেন্ট এগেইন্সট সিটিজেনশিপ এমেন্ডমেন্ট বিল’ এই সংগঠনের ডাকা হরতালের তীব্র বিরোধিতা করেছেন। তিনি বলেন, ‘এই সমস্ত দলের কোনো ভিত্তি নেই।’ প্রশ্ন হচ্ছে,ম আদিবাসী নেতৃত্ব অনির্দিষ্টকালের জন্য গোটা রাজ্যে হরতালের ডাক দেওয়ায় সমস্যায় পড়েছে সাধারণ মানুষ। যানবাহন চলবে না। বন্ধ থাকবে রেল চলাচলও। আদিবাসী নেতৃত্ব ও তাদের অনুগামীরা রাজ্যের বিভিন্ন জায়গাতে পিকেটিং চালাতে পারে। এজন্য সাধারণ মানুষ আশঙ্কায় রয়েছে। পুলিশ প্রশাসন জানায়, হরতালকে কেন্দ্র করে যেন কোনো অপ্রীতিকর ঘটনা না ঘটে তার জন্য সব রকমের ব্যবস্থা করেছে পুলিশ। রাজ্য সরকারের পক্ষে জানানো হয়েছে তারা এই হরতাল মানবে না। পুলিশ তার জন্য প্রস্তুত থাকবে।

Please follow and like us:
3