রবি. এপ্রি ২১, ২০১৯

তৃণমূলের আধিপত্য, বিজেপির অগ্রগতি ও বামদের ক্ষয়, ইঙ্গিত দুই সমীক্ষায়

তৃণমূলের আধিপত্য, বিজেপির অগ্রগতি ও বামদের ক্ষয়, ইঙ্গিত দুই সমীক্ষায়

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : ভারতের লোকসভা নির্বাচনে পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যে মমতা ব্যানার্জির তৃণমূল কংগ্রেসের আধিপত্য বজায় থাকলেও দলটির অগ্রগতি থেমে যেতে পারে। রাজ্যের ভোট ভবিষ্যৎ নিয়ে পৃথক দু’টি প্রাক-নির্বাচনী সমীক্ষার ফলাফল থেকে এমনই আভাস মিলছে বলে জানিয়েছে দেশটির আনন্দবাজার পত্রিকা।
গতকাল সোমবার এক প্রতিবেদনে পত্রিকাটি জানায়, দু’টি সমীক্ষাতেই দেখা যাচ্ছে তৃণমূলের আসন গতবারের জেতা ৩৪টির ধারে কাছেই থাকার সম্ভাবনা। একটি সমীক্ষা অনুযায়ী তা বরং সামান্য কিছু কমতে পারে, অপরটিতে বাড়তে পারে মাত্র ১টি আসন।
দুই সমীক্ষাতেই বিরোধী দল হিসেবে বিজেপির উল্লেখযোগ্য উত্থানের ইঙ্গিত পাওয়া যাচ্ছে। ইঙ্গিত মিলছে, বামদের আরও ক্ষয়ের এবং রাজ্যটিতে কংগ্রেসের সামান্য অস্তিত্ব জিইয়ে রাখারও।
দু’টি সমীক্ষার মধ্যে একটি শুধু পশ্চিমবঙ্গ নিয়ে। যেখানে রাজ্যের ৪২টি কেন্দ্রের প্রতিটি সম্পর্কে পৃথক বিশ্লেষণ রয়েছে। অপর সমীক্ষাটি সর্বভারতীয়। সেখানে পশ্চিমবঙ্গ এসেছে একটি রাজ্য হিসেবে। আলাদা করে কোনও কেন্দ্রের নাম বা বিশ্লেষণ তাতে নেই। দু’টি সমীক্ষাই দেখিয়েছে ভারতীয় সংবাদমাধ্যম এবিপি আনন্দ।
শুধু পশ্চিমবঙ্গ রাজ্যের জন্য কেন্দ্র ভিত্তিক সমীক্ষা করেছে নিয়েলসেন সংস্থা। তাদের হিসেব অনুযায়ী তৃণমূল এবার ৩১টি আসন পেতে পারে, যা গতবারের চেয়ে ৩টি কম। বিজেপি গতবার পেয়েছিল ২টি, এবার তা বেড়ে ৭টি হতে পারে বলে এই সমীক্ষার ইঙ্গিত। আসন সংখ্যার নিরিখে এবারেও কংগ্রেস ৪টি আসন পেতে পারে বলে এই সমীক্ষার আভাস। আর বামদের এবার একেবারেই শূন্য হাতে ফিরতে হবে বলে মনে করছে নিয়েলসেনের সমীক্ষা।
সারা দেশের সব রাজ্যে প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষা চালিয়ে ‘সি ভোটার’ অবশ্য এই রাজ্যে তৃণমূলের আসন গতবারের চেয়ে একটি বেড়ে ৩৫ হতে পারে বলে ইঙ্গিত দিয়েছে। তাদের সমীক্ষা অনুযায়ী বিজেপি এই রাজ্যে পেতে পারে ৬টি আসন। কংগ্রেস ১টি। এ ক্ষেত্রেও বামেদের ভাগ শূন্য বলে মনে করা হচ্ছে।

এই ধরনের কোনও সমীক্ষা ধ্রুব সত্য হয় না। এর আগেও বহুবার দেখা গিয়েছে এই ধরনের প্রাক নির্বাচনী সমীক্ষার ফলাফল বাস্তবের সঙ্গে মেলেনি। জয় পরাজয়ের ছবি অনেকটাই বদলে গিয়েছে। তবে, যে পদ্ধতিতে এই সমীক্ষাগুলি চালানো হয়, তা স্বীকৃত। তাই নির্বাচনী ফলাফলের আভাস হিসেবে এর গুরুত্ব আছে। যদিও কোনও রাজনৈতিক দলই এ সব নিয়ে বিশেষ মুখ খুলতে চায় না। বিশেষত, যাদের আসন সংখ্যা কম বলে দেখানো হয়, তারা সর্বদাই এ গুলিকে নস্যাৎ করে দেয়।
‘সি ভোটার’ ১ মার্চ থেকে ৫ এপ্রিলের মধ্যে সমীক্ষা চালিয়েছে। সারা দেশ জুড়ে ৪৫ হাজার ১৩৪ জনের মতামত নিয়েছে তারা। নিয়েলসেন সমীক্ষা করেছে দু’দফায়। দ্বিতীয় বা চূড়ান্ত দফায় সমীক্ষা করা হয় ২৪ থেকে ২৯ মার্চের মধ্যে ১০ হাজার ৬৯৯ জনের মতামতের ভিত্তিতে। সেই সমীক্ষায় তৃণমূলকে যে ৩১টি আসন দেওয়া হয়েছে মালদহ উত্তর তার মধ্যে উল্লেখযোগ্য। কারণ, এই কেন্দ্রে পর পর দু’বার কংগ্রেসের টিকিটে জেতা সাংসদ মৌসম নূর সদ্য তৃণমূলে যোগ দিয়ে জোড়া ফুলের প্রার্থী হয়েছেন। একই ভাবে চমকপ্রদ হল কৃষ্ণনগর কেন্দ্রে তৃণমূলের পরাজয়ের সম্ভাবনা। সেখানে ২০১৪-র প্রবল মোদী হাওয়াতেও বিজেপি জিততে পারেনি। পর পর দু’বার জিতেছিলেন সম্প্রতি সরে যাওয়া বিতর্কিত তৃণমূল সাংসদ অভিনেতা তাপস পাল। এই কেন্দ্রে সংখ্যালঘু ভোট যথেষ্ট। তাই সেখানে এ বার বিজেপির জেতার ইঙ্গিত অনেকের মতে বিস্ময়কর।
বিজেপির জয়ের সম্ভাবনার ক্ষেত্রে কোচবিহার এবং আলিপুরদুয়ার, দু’টি কেন্দ্রের নাম উঠে এসেছে সমীক্ষায়। এ ছাড়াও বিজেপি গতবারের জেতা দু’টি আসন দার্জিলিং এবং আসানসোল ধরে রেখে এ বার তৃণমূলের কাছ থেকে ব্যারাকপুর ও বালুরঘাট ছিনিয়ে নিতে পারে বলে সমীক্ষার ইঙ্গিত।
তবে কোচবিহারের ক্ষেত্রে লড়াই হাড্ডাহাড্ডি হবে বলে সমীক্ষা ইঙ্গিত দিয়েছে। একই ভাবে হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের কথা বলেও গতবার সিপিএমের জেতা রায়গঞ্জে কংগ্রেসের সম্ভাবনা দেখেছে এই সমীক্ষা। কংগ্রেসের হাতে থাকা মালদহ দক্ষিণ কেন্দ্রেও তাদের জয়ের সম্ভাবনার পাশাপাশি সমীক্ষা জোরদার ত্রিমুখী লড়াইয়ের কথা বলেছে। অর্থাৎ, এখানে বিজেপি এবং তৃণমূলকেও মাটি কামড়ে লড়তে হবে বলে সমীক্ষার ইঙ্গিত। বহরমপুর এবং জঙ্গিপুর দু’টি জায়গাতেই কংগ্রেস এ বারও জয়ের মুখ দেখতে পারে বলে সমীক্ষা আভাস দিয়েছে।
বিজেপির রাজ্য সভাপতি দিলীপ ঘোষ এ বার যেখানে প্রার্থী সেই মেদিনীপুর তৃণমূলেরই দখলে থাকতে পারে বলে সমীক্ষা জানিয়েছে। একইভাবে বিজেপির কেন্দ্রীয় সম্পাদক রাহুল সিংহ যে কেন্দ্রে দাঁড়িয়েছেন সেই উত্তর কলকাতাতেও তৃণমূলের জয় নিয়ে কোনও সংশয় প্রকাশ করেনি সমীক্ষা। তৃণমূল সাংসদ অভিষেক বন্দ্যোপাধ্যায়ের ডায়মন্ডহারবার, অভিনেতা দেবের কেন্দ্র ঘাটালেও হাড্ডাহাড্ডি লড়াইয়ের সম্ভাবনার কথা বলা হয়েছে সমীক্ষায়। তবে জয়ের ইঙ্গিত দুই তৃণমূল প্রার্থীর দিকেই।
জেতা আসন বাঁকুড়া ছেড়ে মুনমুন সেনকে এ বার আসানসোলে লড়তে পাঠিয়েছে তৃণমূল। সেই আসনটিতে বিজেপির জয়ের সম্ভাবনা থাকলেও বাঁকুড়ায় ফের তৃণমূলই জিততে পারে বলে সমীক্ষার আভাস। যেখানে এবার প্রার্থী হয়েছেন রাজ্যের প্রবীণ মন্ত্রী সুব্রত মুখোপাধ্যায়। যাদবপুরে তৃণমূলের মিমি চক্রবর্তী এবং বসিরহাটে নুসরত জহানের জয় সম্পর্কে সমীক্ষা অবশ্য কোনও বিরূপ আভাস দেয়নি।

Please follow and like us:
0