মঙ্গল. জুন ২৫, ২০১৯

তিন দিনে ১২৬২ কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার

তিন দিনে ১২৬২ কোটি টাকা ঋণ নিল সরকার

Last Updated on

বিশেষ সংবাদদাতা : নির্বাচনের পর শুধু তিন দিনেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে বড় অঙ্কের ঋণ নিতে হয়েছে সরকারকে। চলতি অর্থবছর রাজস্ব আদায়ে করুণ চিত্রই এ প্রবণতার কারণ বলে মনে করছেন সংশ্লিষ্টরা। তথ্যমতে, বিদায়ী ২০১৮ সালের ৩০ ডিসেম্বর একাদশ জাতীয় নির্বাচন ও ৩১ ডিসেম্বর ব্যাংক হলিডে থাকায় ১ জানুয়ারি ব্যাংক লেনদেন শুরু হয়। ওই দিন থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত তিন দিনেই ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের ঋণ বেড়েছে এক হাজার ২৬২ কোটি টাকা। এর ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে সরকারের মোট ঋণ বেড়ে দাঁড়ায় ৯৩ হাজার ৩৬৭ কোটি টাকায়। বিদায়ী ২০১৮ সালে সর্বশেষ ব্যাংক লেনদেন হয় গত ২৭ ডিসেম্বর, ওই দিন পর্যন্ত সরকারের নিট ঋণ ছিল ৯২ হাজার ১০৫ কোটি টাকা। এর আগে ২০১৭-১৮ অর্থবছরের ৩০ জুন শেষে ব্যাংক ব্যবস্থায় সরকারের নিট ঋণ ছিল ৮৮ হাজার ২৫৮ কোটি টাকা। এ হিসাবে চলতি ২০১৮-১৯ অর্থবছরের জুলাই থেকে ৩ জানুয়ারি পর্যন্ত ব্যাংক ব্যবস্থায় পাঁচ হাজার ১১০ কোটি টাকা ঋণ বেড়েছে সরকারের। বিশ্লেষণে দেখা যায়, ব্যাংক ব্যবস্থায় গত ছয় মাসে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের ঋণ বেড়েছে চার হাজার ১৪৩ কোটি টাকা। এতে বাণিজ্যিক ব্যাংকগুলোতে সরকারের ঋণ দাঁড়িয়েছে ৬৮ হাজার ৭৫৫ কোটি টাকা। আর বাংলাদেশ ব্যাংকে ঋণ বেড়েছে ৮৬৭ কোটি টাকা। এতে কেন্দ্রীয় ব্যাংকে সরকারের ঋণ বেড়ে ২৪ হাজার ৬১৩ কোটি টাকায় দাঁড়িয়েছে।
বাংলাদেশ ব্যাংকের তথ্যমতে, গত নভেম্বরে বেসরকারি খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি গত পাঁচ বছরের মধ্যে সর্বনিম্ন পর্যায়ে নেমে এসেছে। ওই মাসে এ খাতের ঋণের প্রবৃদ্ধি ছিল ১৪ দশমিক শূন্য এক শতাংশ। এদিকে প্রত্যাশা অনুযায়ী রাজস্ব আদায়ও হচ্ছে না সরকারের। চলতি অর্থবছরের জুলাই-নভেম্বর সময়ে লক্ষ্যমাত্রার তুলনায় আদায় ২৩ হাজার কোটি টাকা কম ছিল। ডিসেম্বরের তথ্য আরও হতাশাজনক। জুলাই-ডিসেম্বর পর্যন্ত ছয় মাসে লক্ষ্যমাত্রার চেয়ে রাজস্ব আদায়ে ২৯ হাজার কোটি টাকা পিছিয়ে আছে এনবিআর। গত পাঁচ বছরের পরিসংখ্যান বলছে, অর্থবছরের প্রথম ছয় মাসে রাজস্ব আদায়ে প্রবৃদ্ধি হয় গড়ে ১০ থেকে ১৪ শতাংশ। অথচ চলতি অর্থবছর হয়েছে মাত্র সাড়ে পাঁচ শতাংশ। প্রথম ছয় মাসে এক লাখ ২৬ হাজার কোটি টাকা রাজস্ব আহরণের লক্ষ্যমাত্রার বিপরীতে এসেছে ৯৭ হাজার ২৪০ কোটি টাকা। এতে করে সরকারের সুদ ব্যয় বাড়লেও এখন সঞ্চয়পত্র ও ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণ নিয়ে সরকারের কাজ সারতে হচ্ছে। কয়েক বছর ধরে ব্যাংকবহির্ভূত উৎস (সঞ্চয়পত্রসহ বিভিন্ন ধরনের সঞ্চয় স্কিম) থেকে বিপুল পরিমাণে ঋণ নেওয়ার ফলে ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে ঋণের খুব একটা প্রয়োজন হচ্ছিল না। তবে এখন সঞ্চয়পত্রের পাশাপাশি ব্যাংক থেকেও ঋণ বাড়ছে। অবশ্য সঞ্চয়পত্রে যে হারে বাড়ছে ব্যাংকে বাড়ছে তার চেয়ে অনেক কম। এ প্রবণতা সরকারের সুদ ব্যয় অনেক বাড়াচ্ছে। ব্যাংক থেকে বর্তমানে সাড়ে তিন থেকে আট শতাংশ সুদে ঋণ পেলেও সামাজিক সুরক্ষার কথা বিবেচনা করে ১১ শতাংশের বেশি মুনাফা দিয়ে সঞ্চয়পত্র থেকে বিপুল অঙ্কের ঋণ নিতে হচ্ছে সরকারকে। আর এ কারণে সরকারের বাজেটের বার্ষিক ব্যয়ের সবচেয়ে বড় খাত হয়ে উঠেছে সুদ ব্যয়।
বাজেট ঘাটতি মেটাতে চলতি অর্থবছরে অভ্যন্তরীণ উৎস থেকে সরকারের ঋণ নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা ধরা হয়েছে ৭১ হাজার ২২৭ কোটি টাকা। এর মধ্যে ৪২ হাজার ৩০ কোটি টাকা ব্যাংক ব্যবস্থা থেকে এবং ২৯ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা ব্যাংকবহির্ভূত উৎস থেকে নেওয়ার লক্ষ্য রয়েছে। ব্যাংকবহির্ভূত উৎসের মধ্যে ২৬ হাজার ১৯৭ কোটি টাকা সঞ্চয়পত্র থেকে নেওয়ার লক্ষ্যমাত্রা রয়েছে। গত নভেম্বর পর্যন্ত এ খাতে সরকারের নিট ঋণ বেড়েছে ২১ হাজার ৬৬২ কোটি টাকা। এ নিয়ে সঞ্চয়পত্রে সরকারের মোট ঋণ দাঁড়াল দুই লাখ ৫৯ হাজার ৪২৮ কোটি টাকা।

Please follow and like us:
0