তফসিল একতরফা ভোটের জন্য: ফখরুল

তফসিল একতরফা

নিজস্ব প্রতিবেদক : বিএনপির মহাসচিব মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর বলেছেন, একতরফা নির্বাচন অনুষ্ঠানের জন্য নির্বাচন কমিশন তফসিল ঘোষণা করেছে। এখানে সরকারের ইচ্ছার প্রতিফলন ঘটেছে, এখানে জনগণের আশা আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন ঘটেনি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় বিএনপির গুলশান কার্যালয়ে ২০ দলীয় জোটের এক বৈঠক শেষে মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর এ মন্তব্য করেন। বৈঠকে সভাপতিত্ব করেন লিবারেল ডেমোক্রেটিক পার্টির (এলডিপি) সভাপতি অলি আহমদ।

মির্জা ফখরুল ইসলাম বলেন, তফসিল ঘোষণা না করার জন্য নির্বাচন কমিশনের কাছে জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের পক্ষ থেকে অনুরোধ করা হয়েছিল। কিন্তু তারা পিছিয়ে দেয়নি। তিনি বলেন, বিএনপির স্থায়ী কমিটি, ২০ দল ও জাতীয় ঐক্যফ্রন্টের বৈঠক আছে, বৈঠক শেষে এ বিষয়ে পরবর্তীতে প্রতিক্রিয়া জানানো হবে।

বৈঠকে বাংলাদেশ জাতীয় দল, পিপলস পার্টি অব বাংলাদেশ (পিপিবি) ও বাংলাদেশ মাইনরিটি জনতা পার্টি ২০ দলীয় জোটে আনুষ্ঠানিকভাবে যোগ দেয়।
বৈঠকের সভাপতি অলি আহমদ বলেন, খালেদা জিয়া অসুস্থ, তারপরও তাঁকে কারাগারে নেওয়া হয়েছে। সরকার আদালতের আদেশ অমান্য করে খালেদা জিয়াকে কারাগারে নিয়ে গেছে। ২০ দলীয় জোট খালেদা জিয়ার মুক্তি চায়। ২০ দলীয় জোটের সমন্বয়ক ও বিএনপির স্থায়ী কমিটির সদস্য নজরুল ইসলাম খানসহ জোটের নেতারা এ সময় উপস্থিত ছিলেন। নির্বাচন কমিশনকে চিঠি দিয়ে ও বৈঠক করে তফসিল পেছানোর দাবি জানিয়েছিল জাতীয় ঐক্যফ্রন্ট। কিন্তু আজ সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার জাতির উদ্দেশ্যে ভাষণে তফসিল ঘোষণার পর ঐক্যফ্রন্ট একে এক পাক্ষিক বলে মনে করছে। মনোনয়নপত্র দাখিলের সময় বাড়ানোর দাবি করতে পারে এই জোট।
গত ৬ নভেম্বর মঙ্গলবার ঐক্যফ্রন্টের জনসভা থেকে বলা হয়েছিল, তফসিল ঘোষণা না পেছালে তারা নির্বাচন কমিশন অভিমুখে পদযাত্রা করবে। এ তফসিল ঘোষণার পরে সে পদযাত্রা নিয়ে জানতে চাইলে ঐক্যফ্রন্টের এক নেতা জানান, সময় কম। এ কর্মসূচি করতে হলে দ্রুতই করতে হবে। আগামীকাল ৯ নভেম্বর শুক্রবার রাজশাহীর সমাবেশ শেষে আগামী সপ্তাহের শুরুর দিকেই এ পদযাত্রা হতে পারে। তবে তফসিল ও অন্যান্য বিষয়ে ঐক্যফ্রন্টের পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে রাজশাহীর সমাবেশ থেকে ঘোষণা দেওয়ার সম্ভাবনা রয়েছে। ঐক্যফ্রন্টের শরিক দল গণফোরামের সাধারণ সম্পাদক মোস্তফা মহসিন মন্টু সংবাদমাধ্যমকে বলেন, এটা অনাকাঙ্ক্ষিত। সবার সঙ্গে আলোচনা করে সিদ্ধান্ত নিলে ভালো হতো।
এই তফসিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব: জাপা : জাতীয় পার্টির মহাসচিব এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাদার বলেছেন, প্রধান নির্বাচন কশিনার ঘোষিত একাদশ জাতীয় নির্বাচনের তফসিল নির্বাচন কমিশনের সততা ও আন্তরিকতার প্রমাণ। এই তফসিলেই সুষ্ঠু নির্বাচন অনুষ্ঠান সম্ভব। সব রাজনৈতিক দল নির্বাচনে এলে জাতীয় নির্বাচন উৎসবমুখর হবে।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যা সাড়ে ৭টায় গুলশানের নিজ অফিসে নির্বাচনী তফসিল ঘোষণার প্রতিক্রিয়ায় এসব কথা বলেন তিনি।

সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে জাতীয় পার্টির মহাসচিব নির্বাচন কমিশনকে অভিনন্দন জানিয়ে বলেন, তারা ৪০টি রাজনৈতিক দলের সাথে আলোচনা করে এবং সুশীলসমাজের মতামত নিয়ে নির্বাচন আয়োজন করতে যাচ্ছেন। নির্বাচনে ব্যাপক সংখ্যক আইনশৃঙ্খলা রক্ষাকারী বাহিনীর সদস্য মোতায়েনের ঘোষণা ইতিবাচক।

জাপার মহাসচিব বলেন, সকল দল সহযোগিতা করলে একটি গ্রহণযোগ্য নির্বাচন আয়োজন সম্ভব, যা দেশ-বিদেশে সমাদৃত হবে। নির্বাচনে সবার অংশগ্রহণের মাধ্যমেই জাতীয় ঐক্য ফুটে উঠতে পারে।

লেভেল প্লেইং ফিল্ড নিশ্চিত করা প্রসঙ্গে এ বি এম রুহুল আমিন হাওলাতদার বলেন, আশা করি, বর্তমান নির্বাচন কমিশন সবার অংশগ্রহণ নিশ্চিত করতে পারবে এবং সবার জন্য সমান সুযোগ সৃষ্টি করতে সক্ষম হবে।

তিনি বলেন, সংবিধানের বাইরে যাবার কোনো অবকাশ নেই। তাই সংবিধানের মধ্যে থেকেই সবার জন্য গ্রহণযোগ্য একটি নির্বাচন আয়োজন করতে পারবে বর্তমান কমিশন।

যুক্তফ্রন্ট ৩০ ডিসেম্বর নির্বাচন চায় : একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের ভোট গ্রহণের তারিখ ২৩ ডিসেম্বরের পরিবর্তে ৩০ ডিসেম্বর চেয়েছে যুক্তফ্রন্ট। এ ছাড়া মনোনয়নপত্র দাখিল, যাচাই-বাছাই ও প্রত্যাহারের তারিখও পিছিয়ে দেওয়ার আহ্বান জানিয়েছে এই জোট। যুক্তফ্রন্টের চেয়ারম্যান ও বিকল্পধারা বাংলাদেশের সভাপতি এ কিউ এম বদরুদ্দোজা চৌধুরী (বি চৌধুরী) তফসিল ঘোষণার পর গণমাধ্যমে দেওয়া এক বিবৃতিতে এ আহ্বান জানান।

ওই বিবৃতিতে মনোনয়নপত্র জমা দেওয়ার তারিখ এক সপ্তাহ পিছিয়ে ১৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৬ নভেম্বর, মনোনয়নপত্র যাচাই-বাছাই ২২ নভেম্বরের পরিবর্তে ২৯ নভেম্বর এবং মনোনয়নপত্র প্রত্যাহারের শেষ তারিখ ২৯ নভেম্বরের পরিবর্তে ৬ ডিসেম্বর করার জন্য নির্বাচন কমিশনের প্রতি আহ্বান জানায় যুক্তফ্রন্ট।
তফসিল পরিস্থিতি জটিল করবে: বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি : নির্বাচনকেন্দ্রিক সংলাপ ও সমঝোতার প্রক্রিয়া শেষ না হতেই তফসিল ঘোষণা দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। এই তফসিল ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে বলে প্রতিক্রিয়া জানিয়েছে বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টি।
গতকাল বৃহস্পতিবার সন্ধ্যায় প্রধান নির্বাচন কমিশনার কে এম নূরুল হুদা একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনের তফসিল ঘোষণায় ক্ষোভ ও উদ্বেগ প্রকাশ করে এ কথা বলেন বাংলাদেশের বিপ্লবী ওয়ার্কার্স পার্টির সাধারণ সম্পাদক সাইফুল হক। তিনি বলেন, জাতীয় নির্বাচনকেন্দ্রিক সংকটের সমাধান ছাড়া এবং সংলাপের সমগ্র প্রক্রিয়া শেষ না হতেই নির্বাচনের তফসিল ঘোষণা দায়িত্বহীনতার বহিঃপ্রকাশ। এই ঘোষণা পরিস্থিতিকে আরও জটিল করে তুলবে। সরকারের ছকেই তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে এবং এই নির্বাচন কমিশন সরকারের অনুগত মন্তব্য করে সাইফুল হক বলেন, বাম গণতান্ত্রিক জোটসহ বিরোধীদলীয় জোটসমূহের পক্ষ থেকে তফসিল ঘোষণা পিছিয়ে দেওয়ার দাবিকে অগ্রাহ্য করে নির্বাচন কমিশন কর্তৃক তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কেন্দ্র করে সরকারি ছকেরই অনুসরণ হিসেবে প্রতীয়মান হচ্ছে। সরকারি দল ও জোটের বাইরে নির্বাচনের গুরুত্বপূর্ণ অংশীদার হচ্ছে বিরোধী রাজনৈতিক দলসমূহ। তাদের অবস্থান ও মতামতকে বিবেচনায় না নিয়ে একতরফাভাবে তফসিল ঘোষণা নির্বাচন কমিশনের সরকার অনুগত ভূমিকাকেই আরও একবার প্রমাণ করল। যেহেতু তফসিল পিছিয়ে দেওয়ার সুযোগ রয়েছে সে কারণে চলমান রাজনৈতিক সমঝোতা উদ্যোগ সমাপ্ত না হওয়া পর্যন্ত তফসিল স্থগিত রাখার দাবি জানান তিনি।

Please follow and like us:
0