শনি. সেপ্টে ২১, ২০১৯

ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

ঢেউ থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদনের উদ্যোগ

Last Updated on

প্রত্যাশা ডেস্ক : অফুরšত্ম ও পরিবেশবান্ধব জ্বালানির উৎস হিসেবে সমুদ্রের ঢেউ কাজে লাগানোর নানা উদ্যোগ দেখা গেছে। এক্ষেত্রে এখনো সাফল্য না এলেও বিজ্ঞানীরা হাল ছাড়ছেন না। ঢেউ থেকে জ্বালানির বিপুল সম্ভাবনা রয়েছে।
সমুদ্র প্রায় ৩৬ কোটি বর্গ কিলোমিটার অর্থাৎ পৃথিবীর প্রায় ৭০ শতাংশ দখল করে রয়েছে। সেখানে প্রকৃতির জোরালো শক্তি, বাতাসের ধাক্কায় তৈরি বিশাল ঢেউ, চাঁদের প্রভাবে জোয়ার-ভাটার খেলা চলে। ফলে মহাসাগরগুলি পরিবেশবান্ধব জ্বালানির বিশাল উৎস হয়ে উঠতে পারে। কিন্তু সেই শক্তি কাজে লাগানোর উপায় কী? মনে রাখতে হবে, জোয়ার-ভাটার টান সব জায়গায় একরকম নয়। ইউরোপের পশ্চিমাঞ্চলে সেই টান অত্যšত্ম শক্তিশালী।
মধ্যযুগেই মানুষ প্রথম বার ঢেউয়ের শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা করেছিল। জোয়ার ও ভাটার উচ্চতার তারতম্যের ফায়দা তুলতে ঘানির চাকা বসানো হয়েছিল। গত শতাব্দীর ষাটের দশকে সেই আইডিয়া আবার কাজে লাগানোর চেষ্টা হয়েছিল। ফ্রান্সের ব্রিটানি অঞ্চলে জোয়ারভাটার শক্তি কাজে লাগাতে ইঞ্জিনিয়াররা সবচেয়ে বড় বিদ্যুৎ উৎপাদন কেন্দ্র গড়ে তুলেছিলেন। পানির উচ্চতার পার্থক্য কাজে লাগাতে বাঁধের প্রাচীরে টার্বাইন বসানো হয়েছিল। কিন্তু ইঞ্জিনিয়াররা একটি সমস্যার সম্মুখীন হয়েছিলেন। সমুদ্রতীরে খুব কম এমন খাঁড়ি রয়েছে, যা এমন বিদ্যুৎ কেন্দ্র গড়ে তোলার জন্য উপযুক্ত। তারা অবশ্য হাল ছাড়েননি। অন্যভাবে সমুদ্রের শক্তি কাজে লাগানোর চেষ্টা শুর¤œ করেছেন তারা৷ যেমন ঢেউয়ের সাহায্য নিয়ে৷ দেখা গেল, বাতাসের ধাক্কায় ঢেউয়ের শক্তি দুই মের¤œর দিকে অনেক বেশি শক্তিশালী৷
গত শতাব্দীর সত্তরের দশকে স্কটল্যান্ডে বিজ্ঞানীরা বেশ কিছু যন্ত্রপাতি ও সরঞ্জাম তৈরি করেন, যেগুলির সাহায্যে ঢেউয়ের ওঠানামার গতি থেকে বিদ্যুৎ উৎপাদন করা সম্ভব৷ ফলে বিপুল উৎসাহ দেখা দিল৷ বিকল্প এই জ্বালানী যুগাšত্মকারী পরিবর্তন আনবে বলে আশা জেগে উঠেছিল৷ কিন্তু সেই যুগের আইডিয়া বা¯ত্মবে রূপাšত্মর করা সম্ভব হয়নি৷ চলতি শতাব্দীর প্রথম দশকে নতুন এক প্রচেষ্টা দেখা গেল, যার নাম ‘সামুদ্রিক সাপ’৷ এর আওতায় ধাতুর নলের মধ্যে ঢেউয়ের সঞ্চালনকে বিদ্যুতে রূপাšত্মরিত করে৷ কিন্তু এই প্রচেষ্টাও পরীÍগামূলক ¯ত্মরেই থেকে গিয়েছিল৷ বর্তমানে জার্মান ইঞ্জিনিয়াররা অন্য একটি প্রণালী নিয়ে পরীÍগানিরীÍগা চালাচ্ছেন৷ ‘নেমোস’ নামের প্রকল্পের আওতায় ঢেউগুলি ভাসমান ব¯ত্মুকে পানির উপরিভাগে ঠেলে দেয়৷ সেই ব¯ত্মু তারের মাধ্যমে সমুদ্রের তলদেশে গাঁথা থাকে৷ একটি জেনারেটার সেই ট্র্যাকশনকে বিদ্যুতে রূপাšত্মরিত করে৷ এ নিয়ে পরীÍগা এখনো চলছে৷
এখনো পর্যšত্ম কোনো মডেলই সাফল্য পায়নি৷ অনেক প্রোটোটাইপ বাতিল হয়ে গেছে৷ প্রযুক্তিগত বাধা এর অন্যতম কারণ৷ ঢেউয়ের উচ্চতায় বার বার পরিবর্তন ঘটে৷ কখনো নীচু, কখনো অনেক উঁচু ঢেউ জেগে ওঠে৷ ফলে ঢেউয়ের শক্তিরও পরিবর্তন ঘটে৷ সেই তারতম্য সামলাতে হলে যন্ত্রগুলির গঠন স্থিতিশীল হতে হবে৷ তাছাড়া নীচু ঢেউ দেখা দিলে অত্যšত্ম কম জ্বালানি উৎপাদিত হয়৷ ঢেউয়ের শক্তি কাজে লাগাতে নানা রকম প্রচেষ্টা চালানো হয়েছে৷ কিন্তু সে সব সমাধানসূত্র খুবই ব্যয়বহুল৷ সে কারণে ‘পে¯œট আই’ নামের নতুন প্রচেষ্টার আওতায় টার্বাইনগুলি ব়্যাফট বা ভেলার উপর বসানো হয়েছে৷ ফলে সহজেই সেগুলি মেরামত করা সম্ভব৷ উত্তাল ও লবণাক্ত মহাসাগরের জ্বালানি ব্যবহারের পথে অনেক বাধা রয়েছে৷ নানা পূর্বাভাষ সত্ত্বেও এ Íেগত্রে সাফল্য এখনো আমাদের ধরাছোঁয়ার বাইরে থেকে গেছে৷ তা সত্ত্বেও অনেক ইঞ্জিনিয়ার মনে করেন, সামুদ্রিক জ্বালানি ব্যবহারের Íেগত্রে যুগাšত্মকারী সাফল্য পেতে বেশিদিন অপেÍগা করতে হবে না৷

Please follow and like us:
2