মঙ্গল. মার্চ ৩১, ২০২০

ঢাবিতে ১০০ পাউন্ডের কেক কেটে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন

ঢাবিতে ১০০ পাউন্ডের কেক কেটে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানমালার উদ্বোধন

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : নানা আয়োজনের মধ্য দিয়ে জাতির জনক বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জন্মশতবর্ষ উদযাপন করেছে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়। গতকাল মঙ্গলবার বেলা ১১টায় বিশ্ববিদ্যালয়ের স্মৃতি চিরন্তন প্রাঙ্গণে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামানের সভাপতিত্বে ১০০ বেলুন উড়িয়ে মুজিববর্ষের অনুষ্ঠানের উদ্বোধন করা হয়। বঙ্গবন্ধুর শততম জন্মবার্ষিকী উপলক্ষে এ অনুষ্ঠানে কাটা হয় ১০০ পাউন্ডের কেক। এর আগে বিশ্ববিদ্যালয়ের সংগীত বিভাগের আয়োজনে পরিবেশন করা হয় জাতীয় সংগীত। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে জাতিকে মুজিববর্ষের শুভেচ্ছা জানিয়ে উপাচার্য অধ্যাপক মো. আখতারুজ্জামান বলেন, বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবার্ষিকী আমাদের জন্য একটি বিরল সৌভাগ্যের বিষয়। তিনি বলেন, করোনাভাইরাস মোকাবেলা করার জন্য আমরা সামাজিক দূরত্ব বজায় রাখতে আজকে সংক্ষিপ্ত পরিসরে বঙ্গবন্ধুর জন্মশতবর্ষ উদযাপন করছি। তবে মুজিববের্ষের সকল ধরনের কর্মসূচি এক বছর অব্যাহত থাকবে। মুজিববর্ষে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের কর্মসূচি জানিয়ে উপাচার্য বলেন, আগামী ৫ সেপ্টেম্বর বিশেষ সমাবর্তনে জাতির পিতাকে সম্মানসূচক ‘ডক্টর অব লজ’ ডিগ্রি দেওয়া হবে বিশ্ববিদ্যালয়ের পক্ষ থেকে। সেখানে প্রধান বক্তা থাকবেন নোবেল বিজয়ী বাঙালি অধ্যাপক অভিজিৎ বন্দ্যোপাধ্যায়। বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে আমরা একটি রিসার্চ ইন্সটিটিউট তৈরির প্রস্তুতি সম্পন্ন করেছি। এর নাম হবে ‘বঙ্গবন্ধু রিসার্চ ইন্সটিটিউট ফর পিস অ্যান্ড লিবার্টি’। গণতান্ত্রিক ও অসাম্প্রদায়িক মূল্যবোধ বিকাশে বঙ্গবন্ধুর যে কার‌্যাবলী, সেগুলো নিয়ে এই ইন্সটিটিউটে গবেষণা করতে হবে। এছাড়া ‘বঙ্গবন্ধু ও ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়’ নিয়ে একটি ডকুমেন্টারি তৈরি এবং একটি বইয়ের সংকলন করা হচ্ছে, যার সম্পাদনা করবেন জাতীয় অধ্যাপক আনিসুজ্জামান। ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপ-উপাচার্য অধ্যাপক মুহাম্মদ সামাদ অনুষ্ঠানে বলেন, ১৯৪৭ সালের পহেলা ডিসেম্বর বঙ্গবন্ধু ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ে ভর্তি হন। এ বিশ্ববিদ্যালয়কে কেন্দ্র করেই তার রাজনীতি সূচিত হয়েছিল। আমাদের সৌভাগ্য যে, আমরা তার জন্মশতবর্ষ পালন করতে পারছি। পরে বঙ্গবন্ধুকে নিয়ে স্বরচিত কবিতা ‘মুজিব’ আবৃত্তি করেন কবি মুহাম্মদ সামাদ। ডাকসুর ভিপি নূরুল হক নূর অনুষ্ঠানে বলেন, রাজনৈকি ভিন্ন মত থাকবে। কিন্তু জাতির পিতা ও স্বাধীনতার প্রশ্নে এদেশের মানুষ সবাই এক ও অভিন্ন। দল-মত নির্বিশেষে আজকের দিনটি যেন আমরা সবাই শ্রদ্ধার সাথে স্মরণ করি। বঙ্গবন্ধুর প্রতি সম্মান জানাতে আমরা যেন কার্পণ্য না করি। বঙ্গবন্ধুর আদর্শ সবাই ধারণ করলে শুধু দেশকে নয়, পুরো বিশ্বকে শান্তিপূর্ণভাবে গড়ে তোলা সম্ভব হবে বলে তিনি মন্তব্য করেন। বিশ্ববিদ্যালয়ের রেজিস্ট্রার মো. এনামউজ্জামানের সঞ্চালনায় অন্যান্যের মধ্যে কোষাধ্যক্ষ অধ্যাপক মো. কামাল উদ্দিন, শিক্ষক সমিতির সভাপতি অধ্যাপক এএসএম মাকসুদ কামাল, সাধারণ সম্পাদক অধ্যাপক নিজামুল হক ভুঁইয়া, ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় অ্যালামনাই অ্যাসোসিয়েশনের সাধারণ সম্পাদক রঞ্জন কর্মকার, প্রক্টর একেএম গোলাম রব্বানী, ডাকসুর এজিএস সাদ্দাম হোসেন অনুষ্ঠানে বক্তব্য দেন। এর আগে সকাল সাড়ে ৭টায় উপাচার্য মো. আখতারুজ্জামানের নেতৃত্বে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষক, শিক্ষার্থী, কর্মকর্তা ও কর্মচারীরা বঙ্গবন্ধু স্মৃতি জাদুঘরে গিয়ে বঙ্গবন্ধুর প্রতিকৃতিতে পুষ্পস্তবক অর্পণ করেন। এছাড়া দুপুরে বিশ্ববিদ্যালয় কেন্দ্রীয় মসজিদে দোয়া ও মিলাদ হয়। অন্যান্য ধর্মীয় উপাসনালয়েও প্রার্থনার আয়োজন করা হয়।

Please follow and like us:
3