ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন : গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আ.লীগ ও বিএনপি প্রার্থী

ঢাকা-১৮ উপনির্বাচন : গণসংযোগ চালিয়ে যাচ্ছেন আ.লীগ ও বিএনপি প্রার্থী

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা-১৮ আসনের উপ-নির্বাচনে গণসংযোগ অব্যাহত রেখেছেন আওয়ামী লীগ ও বিএনপি মনোনীত প্রার্থীরা। আওয়ামী লীগ মনোনীত প্রার্থী হাবীব হাসান গতকাল বৃহস্পতিবার দিনব্যাপী তুরাগ থানা এলাকায় গণসংযোগ করেন। ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ৫৪ নম্বর ওয়ার্ডের বাড়ি বাড়ি গিয়ে ভোট প্রার্থনা করেন তিনি। এই ওয়ার্ডে রাজধানী ঢাকার উত্তরার একটি অংশের পাশাপাশি বেশ কয়েকটি গ্রামও রয়েছে। গণসংযোগে গিয়ে হাবীব হাসান এলাকার মসজিদ, বাজার এবং পাড়া-মহল্লার উল্লেখযোগ্য মোড়গুলোতে ভোটারদের সঙ্গে কুশল বিনিময় করেন। এ সময় তার সঙ্গে বিপুল সংখ্যক নেতাকর্মী ছিলেন। উল্লেখ্য, ঢাকা-১৮ আসনটি ঢাকা উত্তর সিটি করপোরেশনের ১ ও ১৭ নম্বর ওয়ার্ড, দক্ষিণখান, খিলক্ষেত, তুরাগ, উত্তরা এবং উত্তরখান থানা এলাকা নিয়ে গঠিত। গণসংযোগে ঢাকা মহানগর উত্তর আওয়ামী লীগের সভাপতি শেখ বজলুর রহমান, সাধারণ সম্পাদক এস.এম মান্নান কচি, সাবেক উপ-প্রচার সম্পাদক আজিজুল হক রানা, তুরাগ থানা আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক এমডি হালিম, ৫৩ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর মো. নাসির, ৫৪ নম্বর ওয়ার্ড কাউন্সিলর জাহাঙ্গীর হোসেন যুবরাজ, হরিরামপুর ইউনিয়ন আওয়ামী লীগের সাধারণ সম্পাদক মাহবুবুল ইসলাম ইকবালসহ সহযোগী সংগঠনের থানা ও ওয়ার্ডের নেতারা উপস্থিত ছিলেন। তারা প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বাধীন আওয়ামী লীগ সরকারের উন্নয়ন কর্মকা- তুলে ধরে নৌকাকে বিজয়ী করতে ভোটারদের প্রতি আহ্বান জানান। ওই এলাকায় অলি-গলিতে লিফলেটও বিতরণ করেন তারা।
অন্যদিকে গতকাল বৃহস্পতিবার খিলক্ষেত থানার কুড়াতলি এলাকায় নির্বাচনী গণসংযোগ করেন বিএনপির প্রার্থী এস এম জাহাঙ্গীর হোসেন। এসময় দলীয় নেতাকর্মীদের উদ্দেশে তিনি বলেন, যতই বাধা আসুক আগামী ১২ নভেম্বর ভোটের ফলাফল না হওয়া পর্যন্ত আমরা ভোটকেন্দ্রে থাকব। বিজয় নিয়েই ঘরে ফিরব। জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, প্রতিপক্ষ আওয়ামী লীগের নেতাকর্মীরা প্রথম দিনেই ধানের শীষের গণজোয়ার দেখে ভয়ে ভীত হয়ে প্রতিনিয়ত বাধা দিয়ে আসছে। তিনি বলেন, গত বুধবার প্রধান নির্বাচন কমিশনারের সঙ্গে আমাদের মিটিং ছিল। তারা বলেছে, আপনাদের নেতাকর্মীরা যখন ধানের শীষের ভোট চাইতে বের হয় তখন হাজার হাজার নেতাকর্মী গণসংযোগে বের হন। এলাকার রাস্তাঘাট ভালো না, এলাকার উন্নয়ন নেই, নেতাকর্মী কম করে নিয়েন। তখন আমি বলেছি, দেশনেত্রী খালেদা জিয়া ১৯৯১ সালের নির্বাচনে জয়ী হয়ে এই এলাকার যত উন্নয়ন সব তিনি করেছেন। আর কেউ উন্নয়ন করেনি। তাই আমরা বিশ্বাস করি, আাগামী ১২ নভেম্বর জনগণ ঐক্যবদ্ধভাবে ভোটকেন্দ্রে গিয়ে ভোট দেবেন। আর আমাদের নেতাকর্মীরা পোলিং এজেন্ট হিসেবে ভোটকেন্দ্রে থাকবেন। সকাল সকাল কেন্দ্রে যাবেন। রেজাল্ট হাতে না পাওয়া পর্যন্ত কেন্দ্রে অবস্থান করবেন। বিএনপির এই প্রার্থী আরো বলেন, গত ১২ বছর ধরে জনগণ ভোট দিতে পারছে না। আমাদের নেত্রী খালেদা জিয়া জনগণের ভোটাধিকার ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য আন্দোলন করে আসছেন। আমাদের নেত্রী বলেছেন, স্বাধীনতা যুদ্ধে আমরা জীবন দিয়েছি, তেমনি গণতন্ত্র ও ভোটাধিকার ফিরিয়ে আনতে আমরা প্রয়োজনে আবারও জীবন দেব। গণসংযোগকালে এস এম জাহাঙ্গীরের সঙ্গে ছিলেন বিএনপি নেতা ইশরাক হোসেন, রাজীব আহসান, আকরামুল হাসান, মহানগর বিএনপি নেতা কাজী হযরত আলী, ছাত্রদলের যুগ্ম সাধারণ সম্পাদক আমিনুর রহমান আমিন, ঢাকা মহানগর উত্তর স্বেচ্ছাসেবক দলের সভাপতি ফকরুল ইসলাম রবিন, সাধারণ সম্পাদক গাজী রেজাউল হক রিয়াজ প্রমুখ। প্রসঙ্গত, আগামী ১২ নভেম্বর ঢাকা-১৮ আসনে উপ-নির্বাচন অনুষ্ঠিত হবে। এ আসনের উপনির্বাচন ইলেকট্রনিক ভোটিং মেশিনে (ইভিএম) অনুষ্ঠিত হবে। করোনাকালীন স্বাস্থ্যবিধি মেনে ভোট হবে। আওয়ামী লীগের সভাপতিম-লীর সদস্য অ্যাডভোকেট সাহারা খাতুনের মৃত্যুতে শূন্য হয় আসনটি।

Please follow and like us: