শুক্র. আগ ২৩, ২০১৯

ঢাকায় হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ফুলের মেলা

ঢাকায় হয়ে গেল আন্তর্জাতিক ফুলের মেলা

Last Updated on

কৃষি ও কৃষক প্রতিবেদন : ফুল নিয়ে রবীন্দ্রনাথ ঠাকুরের সুরের মূর্ছনা আমাদের বিমোহিত করে। আন্দোলিত করে ভেতর জগৎ। কী অদ্ভুত বর্ণনা! ‘ফুলে ফুলে ঢলে ঢলে বহে কিবা মৃদু বায়/ তটিনীর হিল্লোল তুলে কল্লোলে চলিয়া যায়’।
গত বৃহস্পতিবার থেকে শনিবার-এই তিন দিন ফুলেদের ঢল নেমেছিল ঢাকায়। নগরের ব্যস্ত দিনে অনেকটা মৃদুলয়ে বঙ্গবন্ধু আন্তর্জাতিক সম্মেলন কেন্দ্রে এক হয়েছিল দেশ-বিদেশের রূপসী ফুলেরা। রূপসীর তুলনা যদি চলে ফুলের সঙ্গে, তবে ফুলের তুলনা কেন রূপসীতে নয়! তিন দিনের আন্তর্জাতিক ফুল মেলার আয়োজক ছিল ঢাকা চেম্বার অব কমার্স অ্যান্ড ইন্ডাস্ট্রি (ডিসিসিআই)। আর এই নান্দনিক ফুলগুলোর প্রায় সবই এসেছে বিভিন্ন দেশের কৃষকদের ফলানো বাগান থেকে।
গ্রামে যাদের শৈশব কেটেছে, দেশি ফুল বা ফুলের সুবাস তাদের কাছে অপরিচিত নয়। ফুল-পাতা ও পাখির সঙ্গে মিতালি করে তাদের দুরন্ত শৈশব কেটেছে। কিন্তু ইটপাথরের এই নগরে গাছ কোথায়, আর ফুলই বা কোথায়! ঘুরেফিরে কৃষ্ণচূড়া, রাধাচূড়া আর সোনালু। কাঠগোলাপের সাদা মায়া মাঝেমধ্যে চোখে পড়ে। তাও-বা কজন চেনে। বিশেষ করে এই প্রজন্মের ছেলেমেয়েরা? টবে, নার্সারিতে ফুল দেখে আর কতটুকুই বা চেনা যায়! হাতেগোনা কয়েকটি স্কুলের আঙিনা আছে। সেখানে হয়তো সীমিত পরিসরে বাগান আছে। কিন্তু সুবাসে মাতোয়ারা হওয়ার মতো সুবাস হয়তো নেই।
নগরীকে সুবাসিত করতে লাল-নীল, হলুদ-গোলাপি, সাদা-বেগুনিসহ নানা রঙ আর বিচিত্র ফুলের সমাহারে মুগ্ধ হয়েছে নগরবাসীর মন। ফুলপ্রেমী বড়দের পাশাপাশি শিশুদের উপস্থিতিও ছিল চোখে পড়ার মতো। বাবা-মায়ের হাত ধরে আসা ফুলগুলো চকিতেই ফুলের মাঝে হারিয়ে যাচ্ছিল যেন। তবে অনন্য এই আয়োজন বেশি টেনেছে তরুণ-তরুণীদের। ফুলের মতো মন যাদের।
ঢাকার মনিপুর উচ্চ বিদ্যালয়ের সপ্তম শ্রেণীর শিক্ষার্থী আল আমিন। ফুলের গন্ধে ঘুম এসে যাচ্ছিল তার। বাবার হাত ধরে ফুল উৎসবে এসেছে সে। আল আমিন জানায়, ঢাকায় ফুলগাছ বা ফুল চাষ দেখার সুযোগ নেই। তাই সব ফুলের সঙ্গে সে পরিচিত নয়। মেলায় এসে যেমন ফুল দেখতে পেয়েছে, তেমনি প্রাণ ভরে ফুলের ঘ্রাণও নিয়েছে। খুব ভালো কেটেছে তার সময়।
অস্থায়ী বাগান গড়ে তুলেছিল মেলায় অংশ নেওয়া বিভিন্ন প্রতিষ্ঠান। নানা প্রজাতির ফুল ও ফুলের গাছ কেনার সুযোগ ছিল। চারাগাছ বিক্রি হয়েছে ১০০ থেকে ১৫০ টাকায়। আবার ৩০০ থেকে দেড় হাজার টাকাতেও মিলেছে বিদেশি ফুলের চারা।
বাংলাদেশ ছাড়াও ভারত, নেপাল, থাইল্যান্ডসহ ৭০টি দেশের প্রতিনিধিরা এতে অংশ নিয়েছিল। একই ছাদের নিচে পছন্দের রঙ আর গন্ধের ফুল পেয়ে খুশি ছিল দর্শনার্থীরা। খুশি বিক্রেতারাও। বিক্রেতাদের মধ্যে ফুলচাষী অনেক নারীও ছিলেন। ফুল চাষ যাদের জীবনে পরিবর্তন এনেছে। স্বাবলম্বী করেছে। তবে এসব উদ্যোক্তার চাওয়া সরকার যদি তাদের জন্য বিশেষ প্রণোদনার ব্যবস্থা ও নীতিমালা করে, তবে তারা আরও এগিয়ে যেতে পারবেন। আয়োজকরা জানান, বিশ্বে ফুলের বাজার প্রতি বছর ১০ শতাংশ হারে বাড়ছে। বাংলাদেশে সে তুলনায় বাজার ও চাষ বাড়ছে না। সরকার বিশেষ নজর দিলে এ খাত থেকেও রপ্তানি আয় বাড়ানো সম্ভব।

Please follow and like us:
2