ঢাকাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা অভিযানে নিহত ১০

নিজস্ব প্রতিবেদক : স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খান কামাল ঢাকাকে মাদকমুক্ত করার ঘোষণা দিয়েছেন। স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেছেন, ‘ঢাকা বাংলাদেশের দর্পণ ও প্রাণকেন্দ্র। ঢাকাকে মাদকমুক্ত ঘোষণা করতে চাই।’ গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানী ঢাকার ফার্মগেটে ঢাকা মহানগর পুলিশের (ডিএমপি) মাদকবিরোধী অভিযানের উদ্বোধনী অনুষ্ঠানে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী এসব কথা বলেন।
আসাদুজ্জামান খান বলেন, ‘মাদকের আগ্রাসন আমাদের চিন্তায় ফেলেছে। প্রধানমন্ত্রী মাদকের বিরুদ্ধে কঠোর অবস্থান নেওয়ার কথা বলেছেন। তারই ধারাবাহিকতায় মাদকবিরোধী অভিযান চলছে।’ স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, একটি পরিবারে কেউ মাদকাসক্ত থাকলে সেই পরিবার হাড়ে হাড়ে টের পায় মাদকের ভয়াবহতা। মাদক নির্মূল করতে সবার সহযোগিতার প্রয়োজনের কথা উল্লেখ করে মন্ত্রী বলেন, ‘মাদক নির্মূল করতে সবার সহযোগিতা চাইছি। মাদককে ‘না’ বলতে শিখতে হবে। যারা মাদক ব্যবসা করে, তাদের কোনো স্থান নেই।’ যেকোনো মূল্যে মাদকের আগ্রাসন থেকে মানুষকে রক্ষা করার ঘোষণা দেন মন্ত্রী। মাদক নির্মূলে সব গোয়েন্দা সংস্থা কাজ করছে উল্লেখ করে আসাদুজ্জামান খান বলেন, গোয়েন্দারা মাদক ব্যবসায়ীদের তালিকা তৈরি করছেন। সে অনুযায়ী সবাইকে আইনের আওতায় আনা হবে। তাদের অবশ্যই শাস্তি পেতে হবে। মাদক সমস্যার সমাধানে পরিবারের ভূমিকার কথা উল্লেখ করে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী বলেন, ‘আপনার ছেলে, মেয়ে, ভাই কী করছে, তা দেখবেন। যারা মাদক ব্যবসা করছে, তাদের তথ্য দেবেন। আমরা সবাই মিলে মাদকমুক্ত বাংলাদেশ গড়ার চেষ্টা করব।’ অনুষ্ঠানে ডিএমপি কমিশনার আছাদুজ্জামান মিয়া, ডিএমপির কাউন্টার টেররিজম অ্যান্ড ট্রান্সন্যাশনাল ক্রাইম ইউনিটের প্রধান মনিরুল ইসলাম, ডিএমপির যুগ্ম কমিশনার আবদুল বাতেনসহ পুলিশের উচ্চপর্যায়ের কর্মকর্তারা উপস্থিত ছিলেন। সারাদেশে চলমান মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে দেশের সাত জেলায় আরো অন্তত ১০ জন গুলিতে নিহত হয়েছে। এর মধ্যে কথিত বন্দুকযুদ্ধে পুলিশের গুলিতে ফেনীতে দু’জন, কুমিল্লায় দু’জন এবং নারায়ণগঞ্জ ও ব্রাহ্মণবাড়িয়া একজন করে মোট ছয়জন নিহত হয়েছে।
পুলিশের দাবি, নিহতরা সবাই মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল। কারও কারও বিরুদ্ধে থানায় মাদক আইনে একাধিক মামলাও রয়েছে। এছাড়া মাগুরায় দু’জন এবং সাতক্ষীরা ও কক্সবাজারে একজন করে মোট চারজনের গুলিবিদ্ধ লাশ পাওয়ার কথা জানিয়ে পুলিশ বলেছে, ঘটনাস্থলে মাদক থাকায় ওই তিনজনও মাদক চোরাকারবারে জড়িত ছিল বলে তারা সন্দেহ করছে। গত বুধবার রাত থেকে বৃহস্পতিবার সকালের মধ্যে কথিত এসব বন্দুকযুদ্ধ ও গোলাগুলির ঘটনা ঘটে বলে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর ভাষ্য। মাদকবিরোধী অভিযানের মধ্যে আইনশৃঙ্খলা বাহিনীর কথিত এই বন্দুকযুদ্ধে গত ছয় দিনে অন্তত ৪৫ জনের মৃত্যু হল দেশের বিভিন্ন জেলায়। এসব ‘বন্দুকুদ্ধের’ যে বিবরণ আইনশৃঙ্খলা বাহিনী দিয়ে আসছে, তা মোটামুটি একই রকম। তাদের দাবি, অভিযানের সময় মাদক চক্রের সদস্যরা গুলি চালালে পাল্টা গুলিবর্ষণ হয়, তাতেই এদের মৃত্যু ঘটে। তবে বিভিন্ন সময়ে নিহতদের পরিবারের পক্ষ থেকে অভিযোগ এসেছে, ধরে নিয়ে হত্যা করা হয় তাদের স্বজনদের। মানবাধিকার সংগঠনগুলো এসব বন্দুকযুদ্ধ বা ক্রসফায়ারের ঘটনাকে ‘বিচারবহির্ভূত হত্যা’ হিসেবে বর্ণনা করে তা বন্ধের দাবি জানিয়ে আসছে। মাদকের বিস্তার নিয়ে উদ্বেগ থাকলেও আইনশৃঙ্খলা বাহিনী যেভাবে তা দমন করছে- তা নিয়ে সংশয় প্রকাশ করে হতাহতের ঘটনায় উদ্বেগ প্রকাশ করছেন মানবাধিকারকর্মীরা। অন্যদিকে স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল মঙ্গলবার বলেছেন, ‘আমাদের মাননীয় প্রধানমন্ত্রীর স্পষ্ট নির্দেশনা, এই ব্যাপারে জিরো টলারেন্স; সে সংসদ সদস্য হোক, সরকারি কর্মকর্তা হোক, নিরাপত্তা বাহিনীর কর্মকর্তা হোক, যেই হোক, ইভেন সাংবাদিক হোক, কাউকে আমরা ছাড় দেব না।’

Please follow and like us:
0