শনি. সেপ্টে ২১, ২০১৯

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে, যশোর ও খুলনায় আরও দুই নারীর মৃত্যু

ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে, যশোর ও খুলনায় আরও দুই নারীর মৃত্যু

Last Updated on

বিশেষ সংবাদদাতা : রাজধানীসহ সারা দেশে ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমেছে। তবে এই সময়ে যশোর ও খুলনায় ডেঙ্গু আক্রান্ত দুই নারীর মৃত্যু হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় দেশের সরকারি, বেসরকারি ও স্বায়ত্ত্বশাসিত হাসপাতালে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত হয়ে নতুন ভর্তি রোগীর সংখ্যা ৬৩৪ জন। তাদের মধ্যে রাজধানীর ৪১টি হাসপাতালে ২২১ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৬৩ জন নতুন ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন। পূর্ববর্তী ২৪ ঘণ্টায় ঢাকায় ২৯৪ জন ও ঢাকার বাইরে ৪৫৯ জনসহ ডেঙ্গু রোগী ভর্তি হয়েছেন ৭৫৩ জন। সে হিসোবে গত ২৪ ঘণ্টায় রোগীর সংখ্যা ১১৯ জন কমেছে। চলতি বছরের ১ জানুয়ারি থেকে গতকাল ১১ সেপ্টেম্বর পর্যন্ত সারা দেশে ডেঙ্গু জ্বরে আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৭৮ হাজার ৬১৭ জন।
যশোরে নারীর মৃত্যু : যশোরের মণিরামপুরে ডেঙ্গুজ¦রে আক্রান্ত হয়ে জাহিদা খাতুন (৩৬) নামের এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। গতকাল বুধবার বেলা ১১টার দিকে যশোর ২৫০ শয্যা জেনারেল হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় তার মৃত্যু হয়। জাহিদার বাড়ি মণিরামপুরের হায়াতপুর গ্রামে। হাসপাতালের জরুরি বিভাগে দায়িত্বরত চিকিৎসক ডা. কল্লোল কুমার সাহা জানান, গত ৯ সেপ্টেম্বর ওই নারীর ডেঙ্গু ধরা পড়লে হাসপাতালে ভর্তি হন। এরপর থেকে তিনি চিকিৎসাধীন। এ অবস্থায় গতকাল বুধবার তার মৃত্যু হয়।
খুলনা মেডিকেলে নারীর মৃত্যু : মশাবাহিত রোগ ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসাধীন অবস্থায় খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এক নারীর মৃত্যু হয়েছে। হাসপাতালের আবাসিক ফিজিসিয়ান (আরপি) শৈলেন্দ্রনাথ বিশ্বাস বলেন, গত মঙ্গলবার রাত সাড়ে ১১ টার দিকে রহিমা বেগম (৫০) নামে ওই নারীর মৃত্যু হয়। এর আগে সোমবার বিকালে রহিমাকে ডেঙ্গু ওয়ার্ডে ভর্তি করা হয়েছিল বলে জানান তিনি। রহিমা সাতক্ষীরা জেলার তালা উপজেলার আজরাইল গ্রামের রফিকুল ইসলাম মোড়লের স্ত্রী। সরকারি তথ্য অনুযায়ী, চলতি বছর এ পর্যন্ত ৭৭ হাজার ২৩০ জন ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন। এই সময়ের মধ্যে স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ, গবেষণা ইনস্টিটিউটে (আইইডিসিআর) ডেঙ্গু সন্দেহে ১৯২টি মৃত্যুর তথ্যে এসেছে। এর মধ্যে ১০১টি মৃত্যু পর্যালোচনা করে ৬০ জনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু নিশ্চিত করেছে আইইডিসিআর।
ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক বেশি সফল: স্থানীয় সরকার মন্ত্রী : ডেঙ্গুতে মৃত্যুবরণকারী উন্নত বিশ্বের দেশগুলোর সঙ্গে তুলনা করলে দেখা যায় ডেঙ্গু নিয়ন্ত্রণে আমরা অনেক বেশি সফল। কারণ আমাদের জনসংখ্যার ঘনত্ব তাদের চেয়ে অনেক বেশি। সেই তুলনায় আমাদের সিটি করপোরেশন, স্বাস্থ্য মন্ত্রণালয় চিকিৎসকেরা অনেক বেশি পরিশ্রম করে ভালো কাজ করেছেন এবং অনেক বেশি সফল হয়েছেন। গতকাল বুধবার দুপুর সাড়ে ১২টায় গাবতলী কাঁচাবাজারে অবস্থিত সিটি করপোরেশন কার্যালয়ে বেলারুশ থেকে আমদানি করা যানবাহন পরিদর্শনে এসে এ মন্তব্য করেন স্থানীয় সরকার, পল্লী উন্নয়ন ও সমবায় মন্ত্রী তাজুল ইসলাম। স্থানীয় সরকারমন্ত্রী বলেন, সময়ের ব্যবধানে ঢাকা শহর ও প্রত্যন্ত অঞ্চলে ডেঙ্গুর প্রাদুর্ভাব দেখা দিয়েছে এটা বিচিত্র কিছু নয়। ঢাকা শহরের ঘনত্ব অনেক বেশি হওয়ায় আমরা ঢাকা শহরে ডেঙ্গু রোধে কাজ করেছি। এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে সারাবিশ্বে জনসচেতনতাই সবচেয়ে বেশি জরুরি। যে দেশগুলো এডিস মশা নিয়ন্ত্রণে নাগরিক দায়িত্বগুলো সঠিকভাবে পালন করছে তারা এডিস মশা নিয়ন্ত্রণ সফল হয়েছে। তিনি বলেন, ঢাকা শহরে ডেঙ্গুর যে প্রাদুর্ভাব ছিল বর্তমানে তা অনেকটাই কমেছে। আমাদের দুই সিটি করপোরেশন জনগণকে সম্পৃক্ত করে কাজ করেছে বলেই ডেঙ্গু কমেছে। এডিস মশার লার্ভা যেখানে জন্ম হয়েছে সেখানেই ধ্বংস করা হয়েছে। ঢাকা থেকে গ্রামেগঞ্জে ডেঙ্গু মশার বিস্তার হতেই পারে। ডেঙ্গু রোধে এখন বছরব্যাপী কাজ করা হচ্ছে। এখন নভেম্বর-ডিসেম্বর নয় অথবা মার্চ-এপ্রিল নয় সারাবছরই ডেঙ্গু রোধে কাজ করা হবে। সারাদেশের পৌরসভাগুলোতে এডিস মশা রোধে কী উদ্যোগ নেওয়া হচ্ছে এমন প্রশ্নের উত্তরে মন্ত্রী বলেন, এই চ্যালেঞ্জে বিশ্বব্যাপী। পৌরসভাগুলো সক্ষমতা বাড়াতে হবে। পৌরসভার কর্মকর্তা-কর্মচারীরা তাদের বেতন-ভাতার জন্য আন্দোলন করেছেন, আমি তাদের সঙ্গে কথা বলেছি। আমি বলেছি আপনারা স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী করার কথা বলেন, অথচ নির্ভর করেন সরকারের উপর। তাহলে স্থানীয় সরকার ব্যবস্থা শক্তিশালী কীভাবে হবে। আপনাদের নিজস্ব আয় বাড়াতে হবে। যে দেশে মানুষের মাথাপিছু আয় প্রায় দুই হাজার ডলার, সেদেশের পৌরসভা পরনির্ভরশীল হওয়ার কোনো কারণ নেই বলে আমি মনে করি। পল্লী উন্নয়ন মন্ত্রী বলেন, ডেঙ্গু মশা নিয়ন্ত্রণ করার জন্য আমরা স্থানীয় সরকার থেকে পৌরসভাকে কিছু টাকা বরাদ্দ দিয়েছে। আমরা টেলিভিশনে বিজ্ঞাপন প্রচার করছি ডেঙ্গু রোধ করার জন্য। এটা তো শুধু ঢাকা শহরের জন্য না সারা বাংলাদেশের জন্য। ডেঙ্গুর বিরুদ্ধে আমাদের কর্মকা- অব্যাহত থাকবে।

Please follow and like us:
2