শনি. জুলা ২০, ২০১৯

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানো চবি ছাত্রের সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ

ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানো চবি ছাত্রের সুচিকিৎসার দাবিতে বিক্ষোভ

Last Updated on

চট্টগ্রাম প্রতিনিধি : শাটল ট্রেনে কাটা পড়ে দুই পা হারানো রবিউল আলমের চিকিৎসা ব্যয় বহন ও শিক্ষার্থীদের পরিবহন সংকট নিরসনের বিভিন্ন দাবিতে বিক্ষোভ করেছে চট্টগ্রাম বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা। গতকাল বৃহস্পতিবার সকাল থেকে বিশ্ববিদ্যালয়ের শিক্ষার্থীরা শহীদ মিনারে মানববন্ধন, উপাচার্যের কার্যালয়ের সামনে অবস্থান ও স্মারকলিপি প্রদানের মতো কর্মসূচি পালন করেছে। গত বুধবার সকালে নগরীর ষোলশহর রেল স্টেশনে ট্রেনে উঠার সময় হাত ফসকে নিচে পড়ে যান চবির সমাজতত্ব বিভাগের মাস্টার্সের ছাত্র রবিউল আলম। এতে তার দুই পাই কাঁটা পড়ে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে বিশ্ববিদ্যালয়ের কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানববন্ধন করে একদল সাধারণ শিক্ষার্থী, যেখানে সব বাম ছাত্রসংগঠনের নেতাকর্মীরাও অংশ নেন। এরপর সেখানে সমবেত শিক্ষার্থীরা বেলা সাড়ে ১১টায় উপচার্যের কার্যলয়ের সামনে অবস্থান নেয়। ‘সাধারণ শিক্ষার্থীবৃন্দ’র ব্যানারে উপাচার্যকে স্মারকলিপি দিয়ে তারা কর্মসূচি শেষ করে। এরপর একই দাবিতে শহীদ মিনারে আরেক মানববন্ধনের আয়োজন করে চবি ছাত্রলীগের নেতাকর্মীরা। এতে কয়েক হাজার সাধারণ ছাত্র-ছাত্রী অংশগ্রহণ করে। তারা রবিউল আলমের চিকিৎসার ব্যয়ভার বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনের বহন করাসহ তার চাকরির নিশ্চয়তা প্রদান, শাটল ট্রেন ও বগির সংখ্যা বৃদ্ধি করা, শিক্ষার্থী বাস সার্ভিস চালু করা এবং শাটল ট্রেনে নিরাপত্তা নিশ্চিত করার দাবি জানান। মানববন্ধনে চবি ছাত্রলীগের বিলুপ্তি কমিটির সহ-সভাপতি রেজাউল হক রুবেল বলেন, রবিউল আলমের চিকিৎসার ব্যয়ভার বহন করে তার চাকুরির জন্য বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসনের প্রতি ছাত্রলীগের পক্ষ থেকে দাবি জানাচ্ছি। ভবিষ্যৎতে যেন এমন ঘটনা না ঘটে সে জন্য প্রশাসনকে পর্যাপ্ত পদক্ষেপ নেওয়ার আহ্বান জানাই। ওই কমিটির সাধারণ সম্পাদক ফজলে রাব্বী সুজন বলেন, যখন ছাত্র সংখ্যা ১০ হাজার ছিল তখন বগির সংখ্যা ছিল পাঁচটি আজ ২৪ হাজার শিক্ষার্থীর জন্য পাঁচটি বগি কেন? এসময় শিক্ষার্থীরা ‘একদফা একদাবি, শাটলের ১২ বগি’, আমার ভাইয়ের পা গেল, প্রশাসন চুপ কেন?’, ‘না ঝরলে রক্ত, কেন হয় না বিবেক জাগ্রত? প্রশাসন জবাব চাই’, ‘বহিরাগত মুক্ত শাটল ট্রেন চাই’, ‘শাটল ট্রেনে মালবাহি বগি, ছাত্র-ছাত্রী ভুক্তভোগী’, ইত্যাদি লেখা প্ল্যার্কাড নিয়ে আসেন। বেলা দেড়টার দিকে ছাত্রলীগ আয়োজিত কর্মসূচিও শেষ হয়। প্রসঙ্গত, চট্টগ্রাম নগরী থেকে প্রায় ২২ কিলোমিটার দূরের চবি ক্যাম্পাসে নিয়মিত এক জোড়া শাটল ট্রেন এবং একটি ডেমু ট্রেন চলাচল করে। নগরী থেকে ক্যাম্পাসে যেতে এটিই শিক্ষার্থীদের মূল বাহন। এরমধ্যে শাটল ট্রেন দিন ভেদে পাঁচ থেকে সর্বোচ্চ আটটি বগি থাকে।

Please follow and like us:
2