Published On: বুধবার ১৩ জুন, ২০১৮

ট্রাম্প কন্যা ইভাঙ্কার ‘চীনা প্রবাদ’ নিয়ে ধোঁয়াশা

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম টুইটারে পোস্ট করা মার্কিন প্রেসিডেন্ট ডোনাল্ড ট্রাম্পের মেয়ে ও উপদেষ্টা ইভাঙ্কা ট্রাম্পের এক প্রবাদ নিয়ে ধোঁয়াশা সৃষ্টি হয়েছে। উত্তর কোরিয়ার শীর্ষ নেতা কিম জং উনের সঙ্গে ঐতিহাসিক বৈঠকে বাবা ডোনাল্ডের অংশ নেওয়াকে সমর্থন জানিয়ে লেখা ইভাঙ্কার ওই প্রবাদের উৎস নিয়ে চলছে নানান আলোচনা। ট্রাম্পকন্যা একে ‘চীনা প্রবাদ’ বললেও, অনেকের দাবি, চীনে নয় প্রবাদটির উৎপত্তি পশ্চিমে। সিঙ্গাপুর সফরে বাবাকে সঙ্গ না দিলেও সম্মেলনের প্রাক্কালে হোয়াইট হাউসের উপদেষ্টা ইভাঙ্কার এই ‘চীনা প্রবাদ’ নিয়ে খোদ চীনেই বিভ্রান্তি সৃষ্টি হয়েছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স।
“যারা বলে এটি করা যাবে না, সেটি করার সময় বাধা দেওয়াও তাদের উচিত হবে না,” ইভাঙ্কা তার টুইটে ‘চীনের এই প্রবাদের’ কথা উল্লেখ করলেও ‘এটি’ বলতে আদতে কী বুঝিয়েছেন, তার উল্লেখ করেননি। শুনতে ‘চীনা কোনো ঋষির কাছ থেকে জ্ঞান আহরণের’ মতো শোনালেও প্রবাদটি চীনের নয় বলেই ধারণা বেশিরভাগ চীনা নাগরিকের।
প্রবাদটির উৎস নিয়ে চীনের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতে তুমুল বিতর্কে চলছে বলে জানিয়েছে রয়টার্স। চীনে টুইটার নিষিদ্ধ হওয়ায় মঙ্গলবার থেকে নিজেদের সামাজিক যোগাযোগমাধ্যমগুলোতেই চীনা নাগরিকরা ইভাঙ্কার টুইটের স্ক্রিনশট শেয়ার দিয়ে প্রবাদের উৎস নিয়ে নানান ধরনের মন্তব্য করছেন, চলছে আলোচনা-সমালোচনা। চীনা সামাজিক যোগাযোগমাধ্যম উইবুতে এক ব্যবহারকারী লিখেছেন, ট্রাম্পকন্যার লেখা প্রবাদটি এসেছে আইরিশ নাট্যকার জর্জ বার্নার্ড শ-র কাছ থেকে। আরেকজনের দাবি, মার্কিন ঔপন্যাসিক জেমস বল্ডউইন-ই প্রবাদটির স্রষ্টা। বিভিন্ন উদ্ধৃতির উৎস নিয়ে কাজ করা ওয়েবসাইট কোট ইনভেস্টিগেটরের ধারণা, বিংশ শতাব্দীর শুরুর দিকে শিকাগোর ইলিনয়ে এই ধরনের কথাবার্তা ও অভিব্যক্তির চল ছিল। “আসলে পশ্চিমারা চীনা প্রবাদ সাজাতে পছন্দ করে, যেমনটা আমরাও ওদের অনেক কথাবার্তা নিয়ে করি,” কৌশলী মন্তব্য এক উইবু ব্যবহারকারীর। কোরীয় যুদ্ধের পর থেকে ওয়াশিংটন ও পিয়ংইয়ংয়ের মধ্যে বিদ্যমান বৈরি সম্পর্কের অবসানে ট্রাম্প-কিমের বৈঠক ঘিরে সারা বিশ্বেই ছিল তুমুল কৌতুহল। এর মধ্যেই ইভাঙ্কার ওই টুইট চীনাদের দিয়েছে নতুন আলোচনার খোরাক। কয়েক মাস আগেও যে দৃশ্যটি ছিল অকল্পনীয় মঙ্গলবার সিঙ্গাপুরের সানতোসা দ্বীপের কাপেলা হোটেলে একে অপরের সঙ্গে হাত মিলিয়ে সেই দৃশ্যের অবতারণা করে বাহবা কুড়িয়েছেন যুক্তরাষ্ট্র ও উত্তর কোরিয়ার দুই রাষ্ট্রপ্রধান। বৈঠকের পর ট্রাম্প উত্তর কোরীয় নেতার সঙ্গে ‘বিশেষ সম্পর্ক’ তৈরি হয়েছে বলে দাবি করেছেন। অন্যদিকে কিম বলছেন, যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে শীর্ষ বৈঠক ‘শান্তির জন্য উৎকৃষ্ট উপলক্ষ’। অথচ কয়েক মাস আগেও দুই নেতার মুখে ছিল ভিন্ন সুর। সে সময় চলা কথার লড়াইয়ের এক পর্যায়ে উত্তর কোরিয়ার নেতাকে ‘লিটল রকেট ম্যান আত্মঘাতী মিশনে নেমেছেন’ বলে উপহাস করেছিলেন ট্রাম্প। পাল্টা বক্তব্যে কিম মার্কিন প্রেসিডেন্টকে ‘ভিমরতিগ্রস্ত বুড়ো’ অ্যাখ্যা দিয়েছিলেন।

Leave a comment

XHTML: You can use these html tags: <a href="" title=""> <abbr title=""> <acronym title=""> <b> <blockquote cite=""> <cite> <code> <del datetime=""> <em> <i> <q cite=""> <strike> <strong>

Videos