সোম. এপ্রি ৬, ২০২০

ট্রাম্পের ভারত সফর: চুক্তি নিয়ে চাপের খেলা

ট্রাম্পের ভারত সফর: চুক্তি নিয়ে চাপের খেলা

Last Updated on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক : ডোনাল্ড ট্রাম্পের ভারত সফরের আগে হাতে আর মাত্র এক সপ্তাহ। এখনও অনিশ্চিত বাণিজ্য চুক্তি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের দু’দিনের সফরে কোনো বাণিজ্য চুক্তি কি হতে পারে? এমন প্রশ্নে অসম্ভব বলছে না ভারতের পররাষ্ট্রমন্ত্রণালয়। তবে স্পষ্ট করে তারা জানিয়েছে, চুক্তি এখনও অনিশ্চিত। কারণ, বাণিজ্য চুক্তির ক্ষেত্রে গত এক বছর ধরে যে জটগুলি পাকিয়ে রয়েছে, এখনও সেগুলির সমাধান করা সম্ভব হয়নি। খবর আনন্দবাজারের।

বস্তুত, নিজেদের পক্ষে কতটা সুবিধাজনক শর্তে চুক্তি করা যায়, তা নিয়ে দু’তরফেই চলছে চাপের খেলা। যুক্তরাষ্ট্র চাইছে পিৎজা, চিজসহ আরও বেশ কিছু খাদ্যপণ্যের জন্য ভারতের বাজার খুলে দেওয়া হোক। ভারতের চাষি-পশুপালকদের কথা ভেবে মোদি সরকার তাতে নারাজ।

ট্রাম্প চাইছেন, হৃদরোগের চিকিৎসার জন্য স্টেন্টের দামে যে ঊর্ধ্বসীমা মোদি সরকার বেঁধে দিয়েছে, তা তুলে নেওয়া হোক। তাতে মার্কিন সংস্থার ফায়দা হলেও আম ভারতীয়ের ক্ষোভ বাড়বে। এ কারণে ভারত রাজি নয় এই দাবি মানতে।

বিশ্ব হিন্দু পরিষদ তথা আরএসএস এর পক্ষ থেকেও ভারতের প্রধানমন্ত্রী নরেন্দ্র মোদির ওপর চাপ রয়েছে। তাদের সাফ কথা, যুক্তরাষ্ট্রের শর্তে ভারতের বাজার হাট করে খুলে দেওয়া চলবে না। মোদি সরকার চাইছে, ভারত থেকে রফতানি করা ইস্পাত, অ্যালুমিনিয়াম থেকে বাড়তি শুল্ক তুলে নিন ট্রাম্প। ভারতের কৃষিজ ও ইঞ্জিনিয়ারিং পণ্যে আরও বেশি করে মার্কিন বাজার খুলে দেওয়া হোক।

গোটা বিষয়টি যে ক্রমশ অনিশ্চয়তার পথে চলেছে তার একটি বড় প্রমাণ হল মার্কিন বাণিজ্য প্রতিনিধি রবার্ট লাইটথাইজার এর শেষ মুহূর্তে ভারত সফর বাতিল করা। স্থির ছিল, ট্রাম্প আসার আগে ভারতে এসে বাণিজ্যমন্ত্রী পীযূষ গয়ালের সঙ্গে দ্বিপাক্ষিক আলোচনার মাধ্যমে বাণিজ্য চুক্তিটির রূপরেখা তৈরি করবেন। সেই মতো প্রস্তুতি নিচ্ছিল সাউথ ব¬কও। কিন্তু সূত্রের খবর, ওয়াশিংটনের পক্ষ থেকে দুঃখপ্রকাশ করে সফরটি বাতিল করা হয়েছে।

ভারতের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এক কর্মকর্তা বলেন, ‘আমরা যুক্তরাষ্ট্রের সঙ্গে কথা বলে যা স্থির করেছিলাম, তার থেকেও ওদের চাহিদা বেড়েই চলেছে। আমরা ভারত-মার্কিন বাণিজ্য ঘাটতি কমাতে সে দেশ থেকে শেল তেল আমদানি দ্বিগুণ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি। মার্কিন প্রেসিডেন্টের ভারত সফরকে মাইলফলক করে তুলতে সেদেশের বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ের এবার দায়িত্ব, দু’দেশের পক্ষেই মেনে নেওয়া সম্ভব এমন চুক্তি প্রস্তাব আনা।’

চুক্তি যে একেবারেই সম্ভব নয়, এমনটাও অবশ্য মনে করছে না ভারত। কারণ, এই চুক্তি নিয়ে ঘরোয়া রাজনৈতিক কিছু বাধ্যবাধকতা রয়েছে ট্রাম্পেরও। তার দিক থেকে শেষ পর্যন্ত চেষ্টা থাকবে কিছু একটা করার। এটা ঠিক, ভারত বাণিজ্যিক ভাবে চীনের মত গুরুত্বপূর্ণ নয়। কিন্তু যুক্তরাষ্ট্রের পক্ষে সুবিধাজনক শর্তে চুক্তি করতে ভারতকে রাজি করাতে পারলে, সেটা টাম্পের ভোট প্রচারের ঝুলিতে কিছুটা অক্সিজেন জোগাতে পারে। ট্রাম্প দেখাতে চাইছেন, ‘আমেরিকা ফার্স্ট’ নীতিতে অটল রয়েছেন তিনি।

Please follow and like us:
3