জালোত মাছ নাই, তাই হামার ঈদও নাই

রংপুর প্রতিনিধি : সকাল থাকি নদীত মাছ মারোচি, মাছ তো আর পাওছিনা। মাছ না পাইলে বউ ছইলের জন্যে ঈদের কেনাকাটা কেমন করি হইবে? কথাগুলো বলছিলেন দামোদরপুর ইউনিয়নের যমুনেশ্বরী নদীবর্তী এলাকার জেলে ইয়াকুব আলি (৪৮)।
ইয়াকুব আলি বাংলানিউজকে বলেন, আর কয়দিন পরই ঈদ। সেমাই-চিনিসহ বউ ছইলের জন্যে এলাও কিছু কেনাকাটা করবার পারি নাই। মাছ পাইলে তো, মাছ বিক্রি করি কেনাকাটা করনো হয়। জালোত যেহেতু মাছ নাই,তাই হামার ঈদও নাই। সরেজমিনে রোববার (১০ জুন) খবর সংগ্রহের উদ্দেশে উপজেলা ঘুরে দেখার সময় লোহানীপাড়া ইউপির নাগেরহাট ব্রিজের নিচে যমুনেশ্বরী নদীতে নৌকা নিয়ে ২ জেলের মাছ ধরার স্থিরচিত্র ধারন করতে পারলেও তাদের বৃথা শ্রমের বিষয়টি ফুটে উঠে তাদের মাছ রাখার পাত্রটি দেখে। তাতে দেখা যায়, হাতে গোনা কয়েকটি ট্যাংরা আর আধাসের পুঁটি মাছ। এ সময় কথা হয় লোহানীপাড়া ইউপির জেলে রাশেদ আলির (৩৯) সঙ্গে। তিনি বাংলানিউজকে জানান, সকাল হতে আমরা দু’জন নৌকা নিয়ে মাছ মারছি। এখন দুপুর গড়ছে, মাছ পেলাম এতোটুকু। আমাদের পূর্ব-পুরুষরাও এই নদীতে মাছ ধরে জীবিকা নির্বাহ করেছেন। আসলে, নদীতে আর আগের মতো মাছ নেই। মাছ ধরা যেহেতু আমাদের পূর্বপুরুষের পেশা, তাই এ পেশাটিকে কষ্ট করে হলেও আঁকড়ে ধরে আছি। তিনি আরও জানান, গরিবের আবার ঈদ। ধার দেনা করে হলেও সেমাই চিনি কিনতে হবে। বউ ও বাচ্চাদের বলেছি, এ ঈদে কিছু কিনে দিতে পারবো না। বদরগঞ্জ মহিলা ডিগ্রি কলেজের জীববিজ্ঞান বিভাগের সহকারী অধ্যাপক আমিনুল ইসলাম জানান, নদ-নদীর নাব্যতা হ্রাস,নদী ভরাট করা, মা মাছের আবাসস্থল নষ্ট করা, ডোবা নালা সেচ দিয়ে মাছ ধরা, জমিতে অতিরিক্ত কীটনাশকের ব্যবহার, জলাশয় দূষণ, রাক্ষুসে মাছের চাষ সহ প্রাকৃতিক বিপর্যয় দেশিয় মাছ বিলুপ্তির অন্যতম কারণ। উপজেলা মৎস্য কর্মকর্তা রবিউল আলম পারভেজ জানান, মাছের অভয়াশ্রম নষ্ট হয়ে যাওয়া ও নতুন অভয়াশ্রম সৃষ্টি না হওয়ায় এ এলাকায় দেশিয় মাছের আকাল দেখা দিয়েছে। তবে মৎস্য বিভাগ মৎস্য প্রজনন ক্ষেত্র সৃষ্টির মাধ্যমে দেশিয় প্রজাতির মাছের অভাব পূরণে আপ্রাণ চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

Please follow and like us:
0