জাপার নেতা নির্বাচনে প্রয়োজনে ভোট

জাপার নেতা নির্বাচনে প্রয়োজনে ভোট

নিজস্ব প্রতিবেদক : জাতীয় পার্টির (জাপা) আগামী নেতৃত্ব নির্বাচনে প্রয়োজনে ভোটের আয়োজন করা হবে বলে জানিয়েছেন দলের চেয়ারম্যান জি এম কাদের।
গতকাল শনিবার দুপুরে জাতীয় পার্টির বনানী কার্যালয়ে দলের সম্পাদকমণ্ডলীর বৈঠকে তিনি এ কথা জানান। জি এম কাদের বলেন, আগামী ২৮ ডিসেম্বর জাতীয় পার্টির কেন্দ্রীয় কাউন্সিল। কাউন্সিলে দলের নেতৃত্ব নির্বাচন নিয়ে প্রশ্ন উঠলে ভোট করব, সেভাবে প্রস্তুতি থাকবে। আপনারাও ভোটাভুটির জন্য মানসিকভাবে প্রস্তুত থাকবেন। এ সময় সেখানে উপস্থিত ছিলেন জাপার প্রতিষ্ঠাতা চেয়ারম্যান প্রয়াত হুসেইন মুহম্মদ এরশাদের ছেলে রাহগির আল মাহি সাদ এরশাদ এমপি। তিনি তার বাবার আসনে (রংপুর-৩) জাতীয় পার্টি থেকে সংসদ সদস্য নির্বাচিত হওয়ার পর দলের যুগ্ম মহাসচিব হন। দলীয় পদ পাওয়ার পর এই প্রথম তিনি সম্পাদকমণ্ডলীর কর্মসূচিতে অংশ নেন।
টাকা দিয়ে ভাড়া করে লোক আনা হবে না : কাউন্সিলে নেতাদের নিজেদের টাকা খরচ করে কাউন্সিলে আসার আহ্বান জানিয়েছেন দলটির চেয়ারম্যান গোলাম মোহাম্মদ কাদের। তিনি বলেন, আমি টাকা দিয়ে কাউন্সিলে লোক আনতে চাই না। টাকা দিয়ে ভাড়া করে লোক আনা হবে না। সম্মেলনে খাবারের ব্যবস্থাও থাকবে না। খাবার নিয়ে বিশৃঙ্খলা তৈরি হয়।
‘আমি যদি পয়সা দিয়ে আপনাদের আনি, তাহলে আপনাদের ভয়েস শোনার কোনো প্রয়োজন নেই। আর আপনি যদি পার্টি করেন, তাহলে নিজের গরজে আসবেন। পার্টির পদ-পরিচয় দিয়ে কিছু না কিছু মর্যাদা তো আপনারা পান,’ যোগ করেন জি এম কাদের। তিনি বলেন, বর্তমান রাস্তবতায় রাজনীতি একটি ব্যবসায় পরিণত হয়েছে। আমরা এই ধারা থেকে বেরিয়ে আসতে চাই। যারা টাকা লগ্নি করে, ব্যবসায়িক মনোবৃত্তি থেকে আবার সেই টাকা উত্তোলনের জন্য রাজনীতি করতে চায়, জাতীয় পার্টিতে তাদের স্থান হবে না। জাতীয় পার্টি হবে জনগণের দল। জাতীয় পার্টি কারো ব্যক্তিগত সম্পত্তি নয়। পার্টির প্রতিটি নেতা-কর্মী জাতীয় পার্টির মালিক। জি এম কাদের বলেন, আমরা একেকজন একেক দায়িত্ব পালন করছি। আমি পয়সার রাজনীতি করতে চাই না, রাজনীতি করে পয়সা আয় করতে চাই না। ‘কমিটিতে থাকার জন্য তদবির করেন। অনেক সময় মারামারি করতে পারেন। তাহলে পার্টির জন্য কেন ত্যাগ স্বীকার করতে পারবেন না? ত্যাগ স্বীকার যদি না করতে পারেন, তার নেতা হতে চাওয়াও উচিত না। টাকার জন্য রাজনীতি করলে নতুন বাংলাদেশ গড়া সম্ভব না,’ বলেন জাপার চেয়ারম্যান।
জাতীয় পার্টির মহাসচিব মসিউর রহমান রাঙ্গা বলেন, কাউন্সিলে যিনি চেয়ারম্যান নির্বাচিত হবেন, তার কাছে অনুরোধ থাকবে, যেন ত্যাগী নেতাকর্মীরা কমিটিতে স্থান পান। যারা পার্টির জন্য বিভিন্ন সময় নির্যাতনের শিকার হয়েছেন, তাদের বিভিন্ন পদে বসাতে হবে।
‘যারা এ মিটিংয়ে থাকবে না, আগামীতে কমিটিতে তাদের কোনো জায়গা হবে না, তিনি যত বড় ক্ষমতাধর হোক। পার্টির নেতাকর্মীদের সন্তানদের আমাদের দল করতে হবে,’ বলেন মশিউর রহমান রাঙ্গা।
সভায় আরো বক্তব্য রাখেন- প্রেসিডিয়াম সদস্য জিয়া উদ্দিন আহমেদ বাবলু, সৈয়দ আবু হোসেন বাবলা এমপি, সুনীল শুভ রায়, এস এম ফয়সল চিশতী, ব্যারিস্টার শামীম হায়দার পাটোয়ারী এমপি, ভাইস চেয়ারম্যান হেনা খান পন্নি, আহসান আদেলুর রহমান আদেল এমপি, নিগার সুলতানা রানি, যুগ্ম মহাসচিব আশরাফ সিদ্দিকী, নুরুল ইসলাম ওমর, ইয়াহ হিয়া চৌধুরী, অ্যাডভোকেট শাহিদা রহমান রিংকু, শফিকুল ইসলাম মধু, সুলতান আহমেদ সেলিম, সাংগঠনিক সম্পাদক এম এ মুনিম চৌধুরী বাবু, মো. হেলাল উদ্দিন, মো. ইসহাক ভূঁইয়া, সুলতান মাহমুদ, এম এম রাজ্জাক খান, আমির হোসেন ভূঁইয়া, কেন্দ্রীয় নেতা অ্যাডভোকেট লাকী বেগম, ডা. সেলিমা খান, মোস্তাফিজুর রহমান ডালিম, মো. ইলিয়াস উদ্দিন চেয়ারম্যান, শংকর পালন, মো. জয়নাল আবেদিন, অ্যাডভোকেট লিয়াকত আলী খান, জহিরুল ইসলাম মিন্টু, অধ্যাপক মো. আলাউদ্দিন মৃধা, ওসমান আলী চেয়ারম্যান, শফিকুল ইসলাম দুলাল, নজিবুল্লাহ নজিব, আরফান আলী, মাহফুজুর রহমান বাবুল, আলহাজ জাহাঙ্গীর আলম, সেলিম রেজা, অ্যাডভোকেট এনামুল হক, ফারুক শেঠ, আমান উল্লাহ আমান প্রমুখ।

Please follow and like us: