জাতীয় জাদুঘর খুলছে রোববার, টিকেট অনলাইনে

জাতীয় জাদুঘর খুলছে রোববার, টিকেট অনলাইনে

নিজস্ব প্রতিবেদক : করোনাভাইরাস মহামারীর কারণে সাত মাসের বেশি সময় বন্ধ থাকার পর আগামী রোববার থেকে দর্শনার্থীদের জন্য ‘সীমিত পরিসরে’ খুলছে জাতীয় জাদুঘর। তবে জাদুঘরে প্রবেশের টিকেট আগের মত আর কাউন্টারে মিলবে না, সংগ্রহ করতে হবে অনলাইনে। জাতীয় জাদুঘরের মহাপরিচালক খোন্দকার মোস্তাফিজুর রহমান (এনডিসি) বলেন, স্বাস্থ্যবিধি মেনে সীমিত সংখ্যক দর্শনার্থী প্রবেশের সুযোগ পাবেন। সীমিত পরিসরে বলতে আমরা বোঝাচ্ছি দিনে ৫০০ থেকে ৮০০ জন। প্রথম এক সপ্তাহে আমরা চেষ্টা করব দর্শনার্থীর সংখ্যা ৫০০ জনের মধ্যে রাখতে। অবস্থা ভালো মনে হলে আস্তে আাস্তে বাড়ানো হবে। দুটো শিফটে করার চিন্তা করেছি। সকালের শিফটে ২০০ জন ও বিকেলের শিফটে ৩০০ জনকে প্রবেশের অনুমতি দেওয়া হবে। স্বাস্থ্যবিধি মানা এবং দর্শনার্থীর সংখ্যা নিয়ন্ত্রণের সুবিধার জন্য টিকেট দেওয়া হবে জাদুঘরের ওয়েব সাইটের মাধ্যমে। সেই টিকেটের ডাউনলোড করা কপি বা প্রিন্ট করা কপি বা টিকিট নম্বর গেইটে দেখালে ঢুকতে দেওয়া হবে। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, দর্শণার্থীরা যখন অনলাইনে টিকেট কাটবেন, সেখানে বিভিন্ন দিক-নির্দেশনা থাকবে। টিকেটের দাম আগের মতই থাকবে। আমাদের ওয়েবসাইটে টিকেট বাটন তৈরি করা হয়েছে। সেখানে ক্লিক করে দর্শনার্থীরা টিকিট কাটতে পারবেন। ওয়েব সাইট থেকে প্রতিদিন নির্দিষ্ট সংখ্যক টিকেটই দেওয়া হবে। দিনের সীমা পেরিয়ে গেলে আর টিকেট কাটা যাবে না। সরসারি টিকেট কাটার সুযোগ দিলে দেখা যাবে অনেকে দূর থেকে এসে লিমিটেশনের কারণে প্রবেশের সুযোগ পাচ্ছেন না দর্শনার্থীরা। তাই আমরা এই ব্যবস্থা করেছি। জাদুঘরে প্রবেশের আগে হ্যান্ড স্যানিটাইজার দিয়ে হাত পরিষ্কার করার ব্যবস্থা থাকবে। সবাইকে অবশ্যই মাস্ক পরতে হবে। সামাজিক দূরত্বের নিয়ম এবং অন্যান্য স্বাস্থ্যবিধি মানতে হবে। এসব দেখার জন্য প্রতিটি ফ্লোরে আলাদা কমিটি করা হয়েছে বলে জানান জাদুঘরের মহাপরিচালক। তিনি বলেন, প্রবেশ ফটকে জীবাণু প্রতিরোধী টানেল বসানো হয়েছে। সামাজিক দূরত্ব মানার জন্য তিন ফুট দূরত্ব রেখে জায়গা চিহ্নিত করে দেওয়া হয়েছে। সবাইকে নিয়ম মেনে প্রবেশ করতে হবে। যারা অনলাইনে টিকেট সংগ্রহ করতে পারবেন না,তাদের জন্য কী ব্যবস্থা থাকবে জানতে চাইলে মহাপরিচালক বলেন, আগে প্রতিদিন দুই থেকে আড়াই হাজার দর্শনার্থী এখানে আসতেন। প্রতিটি হল রুমে বিভিন্ন প্রোগ্রাম হত। এখন এই পরিস্থিতিতে তো ওভাবে সবাইকে সুয়োগ দেওয়া যাচ্ছে না। অবস্থার উন্নতি হলে আমরা বোর্ড অব ট্রাস্টি মিটিং করে সিদ্ধান্ত নেব-কীভাবে আরও দর্শনার্থীকে সুযোগ দেওয়া যায়, আগের টিকেটিং প্রক্রিয়ায় ফিরতে পারব কিনা। করোনাভাইরাসের সংক্রমণ রোধে গত ১৮ মার্চ থেকে অনির্দিষ্টকালের জন্য বন্ধ করে দেওয়া হয় জাতীয় জাদুঘর। দর্শনার্থীদের প্রবেশ নিষেধ থাকলেও এ সময় দাপ্তরিক কাজ অব্যাহত ছিল বলে জানান মহাপরিচালক। গত বুধবার জাতীয় জাদুঘরে গিয়ে দেখা যায়, প্রধান ফটকের সামনে দুটি জীবাণুনাশক টানেল বসানো হয়েছে। প্রতিটি ফ্লোরে লেখা হয়েছে স্বাস্থ্যবিধি সম্পর্কিত নানা দিক-নির্দেশনা। এ ছাড়া প্রতিটি ফ্লোরে গ্যালারিতে চলছে ধোয়া-মোছার কাজ। মোস্তাফিজুর রহমান বলেন, আমরা প্রত্যেক সপ্তাহে দুদিন গ্যালারি ওপেন রাখতাম পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার জন্য। যাতে সংরক্ষিত জিনিসগুলো নষ্ট না হয়। এখন যেহেতু রি-ওপেন হচ্ছে, সেখানে দর্শনার্থীদের স্বাস্থ্য সুরক্ষার জন্য প্রয়োজনীয় কাজগুলো করা হচ্ছে। টিকেট মিলবে যেভাবে জাদুঘরের টিকেটের জন্য আগের মতই বাংলাদেশি প্রাপ্তবয়স্কদের ক্ষেত্রে ২০ টাকা, অপ্রাপ্ত বয়স্কদের ক্ষেত্রে ১০ টাকা নেওয়া হবে। এছাড়া সার্কভুক্ত দেশের নাগরিকদের ৩০০ টাকা এবং অন্য দেশের নাগরিকদের জন্য ৫০০ টাকা প্রবেশ ফি দিতে হবে। অনলাইনে টিকেট কাটা যাবে জাদুঘরের ওয়েবসাইট (যঃঃঢ়://হধঃরড়হধষসঁংবঁসঃরপশবঃ.মড়া.নফ) থেকে। ইুঁ ঞরপশবঃ ডায়লগ বক্সে যাবতীয় তথ্য দিয়ে রেজিস্ট্রেশন করতে হবে। তারপর চঁৎপযধংব বঞরপশবঃ অপশনে ক্লিক করে জাদুঘরে ভ্রমণের তারিখ, টিকিট সংখ্যা লিখে অফফ বাটনে ক্লিক করতে হবে। একের অধিক টিকেট কিনতে অফফ গড়ৎব ঞরপশবঃ বাটনে ক্লিক করা লাগবে। গধশব চধুসবহঃ বাটনে ক্লিক করে পেমেন্ট গেটওয়ে দিয়ে পেমেন্ট সম্পন্ন করে চৎরহঃ ঞরপশবঃ অপশনে ক্লিক করে প্রিন্ট করে নিতে হবে। পেমেন্ট করা যাবে ভিসা, মাস্টার বা অ্যামেরিকান এক্সপ্রেস কার্ড, কয়েকটি ব্যাংকের কার্ড এবং বিকাশসহ মোবাইল ব্যাংকিংয়ের মাধ্যমে। জাদুঘরে প্রবেশের সময় প্রথম গেইট সংলগ্ন ই-টিকিট কাউন্টারে কপি দেখালে ভেতরে প্রবেশের অনুমতি মিলবে।

Please follow and like us: