জাতিসংঘকে কয়েকটি বড় দেশের খেলার জায়গা বললেন বিশেষজ্ঞরা

নিজস্ব প্রতিবেদক : গত ৭৫ বছরে জাতিসংঘের অনেক সফলতা ও ব্যর্থতা আছে। কিন্তু বর্তমানে এই সংস্থাটি গুটি কয়েক বড় দেশের খেলার জায়গায় পরিণত হয়েছে বলে মন্তব্য করেছেন বিশেষজ্ঞরা।
গতকাল বুধবার নর্থ সাউথ বিশ্ববিদ্যালয়ের সেন্টার ফর পিস স্টাডিজ আয়োজিত জাতিসংঘের ৭৫ বছর পূর্তি উপলক্ষে এক ওয়েবিনারে বক্তারা এ মন্তব্য করেন। বক্তারা বলেছেন, বহুপাক্ষিক ব্যবস্থা ও দেশের সার্বভৌমত্বের মধ্যে একটি ভারসাম্য করতে ব্যর্থ হয়েছে জাতিসংঘ এবং এটি একটি বড় চ্যালেঞ্জ।
বুধবার সকালে উদ্বোধনী সেশনে জাতিসংঘের আন্ডার সেক্রেটারি জেনারেল ফ্যাবরিজিয়ো হশচাইল্ড বলেন, ‘ক্ষমতার রাজনীতি আবারও মাথাচাড়া দিয়ে ওঠায় জাতিসংঘের ওপরে আস্থা কমে গেছে এবং জাতিসংঘের মধ্যেও এক ধরনের টেনশন কাজ কাজ করছে।’
অনেকে মনে করে বহুপক্ষীয় ব্যবস্থা ঠিকমতো কাজ করছে না জানিয়ে তিনি বলেন, ‘কিন্তু আবার অনেকে এর ওপরে বিশ্বাস রেখেছে এবং তারা মনে করে বৈশ্বিক সমস্যা মোকাবিলার জন্য জাতিসংঘকে প্রয়োজন।’
ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের আইন বিভাগের অধ্যাপক ও জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সাবেক চেয়ারম্যান ড. মিজানুর রহমান বলেন, ‘কয়েকটি বড় দেশ জাতিসংঘে কী হবে সেটি নির্ধারণ করে।’
মানবাধিকারের সঙ্গে জাতিসংঘ বিশ্বাসঘাতকতা করেছে জানিয়ে মিজানুর রহমান বলেন, ‘বহুপক্ষীয় ব্যবস্থায় রাজনৈতিক অধিকারকে যতটুকু গুরুত্ব দেওয়া হয়, অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে সেই গুরুত্ব দেওয়া হয় না।’
তিনি বলেন, ‘এরকম একটিও উদাহরণ নেই যেখানে জাতিসংঘ অর্থনৈতিক, সামাজিক ও সাংস্কৃতিক অধিকারকে রক্ষার জন্য কার্যকরী পদক্ষেপ নিয়েছে।’
পশ্চিমা বিশ্বের মানবাধিকারের মানদ-কে জাতিসংঘ স্বীকৃতি দেয় জানিয়ে তিনি বলেন, ‘গরিব দেশগুলোর আশা ও আকাঙ্ক্ষার প্রতিফলন জাতিসংঘ মানবাধিকার ডকুমেন্টে প্রতিফলিত হয় না ‘
অ্যাকশন এইডের প্রধান ফারাহ কবির বলেন, ‘জনগণ যাতে ঠিকমতো তথ্য পায় সেটি নিশ্চিত করার জন্য জাতিসংঘের উদ্যোগ নেওয়াটা অত্যন্ত জরুরি।’ তিনি বলেন, ‘কোভিড-১৯ নিয়ে বিভিন্ন দেশ বিভিন্ন ধরনের বক্তব্য দিচ্ছে এবং এ বিষয়ে জাতিসংঘকে সঠিক তথ্য প্রদান করতে হবে।’
কোভিড-১৯ টিকা নিয়ে আন্তর্জাতিক রাজনীতি হচ্ছে জানিয়ে ফারাহ কবির বলেন, ‘এটি আমাদের জন্য উদ্বেগের বিষয়।’ জাতিসংঘ শরণার্থী সংস্থার এশিয়া-প্যাসিফিক সেকশনের প্রধান রোরি মানগোভেন বলেন, ‘অনেক বছর ধরে বিভিন্ন ক্ষেত্রে জাতিসংঘে অবদান রেখেছে বাংলাদেশ।’ তিনি বলেন, ‘প্রতিবেশী মিয়ানমারের জন্য বাংলাদেশকে অনেক ঝামেলা পোহাতে হচ্ছে।’
জর্ডানে বাংলাদেশের রাষ্ট্রদূত নাহিদা সোবহান বলেন, ‘কোভিড-১৯ পরিস্থিতিতে অভিবাসীদের অধিকার ক্ষুণ্ন হচ্ছে।’ তিনি বলেন, ‘প্রযুক্তি ও সাইবার নিরাপত্তার নতুন নতুন ঝুঁকি তৈরি হচ্ছে এবং এর জন্য সবাইকে প্রস্তুত থাকতে হবে।’
জাতীয় মানবাধিকার কমিশনের সদস্য নমিতা হালদার বলেন, ‘কোভিডের কারণে শিশুরা স্কুল থেকে ঝরে পড়ছে, বাল্য বিবাহ বাড়ছে এবং শিশুশ্রম বাড়ছে।’
ন্যাশনাল ডিফেন্স কলেজের প্রধান লেফটেন্যান্ট জেনারেল শেখ মামুন খালেদ, পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের মহাপরিচালক সামিয়া আঞ্জুম, নরওয়ে পররাষ্ট্র মন্ত্রণালয়ের বিশেষ দূত মারিতা সোরহেইম-রেনসভিস, জাতিসংঘে জাপান অফিসের উপ-প্রধান হোসিনো তোসিয়াসহ অনেকে ওয়েবিনারে বক্তব্য রাখেন।

Please follow and like us: