মঙ্গল. জুন ২৫, ২০১৯

চালের দাম বেড়েছে কেজিতে চার টাকা

চালের দাম বেড়েছে কেজিতে চার টাকা

Last Updated on

সৈয়দপুর সংবাদদাতা : সৈয়দপুরে চাল ও আটার বাজার অস্থির হয়ে উঠেছে। আমনের ভর মৌসুমে গত সপ্তাহজুড়ে কেজিতে চালের দাম বেড়েছে দুই থেকে চার টাকা পর্যন্ত। কোনো কারণ ছাড়াই হঠাৎ চালের দাম বেড়ে যাওয়ায় বিপাকে পড়েছেন ক্রেতারা। চালের মূল্য বৃদ্ধিতে খুচরা ব্যবসায়ীরা মিল মালিকদের ওপর দোষারোপ করলেও মিল মালিকরা দুষছেন খুচরা ব্যবসায়ীদের। সরেজমিনে সৈয়দপুরের চালের বাজার ঘুরে দেখা যায়, সব ধরনের চালের দাম বৃদ্ধি পেয়েছে। সপ্তাহের ব্যবধানে ৫০ কেজির প্রতি বস্তায় দাম বৃদ্ধি পেয়েছে ১০০ থেকে ২০০ টাকা পর্যন্ত। ফলে খুচরা বাজারেও দাম বৃদ্ধি পেয়েছে সমানভাবে। বিশেষত, সাধারণ মানুষ যে চাল বেশি কেনেন, সেসব চালের দামই বেড়েছে। তবে সরু চালের দাম তেমন বাড়েনি। বাজারে ৩০ টাকা কেজি দরের গুটি স্বর্ণা চাল বিক্রি হচ্ছে ৩২-৩৩ টাকা দরে, বিআর-২৮ ৪০ টাকার স্থলে ৪৪, বিআর-২৯ ৩৬ টাকার স্থলে ৩৮, মিনিকেট ৫০ টাকার স্থলে ৫২-৫৩ ও কাটারী ৭০ টাকার স্থলে ৮০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। তবে সরু ও কালোজিরা চালের দাম স্থির রয়েছে। আমনের এ ভর মৌসুমে চালের দাম বৃদ্ধি পাওয়াকে অস্বাভাবিকভাবে দেখছেন ক্রেতারা। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়াচ্ছেন। তাদের দাম বৃদ্ধির কারণে খুচরা বাজারে চালের দর বৃদ্ধি পেয়েছে। এতে তাদের কিছু করার নেই। তবে পাইকারি ও খুচরা ব্যবসায়ীদের এমন কথা খ-ন করে মিল মালিকরা বলছেন, চালের মূল্য বৃদ্ধি হয়নি, বরং স্বাভাবিকের চেয়ে অনেক কম দরে মিল থেকে চাল বিক্রি করা হচ্ছে। শহরের খুচরা চাল ব্যবসায়ী নওশাদ মিন্টু জানান, মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দেওয়ায় তাদের বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে, যেজন্য বেশি দামে চাল বিক্রি করতে হচ্ছে। একই সঙ্গে মিল মালিক চালের সরবরাহ কমিয়ে দেওয়ায় বাজারে চালের সংকট রয়েছে। সৈয়দপুর আফজাল অটোরাইস মিলের স্বত্বাধিকারী মো. আফজাল হোসেন বর্তমানে চালের সংকট নেই বলে জানিয়ে বলেন, চালের বাজার বৃদ্ধি হয়নি। সরকারি দর ৩৬ টাকা, কিন্তু আমরা বিক্রি করছি ২৭ টাকা কেজি হিসেবে ৫০ কেজির গুটি স্বর্ণা চাল এক হাজার ৩৫০ টাকায়। তিনি বলেন, খুচরা ব্যবসায়ীরা মূল্য বৃদ্ধি করে চাল বিক্রি করছেন, অথচ দোষ চাপাচ্ছেন মিলারদের ওপর। সৈয়দপুর চালকল মালিক সমিতির সম্পাদক রেজাউল ইসলাম রেজু জানান, চালের দাম কেজিতে এক থেকে দুই টাকা বাড়লেও এটাকে দাম বৃদ্ধি বলা যাবে না। বরং উৎপাদন খরচের তুলনায় দাম স্বাভাবিক রয়েছে। আগে যে দামে চাল বিক্রি হয়েছে, তাতে মিল মালিকদের লোকসান গুনতে হয়েছে। এছাড়া বাজারে পর্যাপ্ত পরিমাণ ধান পাওয়া যাচ্ছে না। ধানের দাম বেড়ে যাওয়ায় কৃষকরা কিছুটা হলেও উপকৃত হচ্ছেন। ফলে চালের দামে কিছুটা প্রভাব পড়েছে। এটি বাজার ব্যবস্থার স্বাভাবিক রীতি বলে উল্লেখ করেন তিনি।

Please follow and like us:
0