মঙ্গল. মার্চ ১৯, ২০১৯

চালের দাম নিয়ে হাজার-প্রশ্ন

চালের দাম নিয়ে হাজার-প্রশ্ন

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : চালের দাম কবে নাগাদ কমবে তা নিয়ে ক্রেতা-বিক্রেতাদের প্রশ্নের মুখে রয়েছে সরকারের সংশ্লিষ্ট বিভাগ। খুচরা ও পাইকারি বিক্রেতাদের ভাষ্য, তারা এখন যে দামে চাল বিক্রি করছেন, সেই দামই বহাল থাকবে। একইসঙ্গে তারা নতুন করে দাম বাড়ার আশঙ্কাও করছেন। একাদশ জাতীয় সংসদ নির্বাচনকে কেন্দ্র করে বস্তাপ্রতি (৫০ কেজি) চালের দাম দুই থেকে আড়াইশ এবং কেজি প্রতি চার থেকে পাঁচ টাকা করে বেড়েছে। নির্বাচনকেন্দ্রিক বেড়ে যাওয়া চালের দাম নিয়ে চালকল মালিকদের সঙ্গে খাদ্যমন্ত্রী সাধন চন্দ্র মজুমদার ও বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি সম্প্রতি বৈঠক করেন। তবে, ওই বৈঠকের পরও বাজারে ইতিবাচক প্রভাব পড়েনি। পাইকারি ব্যবসায়ীরা বলছেন, চালকল মালিকরা বাড়ানোর কারণে বেশি দামে বিক্রি করতে হচ্ছে। আর চালকল মালিকরা বলছেন, বাজারে ধানের সংকট থাকায় এর প্রভাব পড়েছে চালের বাজারে। এদিকে, একসপ্তাহের মধ্যেই চালের দাম কমবে জানিয়েছেন বাণিজ্যমন্ত্রী টিপু মনুশি। রাজধানীর বাজারঘুরে দেখা গেছে, মিনিকেট চালের দাম বেড়েছে বেশি। তবে নাজিরশাইল চালের দাম অপরিবর্তিত আছে। মিনিকেট চালের দাম বস্তাপ্রতি ২৫০ টাকা বেড়েছে। সে হিসেবে নির্বাচনের আগের দামের চেয়ে প্রতি কেজিতে ৪ থেকে ৫ টাকা এখন বেশি দামে চাল কিনতে হচ্ছে। ধান-চাল আড়তদার মালিক সমিতির একজন নেতা জানান, চিকন চালের এখন মৌসুম না হওয়ায় দাম বেড়েছে। তবে মার্চ মাস শেষ হলেই চিকন চালের দাম কমে আসবে। তখন বাজারে পর্যাপ্ত চিকন চাল উঠবে। রাজধানীর বাড্ডার এক কাঁচাবাজারে বাজার করছেন আমিনুল ইসলাম। ব্যাংকে চাকরি বলে সপ্তাহের বাজার এই একদিন করে নেন তিনি। চালের বস্তা নির্বাচনের আগে যে দরে কিনেছিলেন, এখন বস্তাপ্রতি ৪০০ টাকা বেড়ে গেছে। দোকানদাররা তাকে বলছেন, সামনে আরও বাড়তে পারে। এ অবস্থায় বাড়তি দরেই চাল কিনেছেন তিনি। চালের দাম কমানোর ব্যাপারে গত শুক্রবার (১১ জানুয়ারি) দুপুরে গোপালগঞ্জের টুঙ্গিপাড়ায় সাংবাদিকদের সঙ্গে আলাপকালে বাণিজ্যমন্ত্রী বলেন, ‘আগামী এক সপ্তাহের মধ্যে চলের দাম কমে আসবে।’ কিন্তু বাজারে তার কোনো প্রতিফলন এখনো দেখা যায়নি।
ভোগান্তিতে সাধারণ ক্রেতারা
রাজহধানীতে খুচরা বাজারে ভালো মানের মিনিকেট বিক্রি হচ্ছে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকা। এক সপ্তাহ আগেও এ চাল বিক্রি হয়েছে ৫০ টাকায়। মাঝারি মানের চালের দাম সব থেকে বেশি বেড়েছে। বর্তমানে মাঝারি মানের চাল বিআর-২৮ ও লতা চাল বিক্রি হচ্ছে ৪৪ থেকে ৪৮ টাকা কেজি, যা আগে ছিল ৩৮ থেকে ৪২ টাকা। কেজিতে দাম বেড়েছে ছয় টাকা। কেজিতে চার টাকা বেড়ে ৩৮ থেকে ৪০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে মোটা চাল। যা নির্বাচনের আগে ৩৪ থেকে ৩৬ টাকা কেজি বিক্রি হয়েছে। আর বস্তা প্রতি সাধারণ চালের দাম বেড়েছে ১০০ থেকে ২৫০ টাকা। তবে, বাজারে নাজির জাতীয় চালের দাম স্থির আছে। আর পোলাও চালের দাম বেড়েছে বস্তাতে ৫০০ টাকা। কারওয়ান বাজারের হাজী ইসমাইল অ্যান্ড সন্সের মালিক মো. জসিম উদ্দিন বলেন, নতুন করে চালের দাম বাড়েনি বা কমেনি। মিনিকেট পাইকারি বাজারে ৫২ টাকা, আর খুচরা বাজারে ৫৪ থেকে ৫৮ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। ঢাকার খিলগাঁয়ের তালতলা মার্কেটের রাইস স্টোরের ব্যবসায়ীরা বলেন, তিন-চার দিন থেকে চালের দাম বেড়েছে। প্রথমে রশিদ, এরপর একে একে সব কোম্পানি চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছে। নির্বাচনের আগে ৫০ কেজির এক বস্তা মিনিকেট চাল বিক্রি হয়েছে দুই হাজার ৬০০ থেকে দুই হাজার ৬৫০ টাকা। এখন সে চাল বিক্রি করছি দুই হাজার ৭৫০ টাকায়। এক হাজার ৯৫০ টাকা বিক্রি করা বিআর-২৮ চালের বস্তা এখন বিক্রি করছি দুই হাজার ২৫০ টাকায়। কয়েকজন ব্যবসায়ী জানান, হঠাৎ কি কারণে চালের দাম এমন বাড়লো কিছুই বুঝতে পারছি না। মিল মালিকরা চালের দাম বাড়িয়ে দিয়েছেন। এর আগে চালের দামের সবচেয়ে অস্বস্তিকর সময় ছিল ২০১৭ সালের সেপ্টেম্বর-অক্টোবর মাস। ওই সময় খুচরা বাজারে মোটা চালের দর কেজিপ্রতি ৫০ টাকায় উঠেছিল। আর সরু চাল উঠেছিল কেজিপ্রতি ৬৫ টাকায়। এরপর বাড়তি আমদানি ও ২০১৮ সালের শুরুতে বোরোর মৌসুমের ভালো ফলনে চালের দাম কমে। ঢাকা ছাড়াও চট্টগ্রামসহ সারা দেশে একই হারে চালের দাম বেড়েছে বলে খবর পাওয়া গেছে। এছাড়া আটা ও ময়দার দাম কেজিপ্রতি দুই টাকা করে বেড়েছে। আটাপ্রতি দুই কেজির প্যাকেট ৭০ টাকা ও ময়দা ৯২ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। প্রসঙ্গত, গত ১ ডিসেম্বর থেকে ৩৬ টাকা কেজি দরে সিদ্ধ চাল সংগ্রহ শুরু করেছে খাদ্য মন্ত্রণালয়। ২৮ ফেব্রুয়ারির মধ্যে ছয় লাখ টনেরও বেশি আমন চাল সংগ্রহের লক্ষ্যমাত্রা ঠিক করেছে সরকার। দেশে বর্তমানে ১৩ লাখ ৬০ হাজার টন খাদ্য মজুদ রয়েছে। এরপরও কেন চালের দাম বাড়ছে তা নিয়ে কৌতুহলীদের চোখ এখন চালের বাজারে।

Please follow and like us:
2