মঙ্গল. জুন ১৮, ২০১৯

খোলাবাজারে বন্ডের পণ্য বিক্রি বন্ধে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

খোলাবাজারে বন্ডের পণ্য বিক্রি বন্ধে কঠোর হচ্ছে এনবিআর

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : বন্ডেড ওয়্যারহাউজের আওতায় শুল্কমুক্ত সুবিধায় আনা কাঁচামাল অবৈধভাবে খোলাবাজারে বিক্রি করে দেয়া হচ্ছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) বিগত এক মাসে এমন অন্তত ১০০টি প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে খোলাবাজারে পণ্য বিক্রির অভিযোগ পেয়েছে। তাতে সরকার বিপুল পরিমাণ রাজস্ব হারিয়েছে। মূলত বিনিয়োগ উৎসাহিত করতে বন্ডেড সুবিধা দেয়া হলেও সাম্প্রতিক সময়ে তা খোলাবাজারে বিক্রির প্রবণতা বেড়েছে। বিশেষ করে ইপিজেডের প্রতিষ্ঠানের নামে আমদানীকৃত আর্ট কার্ড, ডুপ্লেক্স বোর্ড, বিওপি ও পিপি, এলডিইপি, এইচডিপিই, রাবার থ্রেড, ইয়ার্নসহ তৈরি পোশাকের কাঁচামাল খোলাবাজারে বেশি বিক্রি হচ্ছে। তাছাড়া ট্যানারি খাতের প্রতিষ্ঠানগুলোর বিরুদ্ধেও আমদানীকৃত পণ্য খোলাবাজারে বিক্রির অভিযোগ উঠছে। সম্প্রতি ঢাকা ও চট্টগ্রাম বন্ড কমিশনারেট থেকে বন্ড ফাঁকির অভিযোগে বেশ কয়েকটি মামলা হয়েছে। এমন পরিপ্রেক্ষিতে খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে বিশেষ উদ্যোগ নেয়া হয়েছে। এনবিআর সংশ্লিষ্ট সূত্রে এসব তথ্য জানা যায়।
সংশ্লিষ্ট সূত্র মতে, সরকার রফতানিমুখী শিল্প ও স্থানীয় হোম কনজাম্পশন শিল্প খাত বিকশিত করার লক্ষ্যে বিশেষ প্রণোদনা হিসেবে বেশকিছু প্রতিষ্ঠানকে শুল্কমুক্ত কাঁচামাল আমদানির সুযোগ দিয়েছে। বন্ড সুবিধা নামে ওই বিশেষ প্রণোদনায় সরকার বছরে প্রায় ৩০ হাজার কোটি টাকা ছাড় দিচ্ছে। কিন্তু তার বড় অংশই অপব্যবহারের অভিযোগ রয়েছে। বিভিন্ন শিল্পের বন্ডেড সুবিধার কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রির দায়ে বিভিন্ন প্রতিষ্ঠানকে প্রায়ই জরিমানা করছে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর)। এবার ওসব কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে আরো কঠোর হচ্ছে এনবিআর।
সূত্র জানায়, বন্ড সুবিধায় আনা কাঁচামাল খোলাবাজারে বিক্রি বন্ধে এনবিআরের সদস্যের (শুল্ক: রফতানি, বন্ড ও আইটি) নেতৃত্বে একটি কমিটি গঠন করা হয়েছে। সম্প্রতি ওই কমিটির সভা শেষে বন্ডেড সুবিধা পাওয়া প্রতিষ্ঠানে বিশেষ নিরীক্ষাসহ পণ্যের আমদানি, ইন বন্ড ও এক্স বন্ড প্রক্রিয়া এবং ব্যবহার যাচাইয়ে মাঠপর্যায়ে নির্দেশ দেয়া হয়েছে। তাতে বন্ডেড কাঁচামাল আমদানি করে এমন বৃহৎ ৫টি করে প্রতিষ্ঠান বাছাই করে প্রত্যেক কাস্টমস ও ভ্যাট কমিশনারেটকে সেখানে বিশেষ নজরদারির নির্দেশ দেয়া হয়েছে। খোলাবাজারে পণ্য বিক্রি রোধে কাস্টম হাউজগুলো তালিকাভুক্ত ওসব প্রতিষ্ঠানের চালান খালাসের সঙ্গে সঙ্গেই তার তথ্য শুল্ক গোয়েন্দা ও তদন্ত অধিদপ্তর এবং এনবিআরকে অবহিত করবে। একই সঙ্গে প্রতিষ্ঠানগুলোর উৎপাদন নির্ধারণ ও মেশিনারিজের ভিত্তিতে আমদানি প্রাপ্যতা নির্ধারণ করবে। তাছাড়া বন্ড সুবিধা নেয়া যে কোনো প্রতিষ্ঠানের আমদানি করা কাঁচামাল দ্বারা উৎপাদিত পণ্য যাদের কাছে রফতানি করা হচ্ছে, ওই প্রতিষ্ঠানের কাছ থেকে তথ্য নেয়ার নির্দেশ দেয়া হয়েছে। একই সঙ্গে বাংলাদেশ রফতানি প্রক্রিয়াকরণ এলাকা কর্তৃপক্ষ (বেপজা) এবং শুল্ক রেয়াত ও প্রত্যর্পণ পরিদপ্তরের (ডেডো) সঙ্গে মতবিনিময় সভা করার বিষয়েও মাঠ পর্যায়ের কর্মকর্তাদের নির্দেশ দেয়া হয়েছে।
সূত্র আরো জানায়, শুধুমাত্র বন্ডেড ওয়্যারহাউজের আওতায় প্রতি বছর আমদানি পর্যায়ে ৩০ হাজার কোটি টাকারও বেশি শুল্ককর অব্যাহতি দেয়া হলেও তার বড় অংশেরই অপব্যবহার হয়। বর্তমানে প্রায় ৯ হাজার প্রতিষ্ঠানকে বন্ডেড ওয়্যারহাউজের নিবন্ধন দেয়া হলেও অনিয়মের অভিযোগে প্রায় ৩ হাজার প্রতিষ্ঠানের লাইসেন্স স্থগিত করা হয়েছে। কিছু প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে শাস্তিমূলক ব্যবস্থা নেয়া হলেও জনবল ঘাটতি ও অপরাধীদের নতুন নতুন কৌশলের কারণে অধিকাংশ প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিতে পারছে না এনবিআর।
এ প্রসঙ্গে এনবিআরের চেয়ারম্যান ও অভ্যন্তরীণ সম্পদ বিভাগের জ্যেষ্ঠ সচিব মো. মোশাররফ হোসেন ভুঁইয়া জানান, বন্ডেড সুবিধা অপব্যবহার করে বিপুল পরিমাণ রাজস্ব ফাঁকি দেয়ার অভিযোগ রয়েছে। এনবিআরের অভিযানে অনেক প্রতিষ্ঠানের বিরুদ্ধে প্রমাণও পাওয়া যাচ্ছে। সরকার চায় বিশেষ সুবিধায় দেশে নতুন নতুন শিল্পপ্রতিষ্ঠান গড়ে উঠুক। তবে এর অপব্যবহার রোধে জিরো টলারেন্সে থাকবে এনবিআর। যারা এ ধরনের অপকর্ম করবে, তাদের বিরুদ্ধে কঠোর ব্যবস্থা নেয়া হবে।

Please follow and like us:
2