শনি. আগ ১৭, ২০১৯

খুলনার থানায় গণধর্ষণে আসামি ওসিসহ ৫ পুলিশ

খুলনার থানায় গণধর্ষণে আসামি ওসিসহ ৫ পুলিশ

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক, খুলনা: খুলনার জিআরপি থানায় গণধর্ষণ কাণ্ডে একই থানার আলোচিত ওসিসহ পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করা হয়েছে।
নির্যাতনের শিকার ওই নারী বাদি হয়ে শুক্রবার রাতে জিআরপি থানায় মামলাটি দায়ের করেন। রেলওয়ে পুলিশের তদন্ত কমিটির প্রধান কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদ শনিবার বিষয়টি নিশ্চিত করেন।
এএসপি ফিরোজ আহমেদ বলেন, ‘জিআরপি থানায় গৃহবধূ ধর্ষণের ঘটনায় আদালতের নির্দেশে ওসি উছমান গণিসহ পাঁচজনের বিরুদ্ধে পুলিশ হেফাজতে নির্যাতন ও হত্যা নিবারণ আইনে মামলা হয়েছে। এ মামলার বাদী ভুক্তভোগী নারী নিজেই।’
তিনি বলেন, ‘তদন্ত কমিটিকে সাত দিনের মধ্যে তদন্ত প্রতিবেদন দাখিলের নির্দেশ দেওয়া হয়েছিল। তবে এ সময় আরো বাড়তে পারে।’
এর আগে বৃহস্পতিবার দুপুরে নির্যাতনের শিকার নারীকে জিজ্ঞাসাবাদ করে তদন্ত কমিটি। জিজ্ঞাসাবাদের পরেই আদালতের নির্দেশে পাঁচ পুলিশ সদস্যের বিরুদ্ধে মামলা হয়েছে।
এদিকে, উক্ত ধর্ষণের ঘটনায় ৬ আগস্ট কুষ্টিয়া সার্কেলের এএসপি ফিরোজ আহমেদসহ ৩ সদস্যের কমিটি তদন্ত কাজ শুরু করে। তদন্ত কমিটির অপর দুই সদস্য হলেন, পুলিশ পরিদর্শক শ ম কামাল হোসেইন ও মো. বাহারুল ইসলাম। ইতিমধ্যেই তদন্তের স্বার্থে এবং দায়িত্বে অবহেলার অভিযোগে ওসি উছমান গণি পাঠান ও এসআই নাজমুল হককে থানা থেকে প্রত্যাহার করা হয়েছে। তবে, এএসআই গৌতম কুমার মন্ডলসহ অন্যরা বহাল তবিয়তে রয়েছেন।
উল্লেখ্য, গত ২ আগস্ট যশোর থেকে ট্রেনে খুলনায় আসার পথে এই তিন সন্তানের মাকে (৩০) আটক করে খুলনা জিআরপি থানা পুলিশ। ওই নারীর অভিযোগ, মোবাইল ফোন চুরির অভিযোগ দিয়ে তাকে আটক করা হয়। ওই দিন রাতে থানা হাজতে ওসিসহ ৫ পুলিশ সদস্য তাকে মারধর ও ধর্ষণ করে। পরদিন তাকে ৫ বোতল ফেনসিডিলসহ গ্রেপ্তার দেখিয়ে আদালতের মাধ্যমে কারাগারে পাঠানো হয়।
৪ আগস্ট ওই নারী খুলনার অতিরিক্ত চিফ জুডিশিয়াল ম্যাজিস্ট্রেট মো. সাইফুজ্জামানের আদালতে তাকে মারধর ও গণধর্ষণ করা হয়েছে বলে অভিযোগ করেন। আদালত তার জবানবন্দি গ্রহণ করে তার ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য খুলনা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতালে পাঠানোর নির্দেশ দেন। আদালতের নির্দেশে তার ডাক্তারি পরীক্ষা সম্পন্ন হয়। তবে পরীক্ষার রিপোর্ট এখনো তৈরি হয়নি।

Please follow and like us:
2