বৃহঃ. আগ ২২, ২০১৯

‘খুব ইচ্ছা করছে বাংলায় বলতে…’

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক:ভাষার জন্য যে দেশের মানুষের আত্মোৎসর্গের দিনটি সারা বিশ্বের ভাষার অধিকার রক্ষার দিন হিসেবে স্বীকৃত, সেই বাংলাদেশে একুশের অনুষ্ঠানে অংশ নিয়ে আবেগাপ্লুত অনেক ভিনদেশি। ‘যে স্মৃতিস্তম্ভটি পৃথিবীর প্রত্যেকটি ভাষাকে মর্যাদা এনে দিয়েছে। ইতিহাসের সেই বীরদের শ্রদ্ধা জানাতে পেরে আমি খুবই গর্ববোধ করছি। আমার খুব ইচ্ছে করছে বাংলায় কথা বলতে,’ বলেই তা না পারার জন্য দুঃখ প্রকাশ করেন ইতালির নাগরিক ফ্রাংকা লিনা।

গত মঙ্গলবার সকালে ফুল হাতে কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে দেখা মেলে বিশ্বের প্রাচীন সভ্যতার অন্যতম পাদপীঠ রোম থেকে আসা এই নারীর। ১৯৫২ সালের ২১ ফেব্রুয়ারি রক্তের বিনিময়ে রাষ্ট্রভাষা বাংলার দাবি আদায় করে বাঙালি। ইউনেস্কোর উদ্যোগে দিনটি এখন আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস হিসেবে পালিত হচ্ছে বিশ্বব্যাপী। ফ্রাংকা লিনা বলেন, ‘আমার পরম সৌভাগ্য যে এমন একটি ঐতিহাসিক দিনে আমি বাংলাদেশে। ইতিহাসের বীরদের স্মরণে বাংলাদেশের মানুষের আবেগ-উচ্ছ্বাস দেখে আমি সত্যিই অভিভূত।’ জন্মভূমি ইতালিতে ‘আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবস’ পালনের অনুষ্ঠান দেখলেও এবার ঢাকায় এসে দেখা যে অন্যভরকম, তা ফুটে উঠল তার কথায়। দুই মাসের জন্য  বাংলাদেশে এসেছেন ফ্রাংকা লিনা ধর্মযাজক আন্তোনেল্লার আমন্ত্রণে। চার্চের অধীনে সামাজিক-অর্থনৈতিক সহযোগিতামূলক একটি যুব প্রকল্প পরিচালনা হচ্ছে, সেই প্রকল্পে কাজ করতে ঢাকায় আসা ফ্রাংকলিনার। কেন্দ্রীয় শহীদ মিনারে মানুষের ঢল দেখে বিস্ময় প্রকাশ করছিলেন তিনি।

ফ্রাংকা লিনা বলতে না পারলেও ১০ বছর ধরে ঢাকায় থাকার সুবাদে ধর্মযাজক আন্তোনেল্লা বাংলা শিখে ফেলেছেন। কোনো বাক্যা সম্পূর্ণ করতে না পারলেও বোঝা যায় যে কী বলতে চাচ্ছেন। আন্তোনেল্লা বলেন, ‘প্রতি বছর শহীদ মিনারে ফুল দিতে আসি। এই ভিড়ের মধ্যে মিশে যেতে কেন জানি বেশ ভালো লাগে।’ ইতালীয় এই ধর্মযাজক বলেন, ‘অন্য আট-দশটা গতানুগতিক আন্তর্জাতিক দিবসের সাথে আন্তর্জাতিক মাতৃভাষা দিবসকে তুলনা করা চলবে না। এই দিবসটি পালন করার পাশাপাশি এর পেছনের রক্তাক্ত ইতিহাসকে অনুধাবন করতে হয়। আর এ কারণেই ২১ ফেব্রুয়ারি বিশ্বজনীনতা পেয়েছে।’ শহীদ মিনারে দেখা মেলে সুইজারল্যান্ডের ইয়ানার, এক মাস আগে স্বামী মো. কামাল শেখের সঙ্গে ঢাকায় এসেছেন তিনি। গাজীপুরের কাপাসিয়ার কামাল শেখ জেনেভায় থাকেন, সেখানেই তার ব্যবসা।

ইয়ানা জানান, স্বামীর কাছ থেকে ভাষা আন্দোলন, মুক্তিযুদ্ধের ইতিহাস জেনেছেন তিনি। নিজেও অল্প-বিস্তর পড়াশোনা করেছেন বাংলাদেশের ইতিহাস-ঐতিহ্য নিয়ে। ‘জেনেভায় বাঙালিরা এ দিবসটি গভীর শ্রদ্ধার সাথে পালন করে। আমিও অংশ নিয়েছি ওর (স্বামী কামাল) সঙ্গে। আজকে এখানে এসে বুঝতে পারলাম এর সাথে আপনাদের (বাংলাদেশের মানুষের) কী গভীর আবেগ জড়িত!’ ‘আমার ভাইয়ের রক্তে রাঙানো একুশে ফেব্রুয়ারি গানটা আমার খুব ভালোবাসি (ভালো লাগে),’ ভাঙা গলায় বলেন এই সুইস নারী।

Please follow and like us:
2