বৃহঃ. ফেব্রু ২১, ২০১৯

খালেদার মুক্তির দু’টি পথ- আইনি লড়াই ও দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা: তথ্যমন্ত্রী

খালেদার মুক্তির দু’টি পথ- আইনি লড়াই ও দোষ স্বীকার করে ক্ষমা প্রার্থনা: তথ্যমন্ত্রী

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : কারান্তরীণ বিএনপি চেয়ারপারসন খালেদা জিয়া কেবলমাত্র দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা এবং আদালতে আইনি লড়াইয়ের মাধ্যমে; এ দু’টি উপায়ে মুক্তি পেতে পারেন বলে জানিয়েছেন তথ্যমন্ত্রী হাছান মাহমুদ। বিএনপির সিনিয়র যুগ্ম-মহাসচিব রুহুল কবির রিজভী গতকাল মঙ্গলবার সকালে সংবাদ সম্মেলন করে খালেদা জিয়ার মুক্তির বিষয়ে বলেন, প্রধানমন্ত্রীই সবকিছু নিয়ন্ত্রণ করেন। তিনি চাইলেই খালেদা জিয়া মুক্তি পাবেন। এ বিষয়ে আওয়ামী লীগের প্রচার সম্পাদক ও তথ্যমন্ত্রী বলেন, কয়েক দিন আগে সংবাদ সম্মেলন করে প্রধানমন্ত্রীর কাছে আহ্বান জানিয়েছিলেন খালেদা জিয়ার মুক্তির জন্য। প্রধানমন্ত্রীর খালেদা জিয়া কিংবা কোনো বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার নেই। খালেদা জিয়াসহ যেকোনো সাজাপ্রাপ্ত বন্দিকে মুক্তি দেওয়ার এখতিয়ার হচ্ছে আদালতের। রিজভী আহমেদ বারবার একই আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জানাচ্ছেন, আইন-আদালতের প্রতি বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। তার কথায় মনে হচ্ছে প্রধানমন্ত্রীকে প্রধান বিচারপতির দায়িত্ব পালন করতে হবে। দুর্নীতির মামলায় গত এক বছর ধরে কারাগারে থাকা খালেদা জিয়ার মুক্তির পথ বাতলে দেন হাছান মাহমুদ। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপির পক্ষে রিজভী আহমেদ সংবাদ সম্মেলন করেছেন। তারা খালেদা জিয়ার যদি মুক্তি চান, তাহলে আদালতের আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে এগোতে হবে। আর আইনি প্রক্রিয়ার মাধ্যমে না এগিয়ে তারা যদি অন্য কোনো পথে খালেদা জিয়ার মুক্তি চান, সেটি সম্ভবপর নয়। তাদের কাছে আরেকটি পথ খোলা আছে, সেটি হচ্ছে খালেদা জিয়া তার দোষ স্বীকার করে রাষ্ট্রপতির কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করতে পারেন। তাহলে রাষ্ট্রপতি ক্ষমা প্রার্থনা করতেও পারেন। পরে তাকে মুক্তি দেওয়ার ব্যবস্থা গ্রহণ করতে পারেন। হাছান মাহমুদ বলেন, এর বাইরেতো অন্য কোনো সুযোগ নেই। বারবার তারা প্রধানমন্ত্রীর প্রতি আহ্বান জানিয়ে প্রকৃতপক্ষে আইন-আদালতের প্রতি অশ্রদ্ধা জ্ঞাপন করছেন, বৃদ্ধাঙ্গুলি প্রদর্শন করছেন। যেটি সমীচীন নয়। যা দেশের আইনের শাসন, আইন-আদালতকে প্রকৃতপক্ষে আন্ডার মাইন্ড করছেন। এটি অনুচিত, সমীচীন নয়। সংবিধান অনুযায়ী সিদ্ধান্ত গ্রহণের ক্ষেত্রে সরকারের অনুমোদন নিতে হয়, এ বিষয়ে মন্ত্রী বলেন, রাষ্ট্রপতি কাউকে ক্ষমা করার ব্যাপারে সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন এবং সেটি হয়তো সরকারের অনুমোদন লাগবে। কিন্তু রাষ্ট্রপতি সেই সিদ্ধান্ত গ্রহণ করতে পারেন। এখন তারা সেটা করবে, কি করবে না- এই প্রশ্ন এই মুহূর্তে অবান্তর। কারণ, বিএনপির পক্ষ থেকে খালেদা জিয়ার সব দোষ স্বীকার করে মার্জনা প্রার্থনা করবেন কি করবেন না- সেটি প্রথম প্রশ্ন। জোটসঙ্গী জামায়াতকে ছাড়া প্রসঙ্গে তিনি বলেন, প্রেমিক-প্রেমিকার প্রেমের গভীরতার পর্যায়ের মতো বিএনপি-জামায়াত কৌশলের আশ্রয় নিয়েছে। গণমাধ্যমে বিএনপির জামায়াত ছাড়া নিয়ে খবরের বিষয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, পত্রিকায় আমি দেখলাম বিএনপি জামায়াত আলাদা হয়ে যাচ্ছে- এ খবর বেরিয়েছি। আর ভিতরের খবর দেখতে পেলাম জামায়াত প্রকৃতপক্ষে বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। অর্থাৎ, বিএনপি ছাড়তে চায় না ওদের (জামায়াত), জামায়াত ছেড়ে চলে যাচ্ছে। বিএনপি যদি জামায়াতকে ত্যাগ করতো, বলতো যুদ্ধাপরাধী দলের সঙ্গে এতদিন আমরা (বিএনপি) যে জোটবদ্ধভাবে নির্বাচন-আন্দোলন, আমরা বিশ বছর ধরে যুদ্ধাপরাধী দলের সঙ্গে যে সংসার করেছি এতে আমরা ভুল করেছি। আমাদের এখন উপলব্ধি হয়েছে যুদ্ধাপরাধীর দলের সঙ্গে আমরা আর থাকবো না- এই ঘোষণা দিয়ে যদি বিএনপি জামায়াতকে এবং অতীতে যে ছিল সেটার জন্য ক্ষমা প্রার্থনা করছি- এই ঘোষণা দিয়ে বিএনপি জামায়াতকে তাদের জোট থেকে বের করে দেয় তাহলে অবশ্যই বিএনপিকে আমরা সাধুবাদ জানাবো। কিন্তু কাগজে দেখলাম যে আসলে তা নয়। আসলে জামায়াত বিএনপিকে ছেড়ে চলে যাচ্ছে। এখানে বিএনপিকে সাধুবাদ দেওয়ার কোনো সুযোগ নেই। এটা কোনো কৌশল হতে পারে কিনা- প্রশ্নে তিনি বলেন, প্রেম যখন খুব গভীর হয় আর সমাজ থেকে যখন বাধাপ্রাপ্ত হয় তখন প্রেমিক-প্রেমিকা ‘না’ ধরনের কৌশল অবলম্বন করে। এটাও তাদের মতো সে ধরনের কোনো কৌশল কিনা? বিএনপি-জামায়াত বিচ্ছিন্ন হবে কিনা- প্রশ্নে তথ্যমন্ত্রী বলেন, তাদের মধ্যে যে সমঝোতা ও ঐক্য, সেই সমঝোতা ও ঐক্য হচ্ছে যারা বাংলাদেশ চায়নি তাদের সঙ্গে বিএনপি ঐক্য করেছে। আমাদের পূর্বসূরি যারা মুক্তিযুদ্ধ করে এ দেশকে স্বাধীন করেছেন তাদের বিরুদ্ধে তারা অস্ত্র ধারণ করেছেন। পরবর্তীতে আমরা দেখতে পেয়েছি খালেদা জিয়া আইএসআই’র কাছ থেকে অর্থ নিয়েছেন। বাংলাদেশে বিএনপির সঙ্গে জামায়াতের ঐক্য ও জামায়াতের কোনো নেতার শাস্তি হলে পাকিস্তানের পার্লামেন্টে সেটার প্রতিবাদ হয়, পাকিস্তান সরকারের পক্ষ থেকে সেটার বিরুদ্ধে বলা হয়। অর্থাৎ, তাদের যে ঐক্য এটা তাদের আদর্শিক ঐক্য, বাহ্যিকভাবে তারা আলাদা হওয়ার কথা বললেও তারা কখনো আলাদা হবে না। এক প্রশ্নের জবাবে মন্ত্রী বলেন, বিএনপির ছাত্র সংগঠন জাতীয়তাবাদী ছাত্রদল বিএনপি যখন জাতীয় নির্বাচন নিয়ে নানা ধরনের আবদার করে আসছে, আমরা দেখতে পেলাম ছাত্রদলও একই ধরনের আবদার করে চলেছে। ডাকসু সৃষ্টি হওয়ার পর থেকে গঠনতন্ত্র অনুযায়ী হলে হলে ভোট হচ্ছে। এর ব্যত্যয় কখনো হয়নি। এবারও হলে হলে ভোট হওয়ার জন্য তফসিল ঘোষণা করা হয়েছে। বিএনপির ছাত্র সংগঠন বিএনপির ধারাবাহিকতায় নানা ধরনের আবদার করছে, যেটি ডাকসুর গঠনতন্ত্র বর্হিভূত।

Please follow and like us:
0