মঙ্গল. জুলা ১৬, ২০১৯

খালেদাকে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরে বিএনপির খুশি হওয়ার কথা: তথ্যমন্ত্রী

খালেদাকে কেরাণীগঞ্জ কারাগারে স্থানান্তরে

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : নাজিমউদ্দিন রোডের পুরনো কারাগার থেকে খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের নতুন কেন্দ্রীয় কারাগারে স্থানান্তরে সরকারের সিদ্ধান্তে বিএনপির খুশি হওয়া উচিত বলে মনে করছেন আওয়ামী লীগের প্রচার ও প্রকাশনা সম্পাদক হাছান মাহমুদ। সচিবালয়ে গতকাল বুধবার ঢাকায় নিযুক্ত ভারতের হাই কমিশনার রীভা গাঙ্গুলী দাসের সঙ্গে বৈঠকের পর সাংবাদিকদের সঙ্গে কথা বলেন তথ্যমন্ত্রীর দায়িত্বে থাকা হাছান মাহমুদ। দুর্নীতির দুই মামলায় সাজা নিয়ে গত বছর ফেব্রুয়ারি থেকে নাজিমউদ্দিন রোডের পরিত্যক্ত পুরনো কারাগারে রয়েছেন বিএনপি প্রধান খালেদা জিয়া। পরিত্যক্ত ওই কারাভবনের স্যাঁতস্যাঁতে কক্ষে সাবেক প্রধানমন্ত্রী খালেদা জিয়ার স্বাস্থ্যের মারাত্মক অবনতি হয়েছে বলে অভিযোগ করে আসছিলেন বিএনপি নেতারা। বর্তমানে বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে খালেদার চিকিৎসা চলছে। চিকিৎসা শেষে তাকে কেরানীগঞ্জের নতুন কারাগারে স্থানান্তর করা হবে বলে গত মঙ্গলবার জানিয়েছেন স্বরাষ্ট্রমন্ত্রী আসাদুজ্জামান খাঁন কামাল। হাছান মাহমুদ বলেন, বিএনপির পক্ষ থেকে বার বার বলা হচ্ছিল যে খালেদা জিয়াকে পুরনো একটি বিল্ডিংয়ে স্যাঁতস্যাঁতে পরিবেশে রাখা হয়েছিল। একটি পুরনো ভবনে নির্জন কারাগারে তাকে রাখা হচ্ছিল, যেখানে অন্য কোনো বন্দি নেই। যদিও খালেদা জিয়াকে পুরনো কেন্দ্রীয় কারাগারে রাখার আগে ওই ভবনকে সংস্কার করে সেখানে সব সুযোগ-সুবিধা দেওয়া হয়েছিল বলে দাবি করেন তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, কেরানীগঞ্জের কারাগারে অন্য সব বন্দিকে অনেক আগেই স্থানান্তরিত করা হয়েছে। সেখানে নতুন ভবন এবং সেটি একেবারে আধুনিক ভবন, সেখানে সমস্ত সুযোগ-সুবিধা আছে। এতে তো বিএনপির খুশি হওয়ার কথা। কিন্তু দেখলাম যে রিজভী আহমেদ এটি নিয়েও একটি সংবাদ সম্মেলন করেছেন। এখন কোথায় রাখলে যে তারা খুশি হবে সেটি বুঝতে পারছি না। পুরনো কারাগারকে জাদুঘরে রূপান্তরের সিদ্ধান্ত হওয়ায় খালেদা জিয়াকে কেরানীগঞ্জের কারাগারে স্থানান্তরিত করা হচ্ছে জানিয়ে হাছান মাহমুদ বলেন, এটি (পুরানো কারাগার) এখন আর রেগুলার কারাগার নয়, কেরানীগঞ্জের কারাগারটি রেগুলার কারাগার। আমি মনে করি বিএনপির তো খুশি হওয়ার কথা। যেহেতু তারা বলেছিল পুরনো ভবনে রাখা হয়েছে খালেদা জিয়াকে, এখন তো নতুন ভবনে নিয়ে যাওয়া হবে। ‘সরকার হতাশায় নিমজ্জিত হয়েছে’- মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীরের এমন মন্তব্যের প্রসঙ্গে তথ্যমন্ত্রী বলেন, বিএনপিই অকার্যকর হয়ে গেছে। প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনার নেতৃত্বে উন্নয়নের মহাসড়কে দেশ অদম্য গতিতে এগিয়ে চলছে। বাংলাদেশ এখন স্বল্প উন্নত দেশের তালিকা থেকে উঠে এসে মধ্যম আয়ের দেশ। খাদ্য ঘাটতির দেশ থেকে খাদ্য উদ্বৃত্ত দেশে রূপান্তরিত হয়েছে। মানুষের মাথাপিছু আয় ৬০০ ডলার থেকে প্রায় দুই হাজার ডলারে উন্নীত হয়েছে। গড় আয়ু ৬৭ বছর থেকে ৭৩ বছরে উন্নীত হয়েছে, রাষ্ট্র এগিয়ে যাচ্ছে, বিএনপি মির্জা ফখরুল ইসলাম আলমগীর সাহেবদের নেতৃত্বে অকার্যকর হয়ে গেছে। এটিই যদি তিনি বলতেন তাহলে সঠিক বলতেন।
ভারতে বিটিভি প্রদর্শন নিয়ে অগ্রগতি: বাংলাদেশের রাষ্ট্রায়ত্ত টেলিভিশন চ্যানেল বিটিভি ভারতে প্রদর্শন নিয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে বলে জানান তথ্যমন্ত্রী। তিনি বলেন, এ নিয়ে সুসংবাদ তৈরি হয়ে আছে, এখন শুধু ঘোষণার অপেক্ষা। তথ্যমন্ত্রী বলেন, বাংলাদেশের টেলিভিশন চ্যানেলগুলো যাতে ভারতে দেখানো সম্ভবপর হয় সেটি নিয়ে আলোচনা করেছি। বিটিভি ভারতে দেখানোর ব্যাপারে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। আমি এখনই এ ব্যাপারে বলতে চাই না, যেহেতু ভারতে নির্বাচন চলছে। কিন্তু খুব সহসা আপনাদের সুসংবাদ আমরা দিতে পারব, সুসংবাদ তৈরি হয়ে আছে, (এখন) ঘোষণা করতে চাই না। বাংলাদেশ-ভারতের যৌথ প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিবুর রহমানের জীবনীভিত্তিক চলচ্চিত্র নির্মাণে স্ক্রিপ রাইটার আগামি সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবেন বলে জানান হাছান মাহমুদ। ভারত-বাংলাদেশের প্রযোজনায় বঙ্গবন্ধুর ওপর একটি ছবি নির্মিত হতে যাচ্ছে। সেই ছবির পরিচালক হচ্ছেন শ্যাম বেনেগাল। সেটি নিয়ে বাংলাদেশের একটি প্রতিনিধি দল প্রধানমন্ত্রীর উপদেষ্টা গওহর রিজভীর নেতৃত্বে তথ্য সচিবসহ সেখানে গিয়েছিলেন। সেখানে অনেক গুরুত্বপূর্ণ অগ্রগতি হয়েছে। বঙ্গবন্ধু ফিল্মের কাজ ইতোমধ্যে শুরু হয়েছে। স্ক্রিপ রাইটার আগামি সপ্তাহে বাংলাদেশে আসবেন এবং দুই সপ্তাহ থাকবেন। হাছান মাহমুদ জানান, যৌথ মালিকানা ও প্রযোজনায় এই চলচ্চিত্রটিতে বাংলাদেশের ৬০ ভাগ এবং ৪০ ভাগ মালিকানা ভারত সরকারের। ইতোমধ্যে ভারতের পক্ষ থেকে প্রযোজনীয় অর্থ বরাদ্দ দেওয়া হয়েছে, কাজ শুরু হয়ে গেছে। ভারতের হাই কমিশনারের সঙ্গে ভারত-বাংলাদেশের দ্বিপক্ষীয় বিভিন্ন বিষয়ে আলোচনা হয়েছে বলেও জানান তথ্যমন্ত্রী।

Please follow and like us:
0