মঙ্গল. মার্চ ৩১, ২০২০

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন কী?

কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন কী?

Last Updated on

স্বাস্থ্য ডেস্ক : কোভিড-১৯ নামের নতুন করোনাভাইরাস ছড়িয়ে পড়ার পর থেকে ‘কোয়ারেন্টাইন’ এবং ‘আইসোলেশন’- শব্দ দুটি ব্যাপকভাবে শোনা যাচ্ছে। তবে এ দুটি শব্দের অর্থ এবং ব্যবহারীক প্রয়োগ নিয়ে অনেকের মধ্যে বিভ্রান্তি বা ভীতি তৈরি হতে পারে। কোয়ারেন্টাইন ও আইসোলেশন সম্পর্কে রাইজিংবিডির সঙ্গে কথা বলেছেন রেজিয়া তালেব হাসপাতালের মেডিসিন ও হরমোন রোগ বিশেষজ্ঞ ডা. জহুরুল হক।
কোয়ারেন্টাইন কী?
যেসব ব্যক্তিকে আপাতদৃষ্টিতে সুস্থ মনে হয়, কিন্তু সে সুস্থ হতে পারে, আবার নাও পারে, তার মধ্যে হয়তো জীবাণু আছে কিন্তু তার মধ্যে কোনো ধরনের উপসর্গ দেখা দেয়নি- এমন ব্যক্তিদের কোয়ারেন্টাইনে রাখা হয়। করোনাভাইরাসের ক্ষেত্রে একজন মানুষকে প্রাথমিকভাবে ১৪ দিন এভাবে বিশেষ ব্যবস্থায় রাখা হয়। ১৪ দিন পর্যন্ত কাউকে কোয়ারেন্টাইন করে রাখলে যদি তার ভেতরে জীবাণু থাকে তাহলে উপসর্গ দেখা দেবে। কোয়ারেন্টাইন থেকে লক্ষণ প্রকাশ না হলে তাকে সম্পূর্ণ সুস্থ বলা হয়। কোয়ারেন্টাইনে রাখা অবস্থায় উপসর্গ দেখা দিলে আইসোলেশনে নিয়ে যেতে হবে।
আইসোলেশন কী?
আইসোলেশন হচ্ছে, কারো মধ্যে যখন জীবাণুর উপস্থিতি ধরা পড়ে বা ধরা না পড়লেও তার মধ্যে উপসর্গ থাকে তখন তাকে আলাদা করে চিকিৎসার ব্যবস্থা করাই হলো আইসোলেশন। বিশেষ এই পদ্ধতিতে কোনো রোগীর হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র অন্য কারো সংস্পর্শে যাবে না। জীবাণু যাতে ছড়িয়ে পড়তে না পারে, এজন্য রোগীকে যত রকম ব্যারিয়ার দেওয়া সম্ভব, আইসোলেশনে তা দেওয়া হয়।
সংক্ষেপে বলতে গেলে বলা যায়, আইসোলেশন হচ্ছে অসুস্থ ব্যক্তিদের জন্য, আর কোয়ারেন্টাইন হচ্ছে সুস্থ বা আপাত সুস্থ ব্যক্তিদের জন্য। আইসোলেশনে কতদিন রাখা হবে তার কোনো নির্দিষ্ট সময় নেই। পুরোপুরি সেরে না ওঠা পর্যন্ত আইসোলেশনে রাখা হয়।
করোনাভাইরাস সংক্রমণের নিশ্চিত কিছু উপসর্গ
করোনাভাইরাস বিশ্বজুড়ে এখন আলোচিত শব্দ। ভাইরাসটি সুস্থ মানুষের শরীরে প্রবেশের ১৪ থেকে ২৪ দিনের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়। যদিও উপসর্গগুলো সুনির্দিষ্ট নয়। অর্থাৎ রোগটিতে যেসব উপসর্গ দেখা দেয় তা শ্বাসতন্ত্রের অন্যান্য রোগেও প্রকাশ পায়। এর কমন তিনটি উপসর্গ হচ্ছে- জ্বর, কাশি এবং শ্বাসকষ্ট।
করোনাভাইরাসে আক্রান্ত রোগীদের জ্বর কমন একটি উপসর্গ। একটি বিশ্লেষণধর্মী প্রতিবেদন থেকে জানা গেছে, এই জ্বর সাধারণত ১০০.৪ ডিগ্রি ফারেনহাইট অথবা আরো বেশি হতে পারে।
করোনাভাইরাসের দ্বিতীয় সর্বাধিক কমন উপসর্গ কাশি। করোনাভাইরাস সংক্রমণের ক্ষেত্রে সাধারণত শুষ্ক কাশি হয়। ভাইরাসটি বেশি ছড়ায় সংক্রমিত লোকের শ্বাসতন্ত্রীয় তরল কণিকা দ্বারা এবং যে মানুষগুলো তাদের কাছাকাছি থাকেন (প্রায় ৬ ফিট) তাদের মধ্যে।
হাসপাতালে ভর্তিকৃত ৩ থেকে ৩১ শতাংশ করোনাভাইরাস রোগী শ্বাসকষ্টে ভুগে থাকেন। এটি করোনাভাইরাস সংক্রমণের তৃতীয় সর্বাধিক কমন উপসর্গ। এই শ্বাসকষ্ট ভয়ানক হতে পারে। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার মতে, করোনাভাইরাস সংক্রমণের আরেকটি কমন উপসর্গ হচ্ছে ক্লান্তি।
এএফপি’র প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, করোনাভাইরাসের সংক্রমণে হালকা থেকে মাঝারি উপসর্গ নিজ থেকেই দূর হয়ে যায়। এই উপসর্গগুলো যদি মারাত্মক সমস্যা তৈরি করে তখন হটলাইন নম্বরে যোগাযোগ করতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এ আক্রান্ত কিছু রোগী মাথাব্যথার অভিযোগ করেছেন এবং কিছু রোগী গলাব্যথায় ভুগেছেন। করোনাভাইরাসের কারণে মাথাব্যথা হচ্ছে- এটা বলা কঠিন। কিন্তু মাথাব্যথার সঙ্গে জ্বর, শুষ্ক কাশি ও শ্বাসকষ্ট থাকলে এবং সম্প্রতি করোনাভাইরাস ছড়িয়েছে এমন স্থানে ভ্রমণ করলে অবশ্যই সতর্ক হতে হবে।
বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার একটি প্রতিবেদনে বলা হয়েছে, কোভিড-১৯ এর কিছু কেস ছিল উপসর্গবিহীন, অর্থাৎ রোগীদের মধ্যে উপসর্গ প্রকাশ পায়নি।
Ñ

Please follow and like us:
3