করোনায় দেশে আরও একজনের মৃত্যু, নতুন আক্রান্ত নেই

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক
নভেল করোনাভাইরাসে সংক্রমিত আরও একজনের মৃত্যুর মধ্য দিয়ে বাংলাদেশে মৃতের সংখ্যা বেড়ে হয়েছে পাঁচজন। তবে গত ২৪ ঘণ্টায় ৮২ জনের নমুনা পরীক্ষা করে নতুন করে কারও মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েনি বলে জানিয়েছে সরকারের রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা ইনস্টিটিউট- আইইডিসিআর। ইনস্টিটিউটের পরিচালক অধ্যাপক মীরজাদী সেব্রিনা ফ্লোরা গতকাল বুধবার এক ভার্চুয়াল ব্রিফিংয়ে নভেল করোনাভাইরাস মহামারীর সর্বশেষ পরিস্থিতি তুলে ধরেন। তিনি বলেন, দেশে এ পর্যন্ত মোট ৩৯ জনের মধ্যে এ ভাইরাসের সংক্রমণ ধরা পড়েছে। তাদের মধ্যে আরও দুইজন সুস্থ হয়ে বাড়ি ফিরে গেছেন। ফলে সুস্থ হয়ে ওঠা রোগীর সংখ্যা দাঁড়ালো মোট সাতজনে।
সংবাদ সম্মেলনে জানানো হয়, বিশ্বজুড়ে করোনা ভাইরাস সংক্রমণ শুরু হওয়ার পর বাংলাদেশ এ পর্যন্ত ৭৯৪ জনের নমুনা পরীক্ষা করা হয়েছে। গত ২৪ ঘণ্টায় নমুনা পরীক্ষা হয়েছে ৮২ জনের। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, মারা যাওয়া ওই ব্যক্তির মধ্যে গত ১৮ মার্চ সংক্রমণ ধরা পড়ে। বিদেশ থেকে আসা একজন রোগীর পরিবারের সদস্য তিনি। অসুস্থ হওয়ার পর ঢাকার বাইরে একটি হাসপাতালে আইসোলেশনে থেকে চিকিৎসা নিচ্ছিলেন তিনি।

কিন্তু পরিস্থিতি খারাপ হওয়ার কারণে তাকে সেখান থেকে ঢাকার কুয়েত মৈত্রী হাসপাতালে নিয়ে আসা হয়। তার ডায়াবেটিস এবং হাইপারটেনশন ছিল। এ সমস্ত জটিলতার কারণে তিনি আজ (গতকাল বুধবার) সকালে মৃত্যুবরণ করেছেন। আমরা তার আত্মার মাগফেরাত কামনা করছি। এছাড়া আক্রান্ত রোগীদের মধ্যে দুজনের ক্ষেত্রে পরপর দুবার নমুনা পরীক্ষার ফলাফল ‘নেগেটিভ’ আসায় তাদের হাসপাতাল থেকে ছাড়পত্র দেওয়া হয়েছে বলে জানান অধ্যাপক ফ্লোরা। তিনি বলেন, দেশে এখন প্রাতিষ্ঠানিক কোয়ারেন্টাইনে আছেন ৪৭ জন। আরও ৪৭ জন আছেন আইসোলেশনে। সেব্রিনা ফ্লোরা বলেন, লিমিটেড স্কেলে লোকালি কমিউনিটি ট্রান্সমিশন হয়ে থাকতে পারে। আমরা সামাজিকভাবে ওই এলাকা থেকে বিচ্ছিন্ন করে সেটাকে নিয়ন্ত্রণ করে প্রতিরোধ করার কার্যক্রম নিয়েছি।
এখন পর্যন্ত সারা বাংলাদেশে কমিউনিটি ট্রান্সমিশন শুরু হয়েছে এমন কোনো পরিস্থিতি সৃষ্টি হয়নি। ইতোমধ্যে আমরা যে তথ্যগুলো সংগ্রহ করেছি তার ভিত্তিতে যে নমুনা সংগ্রহ করেছি তাতে পজিটিভ হওয়ার হার অনেক কম। তিনি বলেন, আমরা নিউমোনিয়ার রোগীদের নমুনা পরীক্ষা করেছি। তাদের থেকেও দু’জন আক্রান্ত পেয়েছি। পরবর্তী সময়ে তথ্য বিশ্লেষণ করে দেখা গেছে তাদের সঙ্গে বিদেশ থেকে আসা মানুষের সংস্পর্শে আসার ইতিহাস ছিল। সে সব বিষয় বিশ্লেষণ করে বাংলাদেশে লোকাল ট্রান্সমিশন হয়েছে সেটা এখনও বলা যাবে না।
তিনি বলেন, খুব প্রয়োজন ছাড়া কেউ ঘর থেকে বের হবেন না। এমনকি হাসপাতালেও যাবেন না। ফ্লোরা বলেন, প্রাথমিক পর্যায়ে কোভিড-১৯ পরীক্ষা আইইডিসিআর-এ করা হচ্ছে। পরবর্তীতে রোগীর সংখ্যা যদি বাড়ে তাহলে এ পদ্ধতিটি সম্প্রসারিত করা হবে। আইইডিসিআর এর পাশাপাশি আরো কয়েকটি প্রতিষ্ঠানে পরীক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারিত করা হবে। বিভাগীয় শহরেও করোনা পরীক্ষার ব্যবস্থা করা হবে। ডা. ফ্লোরা বলেন, করোনার পরীক্ষা পদ্ধতি সম্প্রসারিত করে ঢাকার বেশ কয়েকটি কেন্দ্রে স্থাপন করা হবে। ঢাকার বাইরে বিভাগীয় শহরেও এ কার্যক্রম নিয়ে যাওয়া হচ্ছে। রাজধানীতে ঢাকা শিশু হাসপাতাল, ঢাকা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চালু হচ্ছে। পরবর্তীতে সলিমুল্লাহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতালেও এই পরীক্ষা করা হবে। তিনি বলেন, ঢাকার বাইরে আজকে বা কালকের মধ্যেই এই পরীক্ষা চালু শুরু হয়ে যাবে।

চট্টগ্রামের ফৌজদারহাটে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ট্রপিক্যাল অ্যান্ড ইনফেকশাস ডিজিজেস (বিআইটিআইডি), কক্সবাজার মেডিকেল কলেজে আইইডিসিআর এর একটি ফিল্ড ল্যাবরেটরি আছে সেখানেও পরীক্ষা পদ্ধতিটি সম্প্রসারণ করা হয়েছে। এছাড়া বিভাগীয় শহরে ময়মনসিংহ মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, রংপুর মেডিকেল কলেজ, রাজশাহী মেডিকেল কলেজ হাসপাতাল, খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে এটি চালু হবে। পরবর্তীতে বরিশালের শেরে-ই বাংলা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে সম্প্রসারণ করা হবে। যে সকল মানুষের নমুনা পরীক্ষা করা প্রয়োজন তারা যেন পরীক্ষা করতে পারেন, সে ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES