করোনার প্রভাব ফুলের বাজারে

করোনার প্রভাব ফুলের বাজারে

নিজস্ব প্রতিবেদক : পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে প্রতিবছরের মতো এবারও দেশের বাজারে ফুলের চাহিদা বেশি। দেশের বাজারে ফুলের একটি বড় অংশ আসে চীন থেকে। কিন্তু এ বছর করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে আসা ফুলের জাহাজ সাগরে আটকে আছে বলে জানিয়েছেন ব্যবসায়ীরা। ফলে অন্যবারের তুলনায় এবার পণ্যটির দাম বেশ চড়া। দাম বেশি হওয়ায় ক্রয়ও কম হচ্ছে। গতকাল বৃহস্পতিবার সকালে রাজধানীর শাহবাগের ফুলের দোকানগুলো ঘুরে দেখা যায়, দোকানগুলোতে ফুলের পরিমাণ অন্যবারের তুলনায় কম। জানতে চাইলে অধিকাংশ বিক্রেতা জানান, চীন থেকে বেশিরভাগ ফুল আসে। কিন্তু এবার করোনা ভাইরাসের জন্য আমদানি বন্ধ রয়েছে। ফুলতলা ফ্লাওয়ার সপের ম্যানেজার মো. জাহাঙ্গীর হোসেন বলেন, করোনা ভাইরাসের কারণে চীন থেকে ফুল আসা বন্ধ থাকায় বাজারে ফুলের সরবরাহ কম। দামও আগের চেয়ে দ্বিগুণ। অন্য বার লাল-সাদা গোলাপ যে দামে বিক্রি হতো, এবার তা দ্বিগুণের চেয়ে বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। দাম বেশি হওয়ায় বেচাকেনাও কমে গেছে। জাহাঙ্গীরের সঙ্গে কথা বলার সময় কয়েকজন ফুল কিনতে তার দোকানে আসেন। কিন্তু দাম বেশি হওয়ায় দর কষাকষির পর তারা ফুল না কিনেই চলে যান। পহেলা ফাল্গুন ও ভালোবাসা দিবস উপলক্ষে গোলাপ ফুল এবং মেয়েদের মাথার ফুলের বেনি সবচেয়ে বেশি বিক্রি হয় বলে জানান দোকানিরা। অন্য বছর প্রতি পিস গোলাপ ১০-১৫ টাকায় বিক্রি হলেও এবার তা ২৫-৩০ টাকায় বিক্রি হচ্ছে। আর মাথার বেনি বিক্রি হচ্ছে প্রতি পিস ১০০ টাকায়। চায়না গোলাপ (আগে আমদানি করা) প্রতি পিস ৫০ টাকা এবং সাদা গোলাপ ৩০ টাকা করে বিক্রি হচ্ছে। নিউ ফুলতলার মালিক পারভেজ চৌধুরী বলেন, করোনা ভাইরাস আতঙ্কে চীন থেকে আসা একটি বড় ফুলের জাহাজ সাগরে আটকে আছে। দেশে ঢুকতে দেওয়া হচ্ছে না। এ কারণে ফুল নেই। তাই বেশি দামে বিক্রি করা লাগছে। এক প্রশ্নের জবাবে তিনি বলেন, এসব দিবস উপলক্ষে ফুলের দাম একটু বেশি থাকে, কিন্তু এত না। নিউ অপরাজিতা দোকানের ম্যানেজার মো. দুলাল বলেন, চীন থেকে বাংলাদেশের চেয়ে দ্বিগুণ ফুল ওঠে বাজারে। সেখান থেকে ফুল না আসায় দেশি ফুলের ওপর চাপ পড়ছে। এ কারণে দাম বেড়ে গেছে। মো. দুলাল বলেন, এ বছর পহেলা ফাল্গুন আর ভালবাসা দিবস একই দিনে হওয়ায় বিক্রি কম হচ্ছে।

Please follow and like us: