করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে সরকার প্রস্তুত : প্রধানমন্ত্রীর

করোনার দ্বিতীয় ধাক্কা সামলাতে

নিজস্ব প্রতিবেদক : বশ্বিক মহামারি করোনাভাইরাসের আরেকটি ধাক্কা আসছে বলে জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। প্রথমবারের অভিজ্ঞতা দিয়ে করোনার দ্বিতীয় ঢেউ মোকাবেলায় সরকারের প্রস্তুতি রয়েছে। তবে এক্ষেত্রে সবাইকে সতর্ক হতে হবে। সবাই স্বাস্থ্যবিধি মেনে চললে দ্বিতীয় ধাক্কা সরকারের পক্ষে সামলানো সম্ভব বলে মনে করেন সরকারপ্রধান।
গতকাল রোববার সকালে গণভবন থেকে ভিডিও কনফারেন্সে তিনটি সেতু উদ্বোধনকালে তিনি এসব কথা বলেন। এদিন মাগুরার মহম্মদপুরে মধুমতী নদীর ওপর শেখ হাসিনা সেতু, যশোরের অভয়নগরে ভৈরব নদীর ওপর একটি সেতু এবং নারায়ণগঞ্জের রূপগঞ্জে শীতলক্ষ্যা নদীর ওপর একটি সেতুর উদ্বোধন করেন প্রধানমন্ত্রী। এছাড়া পাবনায় বীর মুক্তিযোদ্ধা রফিকুল আলম বকুল স্বাধীনতা চত্বরেরও উদ্বোধন করেন। করোনাভাইরাস পরিস্থিতির কারণে মুজিববর্ষের কর্মসূচি জাঁকজমকভাবে পালন করতে না পারার কথা জানিয়ে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের ব্যাপক আয়োজন ছিল। কিন্তু যেভাবে আমরা করতে চেয়েছিলাম ঠিক সেভাবে করতে পারিনি। করোনাভাইরাস নামে এমন একটা ভাইরাস সারাবিশ্বকে অচল করে দিল। শুধু বাংলাদেশ বলে না, সমগ্র বিশ্বের মানুষই কিন্তু এর জন্য দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।’
পাশাপাশি করোনাভাইরাস সংক্রমণ পরিস্থিতির সময় সকল শ্রেণি-পেশার মানুষের সহায়তা প্রদান করার জন্য, দেশের মানুষের পাশে থাকার জন্য প্রজাতন্ত্রের সকল স্তরের কর্মকর্তা-কর্মচারী, সশস্ত্র বাহিনী, আওয়ামী লীগসহ সহযোগী সংগঠনের ভূমিকার কথা স্মরণ করে তাদের প্রতি ধন্যবাদ জানান। প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘তারপর আর একটা নতুন ধাক্কা আসছে বিশ্বব্যাপী। আমাদের এখন থেকে সেই প্রস্তুতিও আমরা নিচ্ছি। কারণ এর ফলে মানুষ যেন আর ক্ষতিগ্রস্ত না হয়। কারণ প্রথমদিকে আমাদের অতটা অভিজ্ঞতা ছিল না। এখন অন্তত অভিজ্ঞতা হয়েছে। কাজেই নিজেকে সুরক্ষিত রাখা এবং অপরকে সুরক্ষিত করা, এই দায়িত্বটা সকলকে পালন করতে হবে এবং আমরা এটা করতে পারবো বলে দৃঢ়ভাবে বিশ্বাস করি।’
সরকারপ্রধান বলেন, ‘তাছাড়া যে ভ্যাকসিনটা আবিষ্কার হচ্ছে, সেটা এরইরমধ্যে ক্রয় করার জন্য আমরা আগাম টাকা পয়সা দিয়ে এই জিনিসটা বুকড করে রেখে দিয়েছি। কাজেই সেইদিক দিয়ে দেশবাসীর চিন্তার কিছু নেই। আমরা অন্যান্য সবকিছু বাদ দিয়ে আগে মানুষকে কিভাবে সুরক্ষিত করব, সেগুলো আমরা দৃষ্টি দিচ্ছি বলে।’
যোগাযোগের একটা ব্যাপক নেটওয়ার্ক গড়ে তুলেছি : প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আমাদের সরকার আসার পর সারাদেশে যোগাযোগের একটা ব্যাপক নেটওয়ার্ক আমরা গড়ে তুলেছি এবং যার ফলে আজকে আমাদের অর্থনীতির চাকা অনেক সচল এবং আরও অনেক কাজ আমরা শুরু করেছি। সেগুলোও আমরা সম্পন্ন করব ইনশাল্লাহ।’
শেখ হাসিনা জানান, বহুল কাঙ্ক্ষিত পদ্মা সেতু চালু হলে দক্ষিণাঞ্চলসহ সারাদেশের যোগাযোগব্যবস্থার ব্যাপক উন্নতি হবে। এতে অর্থনীতির চাকা আরও সচল হবে। পদ্মা সেতুর সঙ্গে যোগাযোগ স্থাপন যেন সহজ হয় সে লক্ষ্যে সরকার বিভিন্ন এলাকায় নতুন নতুন সেতু নির্মাণ করছে বলেও জানান প্রধানমন্ত্রী। দেশ গঠনে জাতির পিতার অবদানের কথা তুলে ধরে প্রধানমন্ত্রী বলেন, ‘আওয়ামী লীগ একটা সংগঠন। আওয়ামী লীগ হঠাৎ করেই কোনোকিছু করেনি। আওয়ামী লীগ যখন বিরোধী দলে তখন থেকেই কিন্তু আমাদের পরিকল্পনা ছিল। জাতির পিতা কিন্তু এসব পরিকল্পনা বহু আগেই করে গেছেন। তিনি আমাদের যে সংবিধান দিয়ে দিয়েছিলেন সেই সংবিধানেই কিন্তু এদেশের মানুষের সার্বিক উন্নয়নের কথা মৌলিক চাহিদা পূরণের কথা স্পষ্ট উল্লেখ করে গেছেন।’ শেখ হাসিনা বলেন, ‘সেইদিকেই অনুসরণ করেই আমরা উন্নয়নের পরিকল্পনাটা নেই। ফলে অন্য কিছু করবার প্রয়োজন হয়নি এবং তার বক্তৃতাগুলো যদি শুনি সেখানেই কিন্তু স্পষ্ট দিকনির্দেশনা রয়েছে, কিভাবে এদেশের উন্নতি হতে পারে। আমরা সেটাই অনুসরণ করে সব সময় প্রস্তুতি নিয়েছি, পরিকল্পনা নিয়েছি এবং যখনি সরকারে এসেছি তা বাস্তবায়ন করেছি। যার শুভফলটা দেশের মানুষ পাচ্ছে।’

Please follow and like us: