কমছে না তেল-চালের দাম

চালের দাম

নিজস্ব প্রতিবেদক : ভোজ্যতেলের দাম কমেনি। কমেনি চালের দামও। বরং সরু বা চিকন চালের দাম খানিকটা বেড়েছে। দাম বাড়ার তালিকায় রয়েছে ব্রয়লার মুরগিও। রাজধানীর কয়েকটি বাজার ঘুরে দেখা যায়, চিকন সব ধরনের চালের দাম বেড়েছে। সয়াবিন তেলের দামও গত সপ্তাহের চেয়ে বেড়েছে লিটারে ২ টাকা করে। শুধু তা-ই নয়, সরকার ভোজ্যতেলের মূল্য নির্ধারণ করে দেওয়ার দু’দিন পার হয়ে গেলেও বাজারে এর কোনও প্রভাব দেখা যায়নি। তেল ব্যবসায়ীরা বলছেন, সরবরাহ কম থাকায় দাম বেড়েছে। গত এক মাস ধরে পণ্যটির দাম বেড়েই চলেছে। এদিকে গত সপ্তাহের তুলনায় বাজারে সরু বা চিকন চালের দাম কেজিতে বেড়েছে ১-২ টাকা। গত সপ্তাহে যে চাল ৬২ টাকা ছিল, শুক্রবার সেই চাল বিক্রি হয়েছে ৬৪ টাকা দরে। কাওরান বাজারের চাল ব্যবসায়ী আজিবর রহমান বলছেন, চালের দাম আগের মতোই স্থিতিশীল। তবে, সরবরাহজনিত কারণে সরু বা চিকন চালের দাম গত সপ্তাহের চেয়ে কেজিতে ২ টাকা বেড়েছে।
টিসিবি বলছে, গত এক বছরে সয়াবিন তেলের দাম বেড়েছে ৪০ শতাংশ। এরমধ্যে খোলা পাম অয়েলের দাম বেড়েছে ৪২ শতাংশ। আর খোলা সয়াবিনের দাম বেড়েছে ৩৫ শতাংশ। পাম অয়েল সুপারের দাম বেড়েছে ৩৭ শতাংশ। আর ৫ লিটার বোতলের সয়াবিনের দাম বেড়েছে ২৫ শতাংশ এবং এক লিটার বোতলের দাম বেড়েছে ২৮ শতাংশ। বাংলাদেশ পাইকারি ভোজ্যতেল ব্যবসায়ী সমিতির সভাপতি হাজী গোলাম মাওলা বলেন, ‘বেশ কিছু দিন ভোজ্যতেলের দাম বাড়তি থাকলেও এখন ধীরে ধীরে কমে আসছে। আন্তর্জাতিক বাজারে দাম কমার কারণে আমাদের পাইকারি বাজারেও সয়াবিন তেলের দাম কিছুটা কমতির দিকে। অবশ্য এখন তেলের সরবরাহ তুলনামূলক কম। এ কারণে দাম যেভাবে বেড়েছে সেভাবে কমছে না।’ এর আগে গত মঙ্গলবার বাণিজ্য মন্ত্রণালয়ে অত্যাবশ্যকীয় পণ্য বিপণন ও পরিবেশ বিষয়ক জাতীয় কমিটির সভায় খুচরা বাজারে বোতলজাত সয়াবিন তেলের লিটারপ্রতি দাম ১৩৫ টাকা, খোলা সয়াবিন ১১৫ টাকা ও পাম সুপার ১০৪ টাকা নির্ধারণ করে দেওয়া হয়। বোতলজাত সয়াবিনের পাঁচ লিটারের এক বোতলের দাম ধরা হয় ৬৩০ টাকা। মিরপুরের বাসিন্দা শাহাবুল ইসলাম বলেন, গত বছরে যে সয়াবিনের দাম ছিল ১০০ টাকা লিটার, এখন সেই সয়াবিন কিনতে হচ্ছে ১৩৫ টাকায়। এক বছর আগে খোলা সয়াবিন ৮০-৮৫ টাকায় পাওয়া যেত, এখন সেই খোলা সয়াবিন ১১৫-১২০ টাকায় কিনতে হচ্ছে। একইভাবে ৪৬৫ টাকায় যে ৫ লিটারের বোতল পাওয়া যেত এখন সেটি কিনতে হচ্ছে ৬৩০ টাকা। টিসিবি’র হিসাবে, খুচরা বাজারে খোলা সয়াবিন তেল প্রতি লিটার এখন ১১৬-১২০ টাকা দরে বিক্রি হচ্ছে। পাম অয়েল বিক্রি হয় ১০৫-১০৭ টাকা লিটার।
সয়াবিন ছাড়া অন্যান্য তেলের মধ্যে মেশিনে ভাঙানো সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২০০ টাকা কেজিতে। ঘানিতে বানানো সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২৫০ টাকা কেজি। প্যাকেটজাত সরিষার তেল বিক্রি হচ্ছে ২৬০ টাকা কেজিতে। এছাড়াও এক্সট্রা ভার্জিন অলিভ অয়েল মানভেদে ৬০০ থেকে ১০০০ টাকা কেজিতে পাওয়া যাচ্ছে খুচরা দোকানে।
তেলের দামে অসন্তুষ্ট ভোক্তা
রাজধানীর বেশ কয়েকটি মার্কেটে ক্রেতাদের সঙ্গে কথা বলে জানা যায়, সয়াবিনের দাম সরকার যা নির্ধারণ করেছে সেটি এমনিতেই বেশি। এর উপর খুচরা বাজারে সরকারের নির্ধারিত দামের চেয়ে বেশি দাম চাওয়া হচ্ছে বলে অভিযোগ ভোক্তাদের। তেল কিনতে আসা এক ক্রেতার সঙ্গে কথা হলে তিনি বলেন, কিছুদিন আগেও ১০৫ থেকে ১১০ টাকার মধ্যে এক লিটার বোতলজাত তেল কিনেছি। সেই তেল এখন ১৩৫ টাকা। এই দাম নির্ধারণের মাধ্যমে সরকার কার্যত ব্যবসায়ীদের পাশেই দাঁড়িয়েছেন। যেখানে করোনা পরবর্তী সময়ে মানুষের আয়-রোজগার কমেছে, সেখানে তেলের এই মূল্যবৃদ্ধি অস্বাভাবিক।

Please follow and like us: