বৃহঃ. ফেব্রু ২৭, ২০২০

কতটা প্রস্তুত আইসোলেশন ওয়ার্ড?

কতটা প্রস্তুত আইসোলেশন ওয়ার্ড?

Last Updated on

স্বাস্থ্য ডেস্ক: নতুন করোনা ভাইরাস বা কভিড-১৯ নিয়ে আতঙ্কিত পুরো বিশ্ব। বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার পাশাপাশি কাজ শুরু করেছে জাতিসংঘ। এই দলে আরও যোগ হয়েছে ওয়ার্ল্ড অর্গানাইজেশন অব অ্যানিমেল এবং ফুড এগ্রিকালচারাল অর্গানাইজেশন (এফএও)। সরকার বলছে, বাংলাদেশ ঝুঁকিতে থাকলেও অতিঝুঁকিতে নেই। আতঙ্কিত হওয়ারও কিছু নেই। সংশ্লিষ্ট সরকারি প্রতিষ্ঠানগুলোর দাবি, বাংলাদেশ কভিড-১৯ মোকাবিলায় প্রস্তুত। সরকার ইতোমধ্যে সরকারি কয়েকটি হাসপাতালে আইসোলেশন ওয়ার্ড তৈরি করেছে। করোনা ভাইরাসে আক্রান্ত কাউকে পাওয়া গেলে বা সন্দেহভাজন মনে হলে তাদের এসব আইসোলেশন ওয়ার্ডে রাখা হবে। তবে এসব আইসোলেশন ওয়ার্ড আসলে কতটা আন্তর্জাতিক মানের হয়েছে, তা নিয়েও প্রশ্ন উঠেছে।
নাম প্রকাশে অনিচ্ছুক একাধিক চিকিৎসক বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, আইসোলেশন ওয়ার্ডের নামে যা করা হচ্ছে সেগুলোকে আদর্শ বলা ঠিক হবে না। আন্তর্জাতিক স্ট্যান্ডার্ড মানা হয়নি। আইসোলেশনের জন্য ঠিক যেরকম রুম হওয়া দরকার, সেরকম রুম কয়েকটি হাসপাতালেই নেই। পৃথক কক্ষ, পৃথক ওয়াশরুম, ভেন্টিলেশন থাকার কথা, কিন্তু সেগুলো নেই। কেবল পাশাপাশি কয়েকটি বেড রাখা হয়েছে, এক মিটার দূরত্বে।
যদি কোনও পজিটিভ রোগীর সঙ্গে নেগেটিভ রোগী একইসঙ্গে আইসোলেশন ওয়ার্ডে থাকে, তাহলে তো তাদের মিক্সড-আপ হয়ে যাবে। তাই ভবিষ্যতে এ ধরনের ‘ডেডলি অ্যাটাক’ প্রতিরোধের জন্য অন্য কোথাও, ঢাকার অদূরে বিশ্ব স্বাস্থ্য সংস্থার নির্দেশনা মেনে একটি বিশেষায়িত হাসপাতাল তৈরি করতে হবে। ঢাকা মেডিক্যাল কলেজ হাসপাতাল, কুর্মিটোলা জেনারেল হাসপাতালসহ জেনারেল হাসপাতালে এসব রোগীকে না রেখে যেখানে জীবাণু ছড়ানোর সম্ভাবনা কম এমন জায়গায় এ ধরনের সেন্টার তৈরি করা উচিত। চিকিৎসকরা বলছেন, সরকারের উচিত ছিল ঢাকার অদূরে নির্জন স্থানে একটি আইসোলেশন সেন্টার তৈরি করা।
এ বিষয়ে স্বাস্থ্য অধিদফতরের মহাপরিচালক অধ্যাপক ডা. আবুল কালাম আজাদ বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, প্রতিটি দেশের কৌশল আলাদা। আর আমাদের দেশে তো এরকম কিছু করার মতো পরিস্থিতি তৈরি হয়নি। আমাদের যে আইসোলেশন ওয়ার্ডের ব্যবস্থা, আর্থসামাজিকসহ নানা কারণে এর চেয়ে উন্নত করা আমাদের পক্ষে সম্ভব না। আমাদের দেশে যেন এই ভাইরাস না আসতে পারে, সেদিকেই গুরুত্ব বেশি দিচ্ছি আমরা।
জাতীয় রোগতত্ত্ব, রোগ নিয়ন্ত্রণ ও গবেষণা প্রতিষ্ঠানের (আইইডিসিআর) সাবেক প্রধান বৈজ্ঞানিক কর্মকর্তা মুশতাক হোসেন। তার অভিজ্ঞতা কাজে লাগিয়ে আশকোনা হজ ক্যাম্পে কোয়ারেইন্টাইন করে রাখা হয়েছে চীনের উহান ফেরত ৩১২ শিক্ষার্থীকে।
একটি আদর্শ আইসোলেশন ওয়ার্ড কেমন হতে হয় জানতে চাইলে মুশতাক হোসেন বাংলা ট্রিবিউনকে বলেন, কোনও রোগীর হাঁচি-কাশি, মল-মূত্র অন্যকারও সংস্পর্শে যাবে না। একজন রোগীকে যতরকম ব্যারিয়ার দেওয়া যায়, তার সবটুকু দিতে হবে-এটাই একটি আদর্শ আইসোলেশন ওয়ার্ডের সংজ্ঞা। একই ধরনের একাধিক রোগী যদি হয় তাহলে এক বেড থেকে আরেক বেডের দূরত্ব কমপক্ষে এক মিটার হতে হবে। কারণ, হাঁচি-কাশি এক মিটারের বেশি দূরত্বে যায় না। তবে তার বেশি দূরত্ব রাখা হলে সেটি আরও ভালো।
মুশতাক হোসেন বলেন, এসব ওয়ার্ডে রোগীদের যারা সেবা দেবেন তারা মাস্ক পরে রোগীদের কাছে যাবেন। তারা পিপিই (পারসোনাল প্রটেকশন ইকুইপমেন্ট) পড়বেন। পিপিই-এর ধরন কী জানতে চাইলে তিনি বলেন, মাথার ক্যাপ, চোখে গগলস, হাতে গ্লাভস, নাকে মাস্ক, শরীরে কাভার-অল, ওয়াটার প্রুভ প্যান্ট, পায়ে সু-কাভার-এই পুরো পোষাককে বলা হয় পিপিই।
তিনি আরও বলেন, অক্সিজেন সিলিন্ডার থেকে শুরু করে যত যন্ত্রপাতি আছে সবকিছুই থাকবে একজন রোগীর জন্য ডেডিকেটেড। এসব রোগীর জন্য যেগুলো ব্যবহার করা হবে সেগুলো ফেলে দিতে হবে। পুনরায় ব্যবহার করতে চাইলে সেগুলো পুরোপুরিভাবে জীবাণুমুক্ত করতে হবে।

Please follow and like us:
3