বুধ. জুন ১৯, ২০১৯

ওকসের ছোবলে পাকিস্তানকে হারাল ইংল্যান্ড

ওকসের ছোবলে পাকিস্তানকে

Last Updated on

ক্রীড়া ডেস্ক : ফিফটি মাত্র দুটি। তবে প্রায় সব ব্যাটসম্যানই রান পাওয়ায় আরেকটি বড় সংগ্রহ গড়লো ইংল্যান্ড। বোলিংয়ে শুরুতেই পাকিস্তানকে কাঁপিয়ে দিলেন ক্রিস ওকস। বাজে শুরুর পর সরফরাজ আহমেদ ও বাবর আজমের বীরত্বে লড়াই করলেও হারের বৃত্ত ভাঙতে পারেনি সফরকরীরা। পঞ্চম ও শেষ ওয়ানডেতে ৫৪ রানে জিতেছে ইংল্যান্ড। ৩৫১ রান তাড়ায় ৪৬ ওভার ৫ বলে ২৯৭ রানে থমকে যায় পাকিস্তানের ইনিংস। প্রথম ম্যাচ বৃষ্টিতে ভেসে যাওয়ার পর বাকি চার ম্যাচ জিতে ৪-০ ব্যবধানে সিরিজ জিতল স্বাগতিকরা। হেডিংলিতে রোববার টস জিতে ব্যাট করতে নেমে জনি বেয়ারস্টো ও জেমস ভিন্সের ব্যাটে ভালো শুরু পায় ইংল্যান্ড। তবে সম্ভাবনাময় ইনিংস বড় করতে পারেননি দুই ওপেনারের কেউই। নিষেধাজ্ঞা কাটিয়ে ফেরা ওয়েন মর্গ্যানের সঙ্গে শতরানের জুটিতে দলকে দৃঢ় ভিতের ওপর দাঁড় করান জো রুট। ছন্দে থাকা এই টপ অর্ডার ব্যাটসম্যান ৯ চারে করেন ৮৪ রান। বাঁহাতি মর্গ্যান ৬৪ বলে ফিরেন ৭৬ রান করে।
মিডল অর্ডারে প্রত্যাশিত ঝড় তুলতে পারেননি জস বাটলার, বেন স্টোকস। অলরাউন্ডারসহ এগারো নম্বর পর্যন্ত ব্যাটসম্যান খেলানো ইংলিশরা সাড়ে তিনশ পর্যন্ত যায় লোয়ার অর্ডারের দৃঢ়তায়। খরুচে বোলিংয়ে ৮২ রানে ৪ উইকেট নেন শাহিন শাহ আফ্রিদি। ইমাদ ওয়াসিম ৩ উইকেট নেন ৫৩ রানে। বড় রান তাড়ায় ওকসের ছোবলে শুরুতেই এলোমেলো হয়ে যায় পাকিস্তান। রানের খাতাই খুলতে পারেননি ফখর জামান, মোহাম্মদ হাফিজ। ৫ রান করে ফিরেন আবিদ আলি। ৬ রানে ৩ উইকেট হারিয়ে ফেলে সফরকারীরা। ছন্দে থাকা বাবরের সঙ্গে ১৪৬ রানের জুটিতে শুরুর ধাক্কা সামাল দিয়ে দলকে ম্যাচে ফেরান সরফরাজ। দুই ব্যাটসম্যানই ফিরে যান রান আউট হয়ে। আগের ম্যাচের সেঞ্চুরিয়ান বাবর ৮৩ বলে করেন ৮০। মাত্র তিন রানের জন্য সেঞ্চুরি পাননি সরফরাজ। পাকিস্তান অধিনায়ক ৮০ বলে ৭ চার ও দুই ছক্কায় খেলেন ৯৭ রানের ঝড়ো ইনিংস। এরপর তেমন কোনো জুটি গড়তে পারেনি পাকিস্তান। আসিফ আলি, ইমাদ ওয়াসিমরা টানতে পারেননি দলকে। শতরানে হারের শঙ্কায় পড়ে যাওয়া সফরকারীরা ব্যবধান কমায় আফ্রিদি ও হাসনাইনের ব্যাটে। দশম উইকেটে তারা গড়েন ৪৭ রানের জুটি।
শুরুতে ৩ উইকেট নেওয়া ওকস শেষে নেন দুটি। সব মিলিয়ে ৫৪ রানে ৫ উইকেট নিয়ে এই অলরাউন্ডার জেতেন ম্যাচ সেরার পুরস্কার। বিস্ফোরক ব্যাটসম্যানে ঠাসা ইংল্যান্ডের ব্যাটিংকে স্থিতি দেওয়া রুট জেতেন সিরিজ সেরার পুরস্কার। সিরিজে ব্যাটিংয়ের সুযোগ পাওয়া চার ম্যাচেই তিনশ ছাড়ানো রান পেলো ইংল্যান্ড। আত্মবিশ্বাসের তুঙ্গে থেকে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে মর্গ্যানের দল। অন্য দিকে ফল হওয়া সবশেষ ১০ ম্যাচে হারের তেতো স্মৃতি নিয়ে বিশ্বকাপে খেলতে যাচ্ছে পাকিস্তান।
সংক্ষিপ্ত স্কোর:
ইংল্যান্ড: ৫০ ওভোরে ৩৫১/৯ (ভিন্স ৩৩, বেয়ারস্টো ৩২, রুট ৮৪, মর্গ্যান ৭৬, বাটলার ৩৪, স্টোকস ২১, মইন ০, ওকস ১৩, উইলি ১৪, কারান ২৯*, রশিদ ২*; হাসান ১/৭০, আফ্রিদি ৪/৮২, হাসনাইন ১/৬৭, ওয়াসিম ৩/৫৩, ফখর ০/২৩, মালিক ০/২৯, হাফিজ ০/২৫)
পাকিস্তান: ৪৬.৫ ওভারে ২৯৭ (জামান ০, আবিদ ৫, বাবর ৮০, হাফিজ ০, সরফরাজ ৯৭, মালিক ৪, আসিফ ২২, ওয়াসিম ২৫, হাসান ১১, আফ্রিদি ১৯*, হাসনাইন ২৮; ওকস ৫/৫৪, উইলি ১/৫৫, কারান ০/৪০, স্টোকস ০/২৮, মইন ০/৬৩, রশিদ ২/৫৪)
ফল: ইংল্যান্ড ৫৪ রানে জয়ী
সিরিজ: পাঁচ ম্যাচের সিরিজে ইংল্যান্ড ৪-০ ব্যবধানে জয়ী
ম্যান অব দা ম্যাচ: ক্রিস ওকস
ম্যান অব দা সিরিজ: জো রুট

Please follow and like us:
2