এসএসসি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি বন্ধে মন্ত্রিপরিষদে দুদকের চিঠি

এসএসসি পরীক্ষার অতিরিক্ত ফি বন্ধে

নিজস্ব প্রতিবেদক : এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে অতিরিক্ত ফি বন্ধে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নেওয়ার জন্য মন্ত্রিপরিষদ বিভাগকে অনুরোধ করেছে দুর্নীতি দমন কমিশন (দুদক)।
গতকাল বৃহস্পতিবার দুদকের প্রধান কার্যালয় থেকে দুদক মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ সই করা চিঠিতে এ সুপারিশ করা হয়েছে। সংস্থাটির জনসংযোগ কর্মকর্তা প্রণব কুমার ভট্টাচার্য্য রাইজিংবিডিকে চিঠি পাঠানোর বিষয়টি নিশ্চিত করেছেন।

‘মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট/(ভোকেশনাল)/দাখিল পরীক্ষা, ২০১৯-এর ফরম পূরণের জন্য সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়ার অভিযোগের বিষয়ে প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা গ্রহণ’ শীর্ষক চিঠিতে বলা হয়েছে যে, আসন্ন মাধ্যমিক স্কুল সার্টিফিকেট, ভোকেশনাল ও দাখিল পরীক্ষা-২০১৯ এর ফরম পূরণের জন্য দেশের বিভিন্ন শিক্ষা প্রতিষ্ঠানের কতিপয় দুর্নীতিপরায়ণ শিক্ষক সরকার নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত ফি আদায় করছে।

দুদকের অভিযোগ কেন্দ্রে ও ইমেইলে প্রতিদিন প্রচুর এ ধরনের অভিযোগ পাওয়া যাচ্ছে। এ অনিয়মের বিরুদ্ধে সম্প্রতি কয়েকটি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে দুদকের অ্যানফোর্সমেন্ট টিম সরেজমিনে অনুসন্ধান করে এর সত্যতা পেয়েছে।

চিঠিতে আরো বলা হয়েছে, কোনো কোনো ক্ষেত্রে অতিরিক্ত অর্থের বিনিময়ে দুর্নীতির মাধ্যমে নির্বাচনী পরীক্ষায় অকৃতকার্য পরীক্ষার্থীদেরও ফরম পূরণের সুযোগ সৃষ্টি করে দেওয়া হচ্ছে। এরূপ অপতৎপরতা সারা দেশে সরকারি-বেসরকারি শিক্ষা প্রতিষ্ঠানসমূহের সুনাম ও ভাবমূর্তি নষ্ট করছে যা সরকারি নিয়ন্ত্রণকারী মন্ত্রণালয়/অধিদপ্তর/দপ্তর/মাঠ প্রশাসনের কর্মকর্তাদের যথাযথ হস্তক্ষেপের মাধ্যমে অবিলম্বে নিয়ন্ত্রণ করা আবশ্যক বলে কমিশন মনে করে।

এ অবস্থায় উক্ত পরীক্ষা সংক্রান্ত দুর্নীতি প্রতিরোধের জন্য সংশ্লিষ্ট সকল মন্ত্রণালয় ও অধিদপ্তরকে মাঠ প্রশাসনের মাধ্যমে যথাযথ ব্যবস্থা গ্রহণের জন্য অনুরোধ করা হলো।

এর আগে গত ৪ নভেম্বর এসএসসি পরীক্ষায় ফরম পূরণে নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ চাওয়ার অভিযোগে অভিযান চালায় দুদক। ওই দিন রাজধানীর হাজারীবাগ এলাকায় সালেহা উচ্চ মাধ্যমিক বিদ্যালয়ে অভিযোগের ভিত্তিতে অভিযানে অংশ নেন দুদকের সহকারী পরিচালক মো. ফারুক আহমেদ ও উপসহকারী পরিচালক আবুল কালাম আজাদ।

দুদক জানায়, কমিশনের অভিযান কেন্দ্রের হটলাইনে অভিযোগ আসে এসএসসি পরীক্ষা-২০১৯ এর ফরম পূরণে সরকার কর্তৃক নির্ধারিত ফি ১ হাজার ৫০০ টাকার পরিবর্তে সালেহা স্কুল অ্যান্ড কলেজ কর্তৃপক্ষ ৪ হাজার টাকা করে নিচ্ছে। তাৎক্ষণিকভাবে ঐ স্কুলে অভিযান চালান দুদক বিশেষ টিমের সদস্যরা। অভিযানকালে বিদ্যালয়টির প্রধান শিক্ষক নজরুল ইসলাম ঘটনার সত্যতা স্বীকার করেন।

এ প্রসঙ্গে দুদকের মহাপরিচালক (প্রতিরোধ) সারোয়ার মাহমুদ বলেন, সরকারের নির্ধারিত ফির অতিরিক্ত অর্থ নেওয়া সম্পূর্ণ অনৈতিক। এ জাতীয় অপরাধ যাতে সংঘটিত না হয় সে বিষয়ে কমিশন নজরদারি করছে এবং জনগণকে সচেতন হওয়ার পরামর্শ দিচ্ছে। অভিযোগ পেলে এসব অপরাধ প্রতিরোধে দুদক নিয়মিত অভিযান চালাবে।

Please follow and like us:
0