এলো খুশির ঈদ …

নিজস্ব প্রতিবেদক : ‘ও মন রমজানের ঐ রোজার শেষে এলো খুশির ঈদ’। ঈদের চাঁদ দেখার সময়কার আনন্দমুখর পরিবেশকে নিয়ে জাতীয় কবি কাজী নজরুল ইসলামের লেখা ও সুর করা এই গানটি আবারও শোনা যাবে মানুষের ঘরে-ঘরে। এটি শুধু গান নয়, ইসলামের ত্যাগ ও আদর্শের বাণী প্রচারের একটি মাধ্যমও। সিয়াম সাধনার একমাস পর দুঃখ কষ্ট ও বেদনাকে আড়াল করে খুশির আমেজ নিয়ে এসেছে পবিত্র ঈদুল ফিতর। ঈদুল ফিতর (রোজা ভাঙার দিবস) ইসলাম ধর্মাবলম্বীদের দুটো সবচেয়ে বড় ধর্মীয় উৎসবের একটি। ধর্মীয় পরিভাষায় একে ইয়াউমুল জাএজ (অর্থঃ পুরস্কারের দিবস) হিসেবেও বর্ণনা করা হয়েছে। দীর্ঘ এক মাস রোজা রাখা বা সিয়াম সাধনার পর মুসলমানেরা এই দিনটি ধর্মীয় কর্তব্যপালনসহ খুব আনন্দর সাথে পালন করে থাকেন। হিজরি বর্ষপঞ্জি অনুসারে রমজান মাসের শেষে শাওয়াল মাসের ১ তারিখে ঈদুল ফিতর উৎসব পালন করা হয়। তবে এই পঞ্জিকা অনুসারে কোনো অবস্থাতে রমজান মাস ৩০ দিনের বেশি দীর্ঘ হবে না। চাঁদ দেখা সাপেক্ষে রমজানের সমাপ্তিতে শাওয়ালের প্রারম্ভ গণনা করা হয়। সেই হিসেবে কাল শনিবারই হতে পারে ঈদুল ফেতর। ঈদের আগের রাতটিকে ইসলামি পরিভাষায় লাইলাতুল জায়জা (অর্থ: পুরস্কার রজনী) এবং চলতি ভাষায় ‘চাঁদ রাত’ বলা হয়। শাওয়াল মাসের চাঁদ অর্থাৎ সূর্যাস্তে একফালি নতুন চাঁদ দেখা গেলে পরদিন ঈদ হয়, এই কথা থেকেই চাঁদ রাত কথাটির উদ্ভব। ঈদের চাঁদ স্বচক্ষে দেখে তবেই ঈদের ঘোষণা দেয়া ইসলামি বিধান। আধুনিক কালে অনেক দেশে গাণিতিক হিসাবে ঈদের দিন নির্ধারিত হলেও বাংলাদেশে ঈদের দিন নির্ধারিত হয় দেশের কোথাও না-কোথাও চাঁদ দর্শনের ওপর ভিত্তি করে জাতীয় চাঁদ দেখা কমিটির সিদ্ধান্ত অনুসারে। দেশের কোনো স্থানে স্থানীয়ভাবে চাঁদ দেখা গেলে যথাযথ প্রমাণ সাপেক্ষে ঈদের দিন ঠিক করা হয়। ঈদের দিনে রোজা রাখা নিষিদ্ধ বা হারাম। ইসলামিক বিধান অনুসারে ২ রাকাত ঈদের নামাজ ৬ তাকবিরের সাথে ময়দান বা বড় মসজিদে পড়া হয়। ফজরের নামাজের নির্ধারিত সময় শেষ হওয়ার পর ঈদুল ফিতরের নামাজের সময় হয়। এই নামাজ আদায় করা মুসলমানদের জন্য ওয়াজিব।

Please follow and like us:
0