শনি. সেপ্টে ২১, ২০১৯

এডিআরে ১৬ মামলায় ১৪২ কোটি টাকা আয়

এডিআরে ১৬ মামলায় ১৪২ কোটি টাকা আয়

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : এডিআর হচ্ছে আদালতের বাইরে গিয়ে জাতীয় রাজস্ব বোর্ড (এনবিআর) ও করদাতাদের মধ্যে বিদ্যমান মামলা নিষ্পত্তির একটি পদ্ধতি। স্বল্প সময়ের মধ্যে মামলা নিষ্পত্তি হওয়ার কারণে এডিআর দিন দিন জনপ্রিয়তা পাচ্ছে। বিগত ২০১৮-১৯ অর্থবছরে বিকল্প বিরোধ নিস্পত্তির (এডিআর) মাধ্যমে ১৬টি মামলা নিস্পত্তি করে ১৪২ কোটি ১২ লাখ টাকার রাজস্ব আহরণ করেছে। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) অধীন মূল্য সংযোজন করের (ভ্যাট) বৃহৎ করদাতা ইউনিট (এলটিইউ)এর আগের ২০১৭-১৮ অর্থবছরে এলটিইউ ৮টি মামলা নিস্পত্তি করে মাত্র ৬ কোটি ৫৬ লাখ টাকার রাজস্ব আয় করেছিল। এডিআর পদ্ধতিতে একজন নিরপেক্ষ ফ্যাসিলেটেটর (মধ্যস্থতাকারী) দু’পক্ষের সাক্ষ্য প্রমাণের ভিত্তিতে রায় দেন। উভয় পক্ষ এ রায় মানলে বিরোধটি নিস্পত্তি হয়। আর কোনো এক পক্ষের আপত্তি থাকলে তারা বিষয়টি নিয়ে আদালতের দ্বারস্থ হতে পারেন। এ পদ্ধতির সুফল হচ্ছে স্বল্প সময়ে মধ্যে বিরোধ নিষ্পত্তি। কিন্তু আদালতের মাধ্যমে কোনো মামলা নিষ্পত্তি করতে দীর্ঘ সময়ের প্রয়োজন হয়। এ বিষয়ে ভ্যাট এলটিইউ কমিশনার মুহাম্মদ মুবিনুল কবীর বলেন, বিদায়ী ২০১৮-১৯ অর্থবছরে দ্রুত মামলা নিস্পত্তির জন্য এডিআরে ১৬টি আবেদন দাখিল করা হয়। ভ্যাট এলটিইউ এবং করদাতা দু’পক্ষের সম্মতিতে এর সব ক’টি মামলা নিস্পত্তি হয়। নিস্পত্তি হওয়া এই ১৬ মামলা থেকে ১৪২ কোটি ১২ লাখ টাকার আয় এসেছে। তিনি বলেন, আদালতের বাইরে গিয়ে দ্রুত মামলা নিস্পত্তির জন্য আমরা এডিআরে আবেদন করি। এর সুফলও পেয়েছি। স্বল্পতম সময়ের ব্যবধানের সবগুলো মামলা নিস্পত্তির মাধ্যমে প্রত্যাশিত রাজস্বও এসেছে। এনবিআরের সদস্য (লিগ্যাল এন্ড এনফোর্সমেন্ট) হাফিজ আহমেদ মুর্শেদ অর্থসূচককে জানান, মামলাজট কমাতে ২০১২ সালে আদালতের বাইরে সালিশি পদ্ধতিতে রাজস্ব মামলা নিষ্পত্তির লক্ষ্যে এডিআর ব্যবস্থা চালু করে এনবিআর। কিন্তু ব্যাবসায়ীরা তখনই এডিআরে আসে যখন দেখে কোর্টে গিয়ে লাভ নেই এবং এডিআরে সমঝোতা করতে পারে। ২০১২-১৩ অর্থবছরে গঠিত এডিআরে মোট ৪ জন ফ্যাসিলেটেটর আছেন। তারা এনবিআর ও করদাতা এই দু’পক্ষের মধ্যে মধ্যস্থতা করে মামলা নিষ্পত্তি করেন। জাতীয় রাজস্ব বোর্ডের (এনবিআর) নিষ্পত্তির তুলনায় মামলা বেশি হওয়ায় দিন দিন মামলাজট বেড়েই চলছে। সরকারের আদায়কৃত রাজস্বের সিংহভাগই যোগান দিয়ে থাকে বড় ব্যবসায়ী প্রতিষ্ঠানগুলো। প্রতিবছর রাজস্ব বোর্ডের মামলার সংখ্যা বেড়েই চলছে। এনবিআরের হিসাবে আয়কর ও শুল্ক সংক্রান্ত এ ধরণের মামলা ২৫ হাজারের অধিক। যেখানে সরকারের পাওনা ৩০ হাজার কোটি টাকার বেশি। বছরের পর বছর ধরে মামলা ঝুলে থাকায় সরকার রাজস্ব বঞ্চিত হচ্ছে। এসব মামলা এনবিআরের আপিলেট ট্রাইব্যুনাল ও হাইকোর্ট বিভাগে চলমান রয়েছে। তবে মামলা যত দ্রুত সময়ে নিষ্পত্তি করা যায় সে বিষয়ে শিগগিরই পদক্ষেপ নিচ্ছে এনবিআর।

Please follow and like us:
2