বুধ. ফেব্রু ২০, ২০১৯

এক মাস বন্ধ থাকার পর চালু সীমান্ত হাট

এক মাস বন্ধ থাকার পর চালু সীমান্ত হাট

Last Updated on

ফেনী সংবাদদাতা : ফেনীর ছাগলনাইয়া বর্ডার হাটে ভারত ও বাংলাদেশের যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়েছে। সভায় আজ মঙ্গলবার (১২ ফেব্রুয়ারি) থেকে হাটটি পুনরায় চালুর সিদ্ধান্ত হয়েছে। গতকাল সোমবার (১১ ফেব্রুয়ারি) বিকেলে এ যৌথ সভা অনুষ্ঠিত হয়। ছাগলনাইয়া উপজেলা প্রশাসন সূত্রে জানা যায়, ২০১৫ সালে ফেনীর ছাগলনাইয়া ও ভারতের ত্রিপুরায় চালু হয়েছিল সীমান্ত হাট। নানা শর্তের বেড়াজালে এ হাটে বেচাকেনা হতে থাকলেও দিন দিন ভারতের বিক্রেতাদের পোয়াবারো হওয়ায় বাংলাদেশি বিক্রেতারা মুখ থুবড়ে বসে থাকে। বাংলাদেশি ক্রেতাদের পছন্দসই ভারতীয় নানা পণ্য ক্রয় করতে ২০০ ডলারের সীমা পেরিয়ে গেলেও ভারতীয় ক্রেতারা আধা কেজি মাছ আর ২০ টাকার শুঁটকি মাছ ক্রয় পণ্যের মধ্যে সীমাবদ্ধ থাকতো। এ ছাড়া ভারতীয় কোনো ক্রেতা ৭ কেজির বেশি পণ্য নিয়ে ভারতে ঢুকতে চাইলে ভারতের কাস্টমস ক্রেতা থেকে সেসব পণ্য কেড়ে রেখে দেওয়ার অভিযোগ উঠে। ভারত তাদের ২ হাজার ৮০০ জন ক্রেতাকে হাটে আসার কার্ড দিলেও প্রতি বাজারে মাত্র ১ হাজার ২০০ জনকে ঢুকতে দিতো। আর বাংলাদেশের অগণিত ক্রেতা ঢুকে প্রতি বাজারে কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য কিনে আনছে। ভারতীয় ক্রেতা ঢুকতে না পারায় বাংলাদেশের পচনশীল পণ্যগুলো বিক্রি না হওয়ায় প্রতি মঙ্গলবারের বাজারে লাখ লাখ টাকার পণ্য নষ্ট করে ফেলে আসতে হয়। এছাড়া বাংলাদেশের কালোবাজারিরা প্রতি হাটে চট্টগ্রাম ও এর আশপাশের জেলাগুলোতে কোটি কোটি টাকার ভারতীয় পণ্য চোরাই পথে এনে বিক্রি করার অভিযোগ রয়েছে। রয়েছে স্বর্ণ চোরা চালান করার অভিযোগ। ভারতীয় মাদকবিক্রেতারা প্রতি হাটে মাদকের টাকা আদায় করে এক সপ্তাহ পর পরের হাটে ভারতে ঢুকার অভিযোগ রয়েছে। এ রকম একজন ভারতীয় মাদকবিক্রেতাকে ছাগলনাইয়া থানা পুলিশ আটক করে কারাগারে পাঠান বলে ওসি মুর্শেদ জানান। এতোসব অভিযোগের ভিত্তিতে চলতি বছরের জানুয়ারির মাঝামাঝি সময় থেকে বাংলাদেশের ব্যবসায়ীরা সীমান্ত হাটে তাদের ২৭টি দোকান বন্ধ করে দেয়। দীর্ঘ একমাস বন্ধ থাকার পর টনক নড়ে দু’দেশের বাজার পরিচালনা কমিটির। বাজারে স্থিত অবস্থা ফিরে আনতে গতকালের সভা অনুষ্ঠিত হয়। বাংলাদেশের ব্যবসায়ী সমিতির প্রতিনিধি আতাউর রহমান সভায় বলেন, সীমান্ত হাটে অসম বাণিজ্য চলছে। ভারতীয় অংশের ক্রেতাদের সীমাবদ্ধতা তুলে দিয়ে বাজার উন্মুক্ত করার আহ্বানসহ বিভিন্ন দাবি জানান তিনি। ভারতের এডি এম সন্তোষ হুঁশিয়ারি দিয়ে বলেন, তার দায়িত্ব পালনরত অবস্থায় এখন থেকে কোনও অনিয়ম বরদাস্ত করা হবে না। বাংলাদেশের ব্যবসায়ীদের ক্রেতা বাড়ানোর দাবিটি তিনি মানতে পারবেন না বলেও জানান। ভারতীয় ব্যবসায়ী প্রতিনিধি শংকর ভৌমিক বলেন, ভারতীয় কাস্টমস ভারতের ক্রেতাদের হয়রানি করে অল্প কয়দিনে ৫০ লাখ টাকার বাংলাদেশি পণ্য লুটপাট করে। যার প্রমাণ তার হাতে রয়েছে দাবি করে তিনি ভারতীয় এডি এমের কাছে সুষ্ঠু তদন্ত দাবি করেন। জবাবে ভারতীয় এডি এম বলেন, তার সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

Please follow and like us:
0