এক প্রকল্পে সড়ক খননেই ৩৩০ কোটি টাকার বাড়তি আবদার

কোটি টাকার বাড়তি আবদার

নিজস্ব প্রতিবেদক : এক প্রকল্পেই রাজধানীর সড়ক খনন বাবদ অতিরিক্ত ৩৩০ কোটি টাকা বাড়তি আবদার করেছে ঢাকা ওয়াসা। প্রকল্পের আওতায় বাড়তি প্রস্তাবনা ইতোমধেই পরিকল্পনা কমিশনে পাঠিয়েছে সংস্থাটি। এমন ঘটনা ঘটেছে ঢাকায় পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক উন্নয়ন প্রকল্পের আওতায়। ফলে প্রকল্পের সময় ও ব্যয় দুটোই বাড়ছে। মূল প্রকল্পের ব্যয় ছিল ৩ হাজার ১৮২ কোটি টাকা। এখন প্রকল্পের ব্যয় বেড়ে দাঁড়াচ্ছে ৩ হাজার ৭৮০ কোটি টাকা। ফলে প্রকল্পের ব্যয় ১৮ দশমিক ৭৮ শতাংশ বা ৫৯৭ কোটি টাকা বাড়ছে। এর মধ্যে সড়ক খনন বাবদই বাড়ছে ৩৩০ কোটি টাকা। ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনের রাস্তা খনন নীতিমালা-২০১৩ অনুসরণ করে ২০১৬ সালের এপ্রিল মাসে প্রকল্পটি অনুমোদন দেওয়া হয়।
প্রকল্পটি ২০১৬ সালের এপ্রিল ২০২১ সালের ডিসেম্বর মেয়াদে বাস্তবায়নের সময় নির্ধারণ ছিল। শুরু থেকে বর্তমানে প্রকল্পের বাস্তব অগ্রগতি ৪২ দশমিক ৩৭ শতাংশ। প্রকল্পের অনেক কাজ বাকি থাকায় মেয়াদ আরো ২ বছর বাড়ছে।
ঢাকা ওয়াসার প্রস্তাবটি আরো পর্যবেক্ষণ করে দেখবে পরিকল্পনা কমিশন। এর পরেই সিদ্ধান্ত নেওয়া হবে বলে জানায় পরিকল্পনা কমিশন। ভৌত অবকাঠামো বিভাগের প্রধান (অতিরিক্ত সচিব) কাজী জাহাঙ্গীর আলম সংবাদমাধ্যমকে বলেন, ঢাকা ওয়াসা একটি প্রকল্পে খনন কাজে ৩৩০ কোটি টাকা বাড়তি চেয়েছে। সংশ্লিষ্টদের নিয়ে আমরা সভা করবো। খনন কাজের দর বৃদ্ধি করেছে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন। কতটুকু দর বৃদ্ধি হয়েছে বিষয়টি পর্যবেক্ষণ করে দেখবো। কারণ সিটি কর্পোরেশনের একটি নিজস্ব রেট থাকে।
ঢাকা ওয়াসা সূত্র জানায়, প্রকৃতপক্ষে প্রকল্পে রাস্তা খনন বাবদ পৃথক কোনো ব্যয় ধরা হয়েছিল না। সিভিল প্যাকেজসমূহে প্রাইজ সিডিউলে অন্তর্ভুক্ত করে বিডিং ভকুমেন্টস প্রস্তুত করা হয়েছে এবং সেই অনুসারে ঠিকাদারের সঙ্গে চুক্তি হয়েছে। কিন্তু ২০১৮ সালে ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন তাদের রাস্তা খনন নীতিমালা সংশোধন করে রাস্তা খনন চার্জ বৃদ্ধি করে। এতে ঠিকাদার রাস্তা খনন বাবদ অতিরিক্ত চার্জসমূহ পরিশোধে অনীহা প্রকাশ করায় রাস্তা খনন অনুমতি পেতে দীর্ঘ সময় লেগে যায়। ইতোমধ্যে প্রকল্প কাজ বাস্তবায়নে বিলম্ব হওয়ায় প্রকল্পের মেয়াদ বৃদ্ধি প্রয়োজন দেখা দিয়েছে। ঢাকা উত্তরে ৪১ শতাংশ ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশনে প্রতি বর্গ মিটারে ১০৬ শতাংশ হারে বৃদ্ধি করেছে। এছাড়া সেই অনুপাতে অতিরিক্ত ১৫ শতাংশ ভ্যাট, ১৫ শতাংশ সার্ভিস চার্জ, ৫০ শতাংশ বর্ষাকালীন চার্জ এবং ১০০ শতাংশ নিরাপত্তা জামানত বৃদ্ধি পেয়েছে।
সংশোধিত রাস্তা খনন নীতিমালা অনুসারে প্রকল্পটির পাইপ লাইন স্থাপন কাজে রাস্তা খনন বাবদ অতিরিক্ত ৩৩০ কোটি টাকা প্রয়োজন যা সম্পূর্ণ জিওবি যত হতে বহন করার প্রস্তাব করেছে। প্রকল্পের আওতায় সিভিল পাকেজসমূহের অধীনে কিছু নতুন টিউবওয়েল স্থাপনের সংস্থান রয়েছে। কিন্তু টিউবওয়েলসমূহ কমিশনিং করতে সাব মার্সিবল পাম্প মোটর ফ্লোমিটার ইত্যাদি প্রয়োজন। এছাড়া পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক শক্তিশালীকরণ, পানির গুণগতমান পরীক্ষার জন্য মনিটরিং ইকুইপমেন্টস সংগ্রহ করা প্রয়োজন যা মূল ডিপিপিতে (উন্নয়ন প্রকল্প প্রস্তাবনা) আর্ভুক্ত ছিল না। এসব কাজ বাস্তবায়নে ৮০ কোটি ৭০ লাখ টাকা বাড়তি প্রয়োজন।
ঢাকা ওয়াসার লক্ষ্য হচ্ছে ২০২১ সালের মধ্যে শতভাগ স্বল্প আয়ের মানুষকে পানি সরবরাহের আওতায় নিয়ে আসা। সেই লক্ষ্য বাস্তুবায়নের লক্ষ্যে ঢাকা শহরের প্রায় শতকরা ৮০ ভাগ বস্তিবাসীরে পানি সরবরাহের আওতায় নিয়ে এসেছে। এসভিজি লক্ষ্যমাত্রা বাস্তবায়নের জন্য প্রায় ৭ হাজার ৫০০ পানির সংযোগ স্থাপনের কাজ যোগ করা হয়েছে। করোনা মহামারির সময়ে আন্তর্জাতিক পরামর্শকদের সেবা পাওয়া যায়নি এবং লকডাউনের কারণে কিছু লোকাল পরামর্শকদের ইনপুট নেওয়া সম্ভব হয়নি। এছাড়া ঢাকা উত্তর ও দক্ষিণ সিটি কর্পোরেশন দেরিতে রাস্তা খননের অনুমতি দিয়েছে। ঢাকার অঞ্চল সম্প্রসারণ এবং মূল্যবৃদ্ধির কারণে পাঁচটি প্যাকেজের চুক্তি মূল্য বৃদ্ধির সম্ভাবনা রয়েছে, যা সংশোধিত ডিপিপিতে অন্তর্ভুক্ত করা হয়েছে। নানা কারণে প্রকল্পটি নেওয়া হয়। উচ্চ ঘনত্বের পলিথিন পাইপ ও ট্রেঞ্চলেস (রাস্তা না কেটে) প্রযুক্তি ব্যবহারের মাধ্যমে প্রকল্প এলাকার পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন শক্তিশালীকরণ অন্যতম উদ্দেশ্য। ডিস্ট্রিক মিটারিং এরিয়া (ডিএমএ) প্রতিষ্ঠাকরণ, ঢাকা মহানগরবাসীকে প্রেসারাইজড সিস্টেমে সার্বক্ষণিক নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ, নন-রিভিনিউ ওয়াটারের পরিমাণ ন্যূনতম পর্যায়ে হ্রাসকরণ, স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসীসহ সকল নগরবাসীর জন্য নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ অন্যতম উদ্দেশ্য।
নানা কারণে প্রকল্পটি হাতে নেওয়া হয়। ঢাকা মহানগরবাসীকে সার্বক্ষণিক নিরাপদ পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ এবং ঢাকা ওয়াসার সেবার মান ও সক্ষমতা বৃদ্ধি করাসহ ঢাকা ওয়াসার সাত টি জোন এলাকায় সকল পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন/ শক্তিশালীকরণ ও ডিষ্ট্রিক্ট মিটারিং এরিয়া (ডিএমএ) প্রতিষ্ঠা করা হবে। এতে স্বল্প আয়ের জনগোষ্ঠী, বস্তিবাসীসহ সকল নগরবাসীর জন্য সার্বক্ষণিক নিরাপদ সুপেয় পানি সরবরাহ নিশ্চিতকরণ করা হবে। প্রকল্প এলাকাসমূহে পানি সরবরাহ নেটওয়ার্ক পুনর্বাসন ও শক্তিশালীকরণের লক্ষ্যে প্রকল্পটি গত ২০১৬ সালে একনেক সভায় অনুমোদন দেওয়া হয়েছিল। বর্তমানে প্রকল্পটির সুষ্ঠুভাবে বাস্তবায়নের সুবিধার্থে প্রকল্পের বিভিন্ন অঙ্গের ব্যয় বৃদ্ধিসহ কয়েকটি নতুন অঙ্গ সংযোজন করা হয়েছে। প্রস্তাবিত সংশোধনীতে প্রকল্পের মেয়াদ ২ বছর বৃদ্ধিসহ ৫৯৭ কোটি টাকা বাড়তি প্রয়োজন বলে জানায় ঢাকা ওয়াসা।

 

Please follow and like us: