বৃহঃ. আগ ২২, ২০১৯

একটু সুস্থ পরিবেশ দাও, মানুষ হব

একটু সুস্থ পরিবেশ দাও, মানুষ হব

Last Updated on

রুসাফা শারমিনদ শানহা (১৬), ঢাকা : ইদানীং পত্রিকায় একটা খবর প্রায়ই চোখে পড়ে- তা হলো ‘গ্যাং কালচার’। একদিন খুব কৌতূহল নিয়ে পুরো খবর পড়লাম। পড়ে তো আমি অবাক।
রাজধানীর বিভিন্ন এলাকার শতাধিক কিশোর দলবদ্ধভাবে বিভিন্ন এলাকায় ত্রাস তৈরি করেছে। অবাক হতে হয় এই ভেবে যে, এই দলের সদস্যদের বয়স ১২ থেকেই শুরু। ১২ বছর বয়সী একদল শিশু আজ রঙ পেন্সিলে ছবি আঁকার বদলে ত্রাস সৃষ্টি করছে, ভাবতেই আমার অসহায় বোধ হয়। এর পেছনে আমরা বা আমাদের সমাজ কতটুকু দায়ী? একে একে কিশোর গ্যাং নিয়েহ হওয়া খবর খুঁজে খুঁজে পড়লাম।
২০১৭ সালে উত্তরায় স্কুলছাত্র কিশোর বাহিনীর অপকর্মের বিবরণ পত্রিকায় ছাপা হয়। যেখানে সহপাঠী হত্যাসহ নানা অপরাধমূলক তৎপরতা প্রকাশের পরপর সেই সময়ের আলোচ্য বিষয় ছিলো কিশোর গ্যাং। আদনান নামের এক কিশোরকে এই ত্রাসের সাথে জড়িয়ে পড়ে নিজের জীবন হারাতে হয়েছিল। বর্তমানে মোহাম্মদপুর এলাকায় এই গ্যাং এ রাজত্ব দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে। ফলে ছাত্ররা দ্রুত অপরাধ জগৎ এ পা দিচ্ছে।

গত বছর মোহাম্মদপুরের নূরজাহান রোডের এম-২৮ নম্বর বাসা থেকে আড়াই লাখ টাকার মালপত্র লুটে নেয় ‘লাড়া দে’ নামক এক কিশোর গ্যাং। আবার ঢাকার বাইরে তাকালে দেখি কিছু দিন আগে সামান্য ঘটনাকে কেন্দ্র করে ঠাকুরগাঁয়ের স্কুলছাত্রকে তার সহপাঠীরা কুপিয়ে হত্যা করছে। এরা ইন্টারনেটে বিদেশি গ্যাংপার্টিদের সম্পর্কে তথ্য সংগ্রহ করে তাদের অণুকরন করে। তারা একে অপরের সাথে যোগাযোগ করার জন্য সামাজিক যোগাযোগের মাধ্যমগুলো ব্যবহার করে৷ ফেইসবুক গ্রুপের মাধ্যমে তারা এসব কাজ বেশি করে থাকে। ইন্টারনেটকে তারা সঠিক কাজে ব্যবহার না করে এই সব অপরাধে ব্যবহার করে।
খবরে পড়লাম মোহাম্মদপুর, হাজারীবাগ এলাকার গ্যাংগুলো দেয়াল লিখনের মাধ্যমে নিজেদের পরিচয় জানান দিয়ে থাকে এবং অন্যান্য গ্যাংদের বিরুদ্ধে চ্যালেঞ্জ ছুড়ে সংঘর্ষে লিপ্ত হয়। অনেক সময় নিরীহ ছাত্রদের বাধ্য করে গ্যাং এর সদস্য হওয়ার জন্য যাতে নিজেদের দল ভারী হয়। এছাড়াও ছাত্রদের কাছ থেকে জোরপূর্বক অর্থ গ্রহণ, তাদের কাছে মাদক বিক্রয় এবং মাদক পাচারের অভিযোগও রয়েছে।
রাজধানীর অভিজাত এলাকায় কিশোর সন্ত্রাসবাদের এই উত্থান সামাজিক মূল্যবোধ, নীতিনৈতিকতার অবক্ষয়ের কারণেই হচ্ছে বলে আমার মনে হয়।
এক্ষেত্রে সন্ত্রাসী গ্রুপের সাথে জড়িত কিশোরদের পরিবারই মূলত দায়ী। সন্তানের প্রতি পরিবারগুলোর উদাসীনতা এবং প্রশ্রয় তাদের দুর্বিনীত করে তুলেছে। সন্তান স্কুলে ঠিকমতো যাচ্ছে কিনা, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে-এ বিষয়গুলো উপেক্ষা করে যাওয়ায় তারা অসৎ সঙ্গে বিপথগামী হয়ে পড়ছে।
কেন শিশুর সুস্থ সুন্দর মানসিক বিকাশের প্রয়োজনীয় তা মনে হয় এখনো অভিভাবকের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে পারেনি। একজন শিশু চুরি শেখে হয় বন্ধুদের কাছ থেকে কিংবা পারিবারিক প্রতিকূলতা ও সামাজিক অবহেলার শিকার হয়ে। কখনো কখনো ওদের ভেতর একটা ক্রোধ জন্ম নেয় অন্যকে ধ্বংস করার যার মূল চেতনা সৃষ্টি করি আমরাই। সুতরাং, এদেশের আগামী প্রজন্মকে সংশোধনের দায়িত্ব এই প্রজন্মের।
গ্যাং কালচারের মতো অপসংস্কৃতি থেকে মুক্তির জন্য সবশেষে নেপোলিয়নের বাণীই অণুকরন করতে হয়, “আমাদের একটি সুস্থ পরিবেশ দাও, তোমাকে একটি সুস্থ প্রজন্ম গড়ে দেব।” সৌজন্যে : বিডিনিউজের শিশু সাংবাদিকতা বিষয়ক বিভাগ ‘হ্যালো’ থেকে সংগৃহীত।

Please follow and like us:
2