এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নেবেন যেভাবে

এই সময়ে মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নেবেন যেভাবে

Last Updated on

স্বাস্থ্য ডেস্ক : করোনাভাইরাসের কারণে যে উদ্বেগে আমরা ভুগছি, তার প্রভাব পড়ছে আমাদের মনেও। এদিকে আমরা আমাদের শারীরিক অসুস্থতা নিয়ে যতটা যতœবান, মানসিক স্বাস্থ্যের প্রতি ততটা নয়। কিন্তু এই সময়ে শরীরের পাশাপাশি যতœ নিতে হবে মনেরও। গৃহবন্দি থাকতে থাকতে অনেকেরই ক্লস্ট্রোফোবিক লক্ষণ দেখা দেয়। চার দেওয়ালের বাইরে যাওয়ার জন্য মন উতলা হয়ে ওঠে, দম আটকে আসে, শারীরিক অসুস্থতা দেখা দেয়।
যারা অন্তর্মুখী স্বভাবের, বাড়িতে অনেক মানুষের সঙ্গে আটকে পড়লে তাদের প্রবল অস্বস্তি হয়, যা সামাজিক সৌজন্যের কারণে প্রকাশ করা যায় না। যারা ঠিক উল্টো স্বভাবের ও মিশুক, তারা বিপদে পড়েন যদি বাড়িতে সামান্য কয়েকজন সদস্য থাকেন। যথেষ্ট সামাজিক মেলামেশার সুযোগ না থাকায় তারা ক্রমশ বিরক্ত হতে থাকেন। ফলে বদমেজাজ, খিটখিটে স্বভাব, অল্পেই রেগে যাওয়া ইত্যাদি ঘটতে থাকে। অল্পবয়সীদের ক্ষেত্রে এই সমস্যা আরও বেশি। এই সময়ে নিজের ও পরিবারের অন্যান্য সদস্যের মানসিক স্বাস্থ্যের যতœ নিন এভাবে-
বাড়িতে যতক্ষণ থাকবেন, খোলা জানলা বা বারান্দার পাশে থাকুন। আকাশ দেখুন। সামান্য শরীরচর্চা করুন ছাদে বা বারান্দায়। বাড়িতে থাকা প্রতিটি সদস্যের কমফর্ট জোন বোঝার চেষ্টা করুন। যে আত্মমগ্ন, তাকে অকারণ হইচইয়ের মধ্যে ফেলবেন না। যে বাইরে যেতে না পেরে মুষড়ে পড়ছে, তার সঙ্গে সময় কাটান। বাড়ির কিশোর সদস্যটি ফোনে বা ভিডিও কলে বন্ধুর সঙ্গে কথা বলছে দেখলে বকাবকি করবেন না। এটা এখন তার প্রয়োজন, বিলাসিতা নয়। প্রয়োজনে বাড়ির সবাই বসে স্থির করে নিন, কে কী ভাবে সময় কাটাতে চায়। কথা বলুন নিজের অসুবিধা নিয়ে।
যে মানুষটিকে অফিসের কাজ করতে হচ্ছে, তার ঘরের কাজের ভার নিন। তাকে একটা শান্ত, নির্ঝঞ্ঝাট পরিবেশ দিন। যে কাজ আপনি বা অন্য কেউ করতে পারে, তার জন্য তাকে বার বার ডাকবেন না। এমন একটা ঘর বা ডেস্ক তাকে দিন যেখানে বাকিদের যাওয়া বারণ করে দেওয়া হবে। ঘুম থেকে উঠে তাকে প্রস্তুত হওয়ার সময় দিন। অফিসের কাজের পর কিছুটা বিশ্রাম নিতে দিন। চা বানানো, রান্না, বাসন মাজা, ঘর সাফ, এগুলো ভাগ করে নিন। মনে রাখবেন, সে পরিশ্রম করছে যাতে বাকিরা ভালো থাকে। তার দক্ষতার প্রশংসা করুন। তার সমস্যা হলে গুরুত্ব দিয়ে সমাধান করুন।
বাড়িতে অপ্রীতিকর পরিবেশ থাকলে সচেতনভাবে নিজেকে ব্যস্ত রাখুন। কথা কাটাকাটি, তর্ক, ঝগড়ায় থাকবেন না। অপছন্দের মানুষটির মুখোমুখি হবেন না। নিজেকে কাজ দিন এবং মন ঘুরিয়ে নিন। এই পরিস্থিতি একদিন কেটে যাবে যদি সামান্য বোঝাপড়া করে নেন- এই ভাবনা নিয়ে খুশিমনে কাটানোর চেষ্টা করুন। পরিবারকে সময় দিন। একসঙ্গে সিনেমা দেখুন। কোনো ভালো ভিডিও বা আর্টিকল পেলে পড়ে শোনান। যে ছেলেটি বা মেয়েটি অনলাইনে পড়াশোনা করছে তার পাশে বসে আপনিও কয়েকটা ক্লাস করুন। ফোন ব্যবহার করতে হচ্ছেই যখন, আত্মীয়বন্ধুদের খবর নিন। ভার্চুয়াল পৃথিবীতে ঘুরতে ঘুরতে কিছু বাস্তব চরিত্রের সামনেও আসুন। তাতে মনের ভারসাম্য বজায় থাকে।
অনেক অনেক কথা বলুন। পরিবারের সঙ্গে, সহকর্মীর সঙ্গে, ছাত্রছাত্রীর সঙ্গে। নিজেকে মানসিকভাবে অন্তত বিচ্ছিন্ন ভাববেন না। আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে নিজের প্রেজেন্টেশন অভ্যাস করুন, অনলাইন লেকচারের মহড়া দিন। ফাঁকা সময়ে কাজের বিষয়ে ভিডিও বানান। গুরুত্বপূর্ণ পরিস্থিতি নিয়ে বাড়ির সবার সঙ্গে আলোচনা বা বিতর্কের আয়োজন করুন। যত বেশি কথা বলবেন, তত আপনার চর্চা বাড়বে।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20