ঋণপ্রবাহ বাড়লেও কমেছে আমানত

নিজস্ব প্রতিবেদক : ২০১৭ সালের ডিসেম্বর পর্যন্ত দেশের ব্যাংকগুলোর মোট আমানত বেড়েছে ১০ দশমিক ছয় শতাংশ আর ঋণ বেড়েছে ১৮ দশমিক এক শতাংশ। ২০১৬ সালে আমানত বেড়েছিল ১৩ দশমিক এক শতাংশ, ২০১৫ সালেও যা একই ছিল। আর ২০১৬ সালে ঋণ বেড়েছিল ১৫ দশমিক তিন শতাংশ, যা ২০১৫ সালে ছিল ১২ দশমিক ছয় শতাংশ। এ হিসাবে দেখা যায়, গত তিন বছরে ব্যাংকগুলোর আমানতের পরিমাণ কমলেও বেড়েছে ঋণপ্রবাহের হার। অর্থাৎ ঋণের প্রবৃদ্ধি যে হারে বাড়ছে সে হারে বাড়ছে না আমানত। ফলে তারল্য সংকটের আশঙ্কা বাড়ছে। এমন তথ্য উঠে এসেছে বাংলাদেশ ইনস্টিটিউট অব ব্যাংক ম্যানেজমেন্টের (বিআইবিএম) এক গবেষণা প্রতিবেদনে। গতকাল রাজধানীর মিরপুরে বিআইবিএমের মিলনায়তনে ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা-বিষয়ক এক কর্মশালায় ‘ট্রেজারি অপারেশন অব ব্যাংক ২০১৭’ শীর্ষক এ গবেষণা প্রতিবেদনটি প্রকাশ করা হয়। এতে প্রধান অতিথির বক্তব্যে বাংলাদেশ ব্যাংকের ডেপুটি গভর্নর আবু হেনা মোহাম্মদ রাজী হাসান বলেন, ব্যাংক খাতের জন্য ট্রেজারি ব্যবস্থাপনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ। আমরা আমাদের ট্রেজারি ব্যবস্থাপনাকে আরও আপডেট করছি। তিনি বলেন, বর্তমানে ডলারের দাম একটু বেশি। কেন্দ্রীয় ব্যাংক বিষয়টি গুরুত্বের সঙ্গে নজরে রাখছে যেন টাকার বিপরীতে ডলারের দাম আর না বাড়ে। বিআইবিএমের মহাপরিচালক ড. তৌফিক আহমদ চৌধুরীর সভাপতিত্বে ওই কর্মশালায় অন্যদের মধ্যে ছিলেন বিআইবিএমের মুজাফফর আহমেদ, চেয়ারের অধ্যাপক ড. বরকত-এ-খোদা, পূবালী ব্যাংকের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক হেলাল আহমদ চৌধুরী, বাংলাদেশ ব্যাংকের সাবেক নির্বাহী পরিচালক ও বিআইবিএমের সুপারনিউমারারি অধ্যাপক ইয়াছিন আলি, বাংলাদেশ কৃষি ব্যাংকের ব্যবস্থাপনা পরিচালক মো. আলী হোসেন প্রধানিয়া এবং প্রাইম ব্যাংক লিমিটেডের সাবেক ব্যবস্থাপনা পরিচালক আহমেদ কামাল খান। কর্মশালায় মূল গবেষণা প্রতিবেদনটি উপস্থাপন করেন বিআইবিএমের অধ্যাপক নেহাল আহমেদ। প্রতিবেদনটিতে আরও বলা হয়, ২০১৭ সালে ব্যাংকগুলোর খেলাপি ঋণ বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ। ঋণ দেওয়ার ক্ষেত্রে অসতর্কতা ও সঠিকভাবে তথ্য যাচাই-বাছাই না করে ঋণ দেওয়ায় খেলাপি ঋণের পরিমাণ বাড়ছে। ২০১৩ সালে খেলাপি ঋণ বৃদ্ধির হার ছিল আট দশমিক ৯৩ শতাংশ। চার বছরের মধ্যে তা বেড়ে দাঁড়িয়েছে ৯ দশমিক ৩১ শতাংশ।

Please follow and like us:
1