শুক্র. সেপ্টে ২০, ২০১৯

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দিন ছাত্র-শিক্ষক হাতাহাতি : স্বাধীন তদন্ত কমিটি চান শিক্ষার্থীরা

উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দিন ছাত্র-শিক্ষক হাতাহাতি : স্বাধীন তদন্ত কমিটি চান শিক্ষার্থীরা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের দিন ছাত্র-শিক্ষক হাতাহাতির ঘটনায় প্রশাসনের করা তদন্ত কমিটির নিরপেক্ষতা নিয়ে প্রশ্ন তুলেছেন আন্দোলনকারী শিক্ষার্থীরা। তাঁরা এ ঘটনা তদন্তে শিক্ষার্থী প্রতিনিধিসহ স্বাধীন কমিটি গঠনের দাবি জানান।
গতকাল সোমবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের মধুর ক্যানটিনে ‘ডাকসুর দাবিতে আন্দোলনরত শিক্ষার্থীবৃন্দ’ ব্যানারে এক সংবাদ সম্মেলনে শিক্ষার্থীরা এই দাবি জানান। এ সময় তাঁরা অবিলম্বে ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয় ছাত্র সংসদ (ডাকসু) নির্বাচন দেওয়া, শিক্ষার্থীদের ওপর ‘হামলায়’ নেতৃত্ব দানকারী সহকারী প্রক্টর অধ্যাপক রবিউল ইসলামের পদত্যাগ এবং সুষ্ঠু তদন্তের মাধ্যমে শিক্ষার্থীদের ওপর হামলাকারীদের বিচারের আওতায় আনার দাবি জানান।
এসব দাবিতে সংবাদ সম্মেলন থেকে আগামী বুধবার ঢাকা বিশ্ববিদ্যালয়ের অপরাজেয় বাংলার সামনে মানববন্ধনের ঘোষণা দেন। এ ছাড়া ১০ আগস্ট ক্রিয়াশীল সব ছাত্রসংগঠনের প্রতিনিধি, আন্দোলনকারী সাধারণ শিক্ষার্থীদের প্রতিনিধি ও উপাচার্যকে নিয়ে মধুর ক্যানটিনে একটি উন্মুক্ত আলোচনার উদ্যোগ নেওয়ার ঘোষণা দেন। গণমাধ্যমকর্মীদের উপস্থিতিতে সেখানে তাঁরা ডাকসু কার্যকর করার উপায় সম্পর্কে আলোচনা করার ঘোষণা দেন।
লিখিত বক্তব্যে গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের শিক্ষার্থী মাসুদ আল মাহ্দী বলেন, ১৯৭৩ সালের অধ্যাদেশে স্পষ্টভাবে সিনেটে শিক্ষার্থীদের পাঁচজন প্রতিনিধি থাকার বিষয়টি উল্লেখ থাকলেও দীর্ঘ ২৭ বছর উদ্দেশ্যপ্রণোদিতভাবে ডাকসু অকার্যকর করে রেখেছে বিশ্ববিদ্যালয় প্রশাসন। ফলে বিশ্ববিদ্যালয়ের কার্যক্রম পরিচালনায় শিক্ষার্থীদের অস্তিত্বকে অস্বীকার করা হচ্ছে। বিশ্ববিদ্যালয়ের বাজেটে শিক্ষার্থীদের চাহিদার প্রতিফলন ঘটার সুযোগ বন্ধ করে রাখা হয়েছে।
লিখিত বক্তব্যে বলা হয়, একসময়ের বিশ্ববিদ্যালয়ের সাংস্কৃতিক চর্চার কেন্দ্রস্থল ডাকসু আজ পরিণত হয়েছে নিছক এক জনপ্রিয় খাবারের ক্যানটিনে, ওদিকে হলের মিলনায়তনগুলো হয়েছে কর্মচারীদের আবাস্থল। ডাকসু নির্বাচন না দিয়ে শিক্ষার্থীদের রাজনৈতিক বিকাশ এবং ভবিষ্যতের সৎ রাজনৈতিক নেতৃত্ব গঠনের পথ রুদ্ধ করে রাখা হয়েছে।
শিক্ষার্থীরা অভিযোগ করেন, তাঁরা গত শনিবার উপাচার্য প্যানেল নির্বাচনের সময় পূর্বঘোষিত কর্মসূচি অনুযায়ী সিনেট ভবনের সামনে মানববন্ধন করতে যান। কিন্তু সেখানে মূল ফটকে তালা দিয়ে সহকারী প্রক্টর রবিউল ইসলাম, যৌন হয়রানির দায়ে অভিযুক্ত হয়ে অব্যাহতি পাওয়া শিক্ষক মাহমুদুর রহমান, টুরিজম অ্যান্ড হসপিটালিটি ম্যানেজমেন্ট বিভাগের সহকারী অধ্যাপক মিনা মাহাবুব হোসেনসহ ১৫-২০ জন শিক্ষক সেখানে মারমুখী অবস্থান নেন। সেখানে বহিরাগত দুজন শিক্ষকও ছিলেন।
ঘটনার তদন্তে বিশ্ববিদ্যালয়ের তিনজন সহকারী প্রক্টরকে দিয়ে তদন্ত কমিটি গঠন করার প্রতিক্রিয়ায় শিক্ষার্থীরা বলেন, ‘আপনারা দেখেছেন, বিশ্ববিদ্যালয়ের প্রশাসনিক কার্যক্রমের সঙ্গে জড়িত ব্যক্তিরাই আমাদের ওপর হামলা করেছে। ভারপ্রাপ্ত প্রক্টর অধ্যাপক আমজাদ আলী আগে থেকেই শিক্ষার্থীদের দোষী করে বক্তব্য দিয়ে আসছেন এবং তদন্ত হওয়ার আগেই শিক্ষার্থীদের দোষী সাব্যস্ত করে শাস্তি দেওয়া হবে বলে উল্লেখ করেছেন। তাই স্পষ্টতই বোঝা যাচ্ছে, এটি একটি প্রহসনের তদন্ত হবে। ফলে এই কমিটি থেকে নিরপেক্ষ তদন্ত প্রতিবেদন আশা করা বাতুলতা।’
পরে শিক্ষার্থীরা সাংবাদিকদের বিভিন্ন প্রশ্নের জবাব দেন। সংবাদ সম্মেলনে থিয়েটার অ্যান্ড পারফরম্যান্স স্টাডিজ বিভাগের নাসিব আবদুল্লাহ, বাংলা বিভাগের প্রগতি বর্মণ, গণযোগাযোগ ও সাংবাদিকতা বিভাগের আবু রায়হান, সিজান আহমেদ প্রমুখ উপস্থিত ছিলেন।

Please follow and like us:
2