উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায়

উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণের ঘরোয়া উপায়

স্বাস্থ্য ডেস্ক : উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশন সাধারণ সমস্যা হলেও কখনও কখনও তা প্রাণ সংশয়ের কারণ হয়ে দাঁড়াতে পারে। অনিয়মিত ডায়েট, অতিরিক্ত ওজন, মানসিক চাপ এবং শরীরচর্চার অভাব- এ সবই উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের অন্যতম কারণ। দেশের মোট প্রাপ্তবয়স্ক নাগরিকদের একটি উল্লেখযোগ্য অংশ উচ্চ রক্তচাপজনিত সমস্যায় ভুগছেন।
চিকিৎসকদের মতে, জীবনযাত্রায় এবং খাদ্যতালিকায় সামান্য কয়েকটি পরিবর্তন আনতে পারলে ওষুধ ছাড়াই উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনা সম্ভব। কিন্তু কীভাবে? আসুন এ বিষয়ে বিস্তারিত জেনে নেওয়া যাক-
# উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে আনতে প্রথমেই লবণ খাওয়া কমাতে হবে। কারণ, অতিরিক্ত লবণ রক্তে মিশে শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য নষ্ট করে। ফলে রক্তচাপ অস্বাভাবিক ভাবে বাড়তে থাকে। শুধু তাই নয়, শরীরে সোডিয়ামের ভারসাম্য বিঘিœত হলে বাড়তে পারে কিডনির সমস্যাও। তাই রান্নায় ছাড়া কাঁচা লবণ খাওয়া এড়িয়ে চলুন। সম্ভব হলে, রান্নাতেও কম লবণ দিন।
# কলাতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম যা রক্তচাপ কমাতে গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করে। দিনের যেকোনো সময়, সারাদিনে অন্তত একটা কলা খাবার চেষ্টা করুন।
# প্রাচীন ভারতীয় আয়ুর্বেদ মতে, হাইপারটেনশন নিয়ন্ত্রণে রাখতে মধু অত্যন্ত কার্যকরী একটি উপাদান। ১ কাপ উষ্ণ পানিতে ১ চামচ মধুর সঙ্গে ৮-১০ ফোঁটা অ্যাপেল সিডার ভিনিগার মিশিয়ে প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে খেতে পারলে রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসে।
# পুষ্টিবিদদের মতে, কমলালেবুর রসের সঙ্গে ডাবের পানি মিশিয়ে দিনে ২-৩ বার খেতে পারলে রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা দ্রুত নিয়ন্ত্রণে চলে আসবে।
# উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে অতিরিক্ত তেল আর মশলাদার খাবার যতটা সম্ভব এড়িয়ে চলুন। মশলাদার খাবারের বদলে পাতে বেশি করে সবুজ শাক-সবজি রাখতে পারেন। সিদ্ধ বা সামান্য তেলে রান্না করা সবজি শরীরে ক্যালোরির মাত্রা নিয়ন্ত্রণে রাখে। ফাইবার সমৃদ্ধ সবুজ সবজিতে রয়েছে প্রচুর পরিমাণে পটাসিয়াম, ম্যাগনেসিয়াম, ফোলেট যা উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
# ওজন কমাতে আর একই সঙ্গে শরীরের শক্তি বাড়াতে ওটসের কোনো বিকল্প নেই! পুষ্টিবিদদের অনেকে তাই সকালে ওটস খাওয়ার পরামর্শ দিয়ে থাকেন। ওটসে খুব কম মাত্রায় সোডিয়াম থাকে। তা ছাড়াও এতে রয়েছে উচ্চমাত্রায় ফাইবার যা রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে।
# তরমুজে রয়েছে ভিটামিন এ, লাইকোপিন, পটাসিয়াম এবং ফাইবার যা উচ্চ রক্তচাপ বা হাইপারটেনশনের মতো সমস্যা নিয়ন্ত্রণে রাখতে সাহায্য করে। অ্যামিনো অ্যাসিড এল-সিট্রুলিন সমৃদ্ধ তরমুজ শুধু রক্তচাপই নয়, শরীরের নানা সমস্যা দূর করতে সাহায্য করে।
এই কয়েকটি সাধারণ নিয়মে মেনে চললে উচ্চ রক্তচাপ নিয়ন্ত্রণে রাখা সম্ভব।

Please follow and like us: