ঈদ জামাতে হাজারো মানুষ, ব্যাধিমুক্তির প্রার্থনা

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : মহামারীর মধ্যে এসেছে এবারের ঈদুল আজহা; সংক্রমণ এড়াতে বিধিনিষেধ মেনে মসজিদে মসজিদে ঈদের নামাজে অংশ নিয়েছেন হাজারো মুসলমান।
বায়তুল মোকাররম জাতীয় মসজিদে এবারের ঈদের প্রথম জামাত হয় সকাল ৭টায়। মসজিদের সিনিয়র পেশ ইমাম হাফেজ মুফতি মাওলানা মিজানুর রহমান তাতে ইমামতি করেন। নামাজ শেষে মোনাজাতে করোনাভাইরাসে আক্রান্ত ও মৃতদের জন্য দোয়া করা হয়। দেশ ও জাতির কল্যাণ কামনা করা হয়।
মিজানুর রহমান মোনাজাতে বলেন, “আল্লাহ যারা ভাইরাসে আক্রান্ত হয়ে ইন্তেকাল করেছেন, তাদের আপনি শাহাদাতের মর্যাদা দান করে দিন। হে আল্লাহ, যারা অসুস্থ আছেন, দয়া করে তাদের শেফা দান করে দিন। এই বিমারি থেকে, রোগ ব্যাধি থেকে আমাদের সবাইকে হেফাজত করে দিন।”
প্রতি বছর ঈদুল আজহা আসে ত্যাগের আহ্বান নিয়ে, মুসলমানদের সবচেয়ে বড় এই ধর্মীয় উৎসব বাংলাদেশে পরিচিত কোরবানির ঈদ নামে। এবার ঈদ এসেছে এমন সময়ে যখন সারা বিশ্বের মানুষ করোনাভাইরাসের মহামারীতে বিপর্যস্ত। পাশাপাশি দেশের বিস্তীর্ণ এলাকায় চলছে বন্যা।
এই দুঃসময়ে ঈদুল আজহা যেন সব আঁধার সরিয়ে মানুষের মধ্যে অনাবিল আনন্দ নিয়ে আসে সেই প্রত্যাশা জানিয়েছেন প্রধানমন্ত্রী শেখ হাসিনা। সবাইকে স্বাস্থ্য বিধি মেনে ঈদ উদযাপনের আহ্বান জানিয়েছেন তিনি। করোনাভাইরাসের বিস্তার রোধে রোজার ঈদের মতো এবারও ঈদগাহ বা খোলা ময়দানে ঈদের জামাত করার অনুমতি দেওয়া হয়নি। ঈদের নামাজ মসজিদে মসজিদেই হচ্ছে। শারীরিক দূরত্ব রেখে কাতার করতে হয়েছে বলে ভেতরে জায়গা না পেয়ে মসজিদের বাইরের প্রাঙ্গণেও অনেককে নামাজে দাঁড়াতে দেখা গেছে। করোনাভাইরাস অতি সংক্রামক বলে বেশ কিছু বিধিনিষেধ মেনে নামাজ পড়তে হয়েছে সবাইকে।
সবাইকে বাসা থেকে ওজু করে মসজিদে যেতে হয়েছে মাস্ক পরে। কাতারে দাঁড়াতে হয়েছে দূরত্ব রেখে। নামাজ শেষে কোলাকুলি বা হাত মেলানো যায়নি। করোনাভাইরাস অতি সংক্রামক বলেই এ ব্যবস্থা।
আবহাওয়া ভালো থাকলে এমনিতে দেশে ঈদের প্রধান জামাতটি হয় ঢাকায় জাতীয় ঈদগাহ ময়দানে। রাষ্ট্রপতি, মন্ত্রিসভার সদস্য, সংসদ সদস্য, রাজনীতিবিদ, কূটনীতিকসহ সব শ্রেণি-পেশার মানুষ সেই জামাতে নামাজ পড়েন ঈদের সকালে। এবার তা হয়নি না।
বায়তুল মোকাররমে সকাল ৭টায় ঈদের প্রধান জামাতের পর ৭টা ৫০ মিনিটে, ৮টা ৪৫ মিনিটে, ৯টা ৩৫ মিনিটে, ১০টা ৩০ মিনিটে এবং ১১টা ১০ মিনিটে ধারাবাহিকভাবে আরও পাঁচটি জামাতের ব্যবস্থা করা হয়েছে। সিটি করপোরেশনের ব্যবস্থাপনায় এবার ঢাকার ওয়ার্ডে ওয়ার্ডেও ঈদ জামাতের আয়োজন নেই। মসজিদগুলো নিজেদের ব্যবস্থাপনায় ঈদ জামাতের আয়োজন করেছে। প্রতিবছর কিশোরগঞ্জের শোলাকিয়ায় দেশের সর্ববৃহৎ ঈদ জামাতের আয়োজন হয়। ধর্ম মন্ত্রণালয় খোলা মাঠে ঈদ জামাত আয়োজনে নিষেধাজ্ঞা দেওয়ায় শোলাকিয়া ময়দানেও এবার ঈদ জামাতের আয়োজন নেই। ঈদের আগের দিন করোনাভাইরাসে বাংলাদেশে কেড়ে নিয়েছে ২৮ জনের প্রাণ। এ পর্যন্ত দেশে মোট ৩ হাজার ১১১ জনের মৃত্যু হয়েছে, আক্রান্ত হয়েছে মোট ২ লাখ ৩৭ হাজার ৬৬১ জন।
খিলগাঁও থেকে বায়তুল মোকাররমে ঈদের নামাজ পড়তে এসেছিলেন শরীফুল ইসলাম। নামাজ শেষে তিনি বললেন, “আজকে যে অবস্থায় কোরবানির ঈদ এসেছে, এমন অবস্থা তো কেউ চাইনি। আল্লাহ সবাইকে হেফাজত করুন। দোয়া চেয়েছি, খুব শিগগিরই যেন করোনাভাইরাস থেকে মুক্ত হয়ে আমরা স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরে আসি “

চতুর্থ শ্রেণি পড়ুয়া আহনাফ ঈদের নামাজে এসেছিল বাবা সাঈদুল ইসলামের সঙ্গে। এবার দাদু বাড়ি যেতে না পারায় তার মন খারাপ।
“আল্লাহকে বলেছি, তিনি যেন আমাদের সবাইকে সুস্থ করে দেন। তাড়াতাড়ি যেন আবার স্কুল খুলে দেন। কতদিন স্কুলে যাই না, বন্ধুদের দেখি নাৃ।”
নয়াপল্টনের বাসিন্দা হাবিবুর রহমান বলেন, “ঈদে এবার কোনো আনন্দ নাই। নামাজ পড়লাম। এরপর সারা দিন বাসায় বসে থাকতে হবে। এমন ঈদ তো চাইনি। আল্লাহ ভরসা। তিনি হেফাজত করুন সবাইকে।”

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES