শনি. আগ ১৭, ২০১৯

ঈদের পরদিন নতুন ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে

ঈদের পরদিন নতুন ডেঙ্গু রোগী বেড়েছে

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : দেশের হাসপাতালগুলোতে ভর্তি হওয়া নতুন ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা ঈদের দিন কমলেও তার পরদিনই আবার বেড়েছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের হেলথ ইমারজেন্সি অপারেশন সেন্টার ও কন্ট্রোল রুমের দেওয়া তথ্য অনুযায়ী, গত মঙ্গলবার সকাল ৮টা থেকে গতকাল বুধবার সকাল ৮টা পর্যন্ত দেশের হাসপাতালগুলোতে ১৮৮০ জন ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন, যা আগের ২৪ ঘণ্টায় ছিল ১২০০। এর ভিত্তিতে স্বাস্থ্যমন্ত্রী জাহিদ মালেক বলেছিলেন, সাধারণ মানুষ ডেঙ্গু নিয়ে ‘সচেতন হয়ে ওঠায়’ নতুন রোগীর সংখ্যা দ্রুত কমছে। স্বাস্থ্য অধিদপ্তর বলছে, গত ২৪ ঘণ্টায় ঢাকার হাসপাতালগুলোতে ৭৫৫ জন এবং ঢাকার বাইরে বিভিন্ন জেলার হাসপাতালে ১১২৫ জন নতুন রোগী ডেঙ্গু নিয়ে ভর্তি হয়েছেন। আগের দিন এই সংখ্যা ছিল যথাক্রমে ৫৯৯ ও ৬০১ জন।সব মিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা দাঁড়িয়েছে ৪৬ হাজার ৩৫১ জন; যাদের মধ্যে ৭ হাজার ৮৬৯ জন এখনও দেশের বিভিন্ন হাসপাতালে চিকিৎসাধীন। সরকার চলতি বছর ডেঙ্গুতে আক্রান্ত হয়ে ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১২১ জনের তথ্য পেয়েছে । স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের সহকারী পরিচালক আয়শা আক্তার বলেন, ঈদের পরে ক্রিটিকাল ডেঙ্গু রোগীদের পাশাপাশি গায়ে অল্প জ¦র নিয়েও অনেকে হাসপাতালে ভর্তি হচ্ছেন। আমরা যতই বলছি, যত পরামর্শ দিচ্ছি, যে আপনারা বাসাতেই ডেঙ্গুর চিকিৎসা নেবেন, লক্ষণ দেখে তবেই হাসপাতালে আসবেন চিকিৎসা নিতেৃ লোকেরা শুনছে না। তারা আতঙ্কিত হয়েৃ কখন কি হয়ৃ এসব ভেবে হাসপাতালে ভর্তি হয়ে যাচ্ছেন। স্বাস্থ্য অধিদপ্তরের প্রতিবেদনে বলছে, গতকাল বুধবার সারা দেশে ১ হাজার ৫৫৮ জন ডেঙ্গু রোগী সুস্থ হয়ে হাসপাতাল থেকে ছাড়া পেয়েছেন। গত মঙ্গলবার এই সংখ্যা ছিল ১ হাজার ৬৫৯ জন, সোমবার ছিল ২ হাজার ৮৪১ জন। আয়শা আক্তার বলেন, সেপ্টেম্বর মাসও বৃষ্টির মৌসুম। আগামি সাত থেকে দশ দিন আমরা পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণে রাখব। ঈদের ছুটিতে অনেকে হাসপাতালে ভর্তি না হলেও পরে আবার তা বাড়তে পারে। তবে আপাতত আমরা বলছি, ডেঙ্গু রোগীর সংখ্যা কমছে। তিনি জানান, স্বাস্থ্য বাতায়নের হটলাইন ১৬২৬৩ নম্বরে ফোন করে ডেঙ্গু নিয়ে চিকিৎসকদের পরামর্শ জানতে পারবেন রোগীরা।
এদিকে, ঈদের ছুটির মধ্যেমশাবাহিত রোগ ডেঙ্গুতে আক্রান্ত আরও তিনজনের মৃত্যু হয়েছে। গত মঙ্গলবার ভোরে ঢাকার শহীদ সোহরাওয়ার্দী মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সামিয়া নামের ৫ বছর বয়সী এক শিশুর মৃত্যু হয়। সকালে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে মারা যান মোহাম্মদ রাসেল নামের ৩২ বছর বয়সী এক যুবক, যিনি ঢাকার রমনা পার্কের পরিচ্ছন্নতা কর্মী ছিলেন। আর বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে চিকিৎসাধীন অবস্থায় সকাল ১০টার দিকে মারা যান বাপেক্সের প্রকৌশলী মাহবুল্লাহ হক (৩৫)। সোহরাওয়ার্দী হাসপাতালের উপপরিচালক মামুন মোর্শেদ বলেন, দুদিন আগে আগারগাঁও তালতলা থেকে ডেঙ্গু নিয়ে হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিল সামিয়া। ও ছিল শক সিনড্রোমের রোগী। ভোর সাড়ে ৬টায় মেয়েটা মারা যায়। গোপালগঞ্জ জেলার কোটালীপাড়া উপজেলার নারিকেলবাড়ি গ্রামের মোহাম্মদ সেলিমের ছেলে রাসেল ঢাকায় অসুস্থ হয়ে বাড়ি গিয়েছিলেন। ডেঙ্গু ধরা পড়ায় কয়েক দিন আগে তাকে গোপালগঞ্জ হাসপাতালে ভর্তি হয়েছিলেন বলে জানান খুলনার সিভিল সার্জন এ এস এম আবদুর রাজ্জাক। গোপালগঞ্জে শারীরিক অবস্থার অবনতি হওয়ায় রোববার রাসেলকে খুলনা মেডিকেল কলেজ হাসপাতালে ভর্তি করা হয়। গত মঙ্গলবার সকালে সেখানেই তার মৃত্যু হয় বলে হাসপাতালের মেডিসিন বিভাগের সহকারী রেজিস্ট্রার পার্থ প্রতিম দেবনাথ জানান। বঙ্গবন্ধু শেখ মুজিব মেডিকেল বিশ্ববিদ্যালয় হাসপাতালে মারা যাওয়া মাহবুল্লাহ হকের বাড়ি রাজবাড়ীর পাংশায়। তিনি ছিলেন রাষ্ট্রায়ত্ত প্রতিষ্ঠান বাপেক্সের ম্যানেজার (খনন)। ঈদের দিন সোমবার বিকাল ৪টার দিকে আশঙ্কাজনক অবস্থায় তাকে বঙ্গবন্ধু মেডিকেলে নিয়ে আসা হয় বলে হাসপাতালের অতিরিক্ত পরিচালক ডা. নাজমুল করিম জানান। তিনি বলেন, ডেঙ্গু আক্রান্ত মাহবুল্লাহকে আইসিইউতে রাখা হয়েছিল। সকাল ১০টার দিকে তার মৃত্যু হয়। মোট ১৪০ জন ডেঙ্গু রোগী এখন এ হাসপাতালে ভর্তি আছেন এবং এ পর্যন্ত তিনজনের ডেঙ্গুতে মৃত্যু হয়েছে বলে জানান অতিরিক্ত পরিচালক। সব মিলিয়ে এ বছর ডেঙ্গু আক্রান্ত রোগীর সংখ্যা ৪৩ হাজার ছাড়িয়েছে; এর মধ্যে চলতি অগাস্ট মাসের প্রথম ১১ দিনেই হাসপাতালে ভর্তি হয়েছেন প্রায় ২৫ হাজার মানুষ। সরকার চলতি বছর ডেঙ্গুতে ৪০ জনের মৃত্যুর তথ্য নিশ্চিত করা হলেও ঢাকার বিভিন্ন হাসপাতাল ও জেলার চিকিৎসকদের কাছ থেকে অন্তত ১২১ জনের তথ্য পেয়েছে।

Please follow and like us:
2