মঙ্গল. আগ ২০, ২০১৯

ঈদের আগেই পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধের দাবি

ঈদের আগেই পাটকল শ্রমিকদের

Last Updated on

নিজস্ব প্রতিবেদক : ঈদের আগেই সব পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করার দাবি জানিয়েছেন শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের আহ্বায়ক মনজুরুল আহসান খান। গতকাল রোববার দুপুরে রাজধানীর মতিঝিলে বাংলাদেশ পাটকল করপোরেশনের (বিজেএমসি) সামনে শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের উদ্যোগে আয়োজিত মানববন্ধনে সভাপতির বক্তব্যে তিনি এ দাবির কথা জানান। মনজুরুল আহসান খান বলেন, পাটকল শ্রমিকরা বকেয়া মজুরির দাবিতে যে আন্দোলন করছে, তা অত্যন্ত যৌক্তিক ও ন্যায্য। পাটকল শ্রমিকদের পরিবার যেন ঈদ আনন্দ থেকে বঞ্চিত না হয়, তাই রোজার মধ্যেই তাদের বেতন-ভাতা পরিশোধ করতে হবে। এর জন্যে প্রয়োজন হলে আমরা বাংলাদেশের সব শ্রমিক-কর্মচারী নিয়ে ধর্মঘট করে পাটকল শ্রমিকদের বকেয়া বেতন আদায় করবো। সাম্প্রতিক বৈষম্যের ব্যাপারে তিনি বলেন, সাম্প্রতিক এক সমীক্ষায় দেখা গেছে, বৈষম্য চরম পর্যায়ে গেছে। বৈষম্যের বারুদের স্তুপের উপর আমরা দাঁড়িয়ে আছি। যে কোনো সময় বিস্ফোরণ ঘটে আমাদের সব অর্জন ধ্বংস হয়ে যেতে পারে। বৈষম্য দূর করাটা সরকারের প্রধান কর্তব্য। তিনি আরও বলেন, সরকারের অর্থমন্ত্রী ও অন্যান্য বিশেষজ্ঞরা এ বৈষম্য মোকাবিলার কথা বলেছেন। কিন্তু মোকাবিলা তো দূরের কথা, আরও বাড়ানোর ব্যবস্থা করা হয়েছে। এখানে শ্রমিকদের মজুরি প্রয়োজন মতো বৃদ্ধি করার ব্যবস্থা তো নেই, বরং খুব নিম্ন পর্যায়ে নির্ধারিত মজুরিও শ্রমিকরা ঠিকমতো পান না। মনজুরুল আহসান বলেন, শ্রমিকদের অনেক টাকা বকেয়া রাখা হয়। পাটকল ছাড়া গার্মেন্টস শ্রমিকরাও বকেয়া বেতনের দাবিতে রাস্তায় লড়াই করতে বাধ্য হচ্ছেন। এই যে অবস্থা, এই অবস্থা থেকে মুক্তি কিভাবে হবে। তিনি বলেন, পাটকল শ্রমিকদের দাবি এতই ন্যায্য যে সরকারও সেটি মেনে নিয়ে লিখিত একটি চুক্তির পক্ষে স্বাক্ষর করেছিলেন। আমাদের মন্ত্রীও (মুন্নুজান সুফিয়ান) তাতে স্বাক্ষর করেছেন। কিন্তু সেই চুক্তি আজও বাস্তবায়ন হয় নাই। এখনও এই সংকট চলছে। সরকারের কাছে সংকট সমাধানের দাবি জানিয়ে তিনি বলেন, এই পাটকল শ্রমিকদের বেতন-ভাতা অবিলম্বে পরিশোধ করা হোক। কোনো শ্রমিকের পাওনা বকেয়া রাখা যাবে না। তিনি আরও বলেন, ইসলাম ধর্মে আছে শ্রমিকের ঘাম শুকানোর আগেই তার মজুরি পরিশোধ করতে হবে। কিন্তু আজকে সেই শ্রমিককে ঘাম শুকানো তো দূরের কথা, মরে কঙ্কাল শুকিয়ে যাওয়ার পরেও তার পাওনা মজুরি দেওয়া হচ্ছে না। শ্রমিকদের পক্ষে বাংলাদেশের সর্বস্তরের মানুষকে সমর্থনের আহ্বান জানিয়ে তিনি বলেন, আমরা দেখেছি যে খুলনার সব মানুষ ঐক্যবদ্ধ হয়ে সেখানকার পাটকল শ্রমিকদের পক্ষে রাস্তায় নেমেছে। আসুন আমরা সবাই ঐক্যবদ্ধভাবে এই পাটকল শ্রমিকদের দাবির প্রতি সমর্থন জানাই। বিশেষ করে শ্রমিক আন্দোলনে যে সব সংগঠন আছে আমি তাদের প্রতি আহ্বান জানাই- দলমত নির্বিশেষে আপনারা পাটকল শ্রমিকদের এই সংকট মুহূর্তে পাশে এসে দাঁড়ান। মানববন্ধনে আরও বক্তব্য রাখেন- শ্রমজীবী ও শিল্প রক্ষা আন্দোলনের সদস্য সচিব হারুনুর রশীদ ভূইয়া, জলি তালুকদার, মোকাদ্দেস হোসেন ও আ. কাদের হাওলাদার প্রমুখ। মানববন্ধন শেষে ২০ রমজানের আগেই শ্রমিকদের বকেয়া মজুরি পরিশোধের দাবিতে বিজেএমসির চেয়ারম্যানকে একটি স্মারকলিপি দেওয়া হয়।

Please follow and like us:
2