ইরানে বিক্ষোভ, পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে খামেনি

ইরানে বিক্ষোভ, পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির পক্ষে খামেনি

Last Updated on

আন্তর্জাতিক ডেস্ক :  ইরানে পেট্রলের ৫০ শতাংশ মূল্যবৃদ্ধি ও রেশনের ঘোষণার বিরুদ্ধে বিক্ষোভ শুরু হয়েছে। গত শুক্রবার রাতে গোটা দেশে ছড়িয়ে পড়া এই বিক্ষোভে ইতোমধ্যে একজন নিহত ও অনেকে আহত হয়েছেন। তবে দেশটির সর্বোচ্চ নেতা বলেছেন, তিনি সরকারি সিদ্ধান্তের পক্ষে। বিদেশী শত্রুরা এই বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছে বলে দাবি তার।
দেশটির রাষ্ট্রায়ত্ত টিভির বরাতে সংবাদমাধ্যম আলজাজিরার প্রতিবেদন অনুযায়ী রোববার ইরানের সর্বোচ্চ নেতা সরকারি সিদ্ধান্তে তার সমর্থনের কথা জানিয়ে বলেছেন, দেশে ও দেশের বাইরে ইরানের যেসব শত্রু ও বিরোধী রয়েছে তারাই চক্রান্ত করে এই অন্তর্ঘাতমূলক বিক্ষোভে উসকানি দিচ্ছেন। তিনি বলেছেন, যারা বিক্ষোভের সময় সরকারি সম্পত্তিতে অগ্নিসংযোগ করেছে তারা ইরানের বিরোধী পক্ষের লোক। তারা ইরানের বিরুদ্ধে নিজেদের স্বার্থ হাসিলের জন্য এমন উসকানি দিচ্ছে। তবে দেশে ও দেশের বাইরে এই বিরোধী শক্তিগুলো কারা তার বিস্তারিত কিছু জানাননি তিনি।
আয়াতুল্লাহ খামেনি বলেন, ‘সিদ্ধান্তের (পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির) বিরুদ্ধে কিছু মানুষ যে অসন্তুষ্ট হয়েছেন তাতে সন্দেহ নেই। কিন্তু অন্তর্ঘাতমূলক কার্যক্রম ও অগ্নিসংযোগ আমাদের সাধারণ জনতারা করেনি, করেছে ইরানবিরোধী গুন্ডারা। বিরোধীরা সবসময় এসব অন্তর্ঘাতে সমর্থন জুগিয়েছে এবং উসকানি দিয়েই যাবে তারা।’
শুক্রবার ইরানের এক সরকারি ঘোষণায় জানানো হয়, দেশটিতে এক লিটার পেট্রলের নিয়মিত মূল্য ১০ হাজার রিয়াল থেকে ১৫ হাজার রিয়াল হয়ে যাবে। এছাড়া মাসে প্রত্যেকটি ব্যক্তিগত গাড়ির জন্য বরাদ্দ থাকবে ৬০ লিটার জ্বালানি। এছাড়া নির্ধারিত পরিমাণের বাইরে পেট্রল কিনতে চাইলে প্রত্যেক লিটারের মূল্য পড়বে ৩০ হাজার রিয়াল। আয়তুল্লাহ খামেনি দাবি করেছেন, বিশেষজ্ঞদেরর পরামর্শের ওপর ভিত্তি করেই পেট্রলের দাম বাড়ানো হয়েছে। সবারে এমন সিদ্ধান্তকে সমর্থন করা উচিত। তিনি বলেন, ‘আমি কোনো বিশেষজ্ঞ নই তাই আমার ভিন্নমত থাকতেই পারে কিন্ত আমি বলবো যে যদি তিন শাখার প্রধান এমন সিদ্ধান্ত নেয় তাহলে আমি তাতে সমর্থন দেব।’
মার্কিন নিষেধাজ্ঞার কবলে পড়ে ইরানের অর্থনীতি জর্জরিত। তাই পেট্রলের মুল্যবৃদ্ধির সিদ্ধান্ত নিয়েছে দেশটির অর্থনৈতিক সমন্বয় বিষয়ক উচ্চ পর্যায়ের পরিষদ। পরিষদটি গঠিত হয়েছে দেশটির প্রেসিডেন্ট, বিচার বিভাগের প্রধান ও পার্লামেন্টের স্পিকারের সমন্বয়ে। পেট্রলের মূল্যবৃদ্ধির ঘোষণা দেয়া হয় গত শুক্রবার। তারপর সেদিন রাত থেকেই এর প্রতিবাদে বিক্ষোভ শুরু করে দেশটির মানুষ। বিভিন্ন শহর ও শহরতলীতে সড়ক অবরোধ করে যানবাহনসহ সরকারি ভবনে অগ্নিসংযোগের ঘটনা ঘটে। পুলিশের সঙ্গে সর্ঘর্ষে এখন পর্যন্ত একজন নিহত ও অনেকেরে আহত হওয়ার খবর পাওয়া গেছে।

Please follow and like us:
3
20
fb-share-icon20
Live Updates COVID-19 CASES