ইতালি প্রবাসীকে গুলি করে অর্থলুট: তিনজন গ্রেপ্তার

ইতালি প্রবাসীকে গুলি করে অর্থলুট: তিনজন গ্রেপ্তার

নিজস্ব প্রতিবেদক : তারা পেশাদার ডাকাত। নিজেদের ডাকাত দলকে তারা ডাকে ‘কোম্পানি’ নামে। নগদ টাকা ও ব্যাংককেন্দ্রিক ডাকাতির জন্য ‘কোম্পানি’র রয়েছে নিজস্ব সোর্স বা তথ্যদাতা। তাদের দেয়া তথ্যেই ডাকাতির দিনক্ষণ নির্ধারিত হতো। ডাকাতি শেষে নিরাপদ পথে সশস্ত্র এই ডাকাতরা নিজস্ব গাড়ি ও মোটরসাইকেলে করে নির্বিঘেœ পালিয়ে যেত। শুধু তাই নয়, আধুনিক তথ্যপ্রযুক্তিকে ফাঁকি দিতে নিজেদের যোগাযোগের জন্য ব্যবহার করত নির্দিষ্ট মুঠোফোন ও নম্বর। ডাকাতি শেষে তাদের মুঠোফোন, সিমকার্ড এবং ডাকাতির সময় ব্যবহৃত জামা-কাপড় পুড়িয়ে ফেলা হতো। সম্প্রতি ঢাকার সাভারের আমিনবাজারে এক ইতালি প্রবাসীকে এলোপাথাড়ি গুলি করে অর্থলুটের ঘটনায় এই দলের তিন সদস্যকে আটক করেছে র‌্যাপিড অ্যাকশান ব্যাটেলিয়ন (র‌্যাব)। আটককৃতরা হলো- মোস্তাফিজুর রহমান (৩৮), নাসির (৩৮) ও আবদুল বারেক সিকদার (৪৫)। তাদের কাছ থেকে জব্দ করা হয়েছে একটি প্রাইভেট কার, দুটি বিদেশি পিস্তল, একটি রিভলবার, ১২ রাউন্ড গুলি, একটি ছুরি, দুইটি লোহার পাইপ ও নগদ ৫০ হাজার টাকা। গতকাল শনিবার দুপুরে রাজধানীর কারওয়ান বাজার র‌্যাব মিডিয়া সেন্টারে এক সংবাদ সম্মেলনে এসব তথ্য জানান র‌্যাব-৪ এর অধিনায়ক (সিও) অতিরিক্ত ডিআইজি মো. মোজাম্মেল হক। তিনি বলেন, গত ২৮ অক্টোবর সকালে ইতালি প্রবাসী মো. আমানুল্লাহ (৪০) সস্ত্রীক আমিনবাজারের একটি ব্যাংক থেকে টাকা তুলে বাড়ি ফেরার পথে ভাকুর্তা লোহার ব্রিজের কাছে ডাকাতদের কবলে পড়েন। ৩টি মোটরসাইকেল ও একটি প্রাইভেটকারে এসে ডাকাতরা এই দম্পতিকে ঘিরে ধরে। তাদের গাড়ি থামিয়ে এলোপাথাড়ি গুলি করে ৫ লাখ ৭০ হাজার টাকা ছিনিয়ে নিয়ে পালিয়ে যায় অভিযুক্তরা। ঘটনার পর সংঘবদ্ধ ডাকাত চক্রটিকে ধরতে মাঠে নামে র‌্যাব-৪। তদন্তের শুরু থেকেই ব্যাংকের সিসিটিভি ফুটেজ থেকে ক্যাপ পরা এক ব্যক্তিকে শনাক্ত করা হয়। এরই সূত্র ধরে গত শুক্রবার মাঝরাতে ডাকাত দলের ওই তিন সদস্যকে আটক করা হয়। তবে এ সময় তাদের সঙ্গে আরও ৬-৭ ডাকাত পালিয়ে যায়। র‌্যাব-৪ অধিনায়ক বলেন, এই ডাকাত দলের প্রত্যেক সদস্যের আলাদা ছদ্মনাম রয়েছে। দলটির অন্যতম সদস্য ব্যাংকে সেদিন ক্যাপ পরা অবস্থায় ছিল। আটক বারেক সিকদার ডাকাতদের অস্ত্র ও ছিনতাইয়ের টাকা বহন করার কাজে ব্যবহৃত গাড়ির চালক। তারা ডাকাতির সময় নির্দিষ্ট মুঠোফোন নম্বর ব্যবহার করতো। ডাকাতি শেষে দলটির সদস্যরা আগে থেকে ঠিক করে রাখা নির্জন জায়গায় দেখা করে সিম কার্ড ও ব্যবহৃত জামা-কাপড় পুড়িয়ে ফেলতো। এরপর কয়েকদিনের জন্য সবাই গা ঢাকা দিয়ে পরিস্থিতি পর্যবেক্ষণ করত। পরিস্থিতি বুঝে পরবর্তীতে মূলহোতার পরিকল্পনা অনুযায়ী নতুন কোনো জায়গায় ডাকাতি করতো তারা। প্রাথমিক জিজ্ঞাসাবাদে এই তিনজন জানায়, ব্যাংকের টাকা উত্তোলনকারীদের দিকে তীক্ষ্ম নজর রেখে বাইরে মোটরসাইকেলে ওঁৎ পেতে থাকা নাসিরসহ তার অন্যান্য সহযোগীদেরকে তথ্যটি জানায়। এই ডাকাতরা প্রথমে তথ্য সংগ্রহ করতো। ১০ সদস্যের এই দলটির মূলহোতার রয়েছে নিজস্ব সোর্স। যাদের মূল কাজ হচ্ছে কে কখন ব্যাংকে টাকা উত্তোলন করবে সে তথ্য সংগ্রহ দেয়া। সোর্স থেকে পাওয়া তথ্যের ভিত্তিতে ডাকাতির দিন, সময়, পরিকল্পনা করে প্রস্তুতি নেয়া হতো। ঘটনার ২-১ দিন আগে থেকে সরেজমিনে ঘটনাস্থল পরিদর্শন, পর্যবেক্ষণ ও রাস্তাঘাটের পরিস্থিতি সম্পর্কে জেনে ডাকাতির পর পালিয়ে যাাওয়ার নিরাপদ পথ ঠিক করত কয়েকজন সদস্য। এই ডাকাতদের প্রত্যেকের রয়েছে আলাদা দায়িত্ব। অস্ত্রসহ গাড়ি বহন, ব্যাংক থেকে টাকা তোলার খবর বাইরে থাকা সদস্যদের জানানো, মোটরসাইকেলে করে হানা দেয়া ইত্যাদি কাজ সুনির্দিষ্টভাবে ভাগ করে দেয়া ছিল। র‌্যাব জানিয়েছে, আটকদের বিরুদ্ধে অস্ত্র আইন ও ডাকাতির প্রস্তুতি ধারায় দুটি মামলা প্রক্রিয়াধীন। ডাকাত চক্রে জড়িত অন্যান্যের ধরতে অভিযান অব্যাহত রয়েছে।

Please follow and like us: